যে কারণে স্মার্ট মানুষেরাও হতে পারেন অসুখী

কখনো কি স্মার্ট মানুষদের অসুখী হওয়া দেখে অবাক হয়েছেন? কিন্তু এমনটা কেন হয় সেজন্য কখনো কি ভেবেছেন? সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের প্রফেসর রাজ রঘুনাথন এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, আমাদের জীবনের সন্তুষ্টি নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। আর এগুলোর কারণেই স্মার্ট মানুষ নিজেকে অসুখী ভাবতে পারেন। তিনি অনলাইনে একটি কোর্স চালু করেছেন, যেখানে শেখানো হয় সুখী হওয়ার উপায়গুলো। এছাড়া তার একটি বই রয়েছে এ বিষয়ে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

আধুনিক জীবনযাপনের কারণে এখন মানুষের হাতে ক্রমাগত নানা গ্যাজেট আসছে। আর এসব গ্যাজেট মানুষকে সুখী নয় বরং অসুখী করতে তুলছে। যদিও বিষয়টি ঠিক সেভাবে হওয়ার কথা নয়। কিন্তু কী কারণে এমনটা হচ্ছে?

স্মার্ট ও সুখী হওয়ার ধারণা কতখানি আলাদা? স্মার্ট ও সুখী হওয়ার জন্য আমাদের কয়েকটি সাধারণ ধারণা রয়েছে, যা বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের। অনেকেই কোনো একটি পরিস্থিতিকে কিংবা পর্যায়কে সুখী বলে মনে করেন। তবে আমাদের স্কুলে এ সুখের সংজ্ঞা, সুখী হওয়ার উপায় কিংবা জীবনের সম্পূর্ণতা বিষয়ে কিছু শেখানো হয় না। এ কারণে সবাই সুখী হতে চায়। যদিও বাস্তবে ঠিক কোন বিষয়টিকে যে সুখী হওয়া বলে, তা সম্পর্কে কারোই ধারণা নেই। এ কারণে স্মার্ট বহু মানুষকেই সুখের পেছনে দৌড়াতে দেখা যায় এ বিষয়ে কোনো ধারণা ছাড়াই।

কখন প্রথম আপনার স্মার্টনেস বনাম সুখের উপলব্ধি হলো? এ প্রশ্ন করলে বহু মানুষই বলবেন, অর্থ, ক্ষমতা, খ্যাতি, সৌন্দর্য, স্ট্যাটাস ইত্যাদি অনেকের জন্যই সুখ আনতে পারে। যদিও এ বিষয়টি যে ভুল তা একসময় উপলব্ধি করা হয় সবারই। এক্ষেত্রে প্রফেসর রাজ রঘুনাথন বলেন, তিনি এ বিষয়টি উপলব্ধি করেছিলেন পিএইচডি করার পর। তিনি হঠাৎ করেই একটি প্রশ্ন  করলেন। তার জীবনের বহু বিষয় থাকলেও তা কী তাকে সম্পূর্ণ করেছে? তিনি দেখলেন তার বহু সহকর্মী ও পরিচিত মানুষের মনে এই একই প্রশ্ন রয়েছে। আর তাই সবার মনেই রয়েছে একটি অসম্পূর্ণতা।

কিন্তু কীভাবে এ অসম্পূর্ণতা দূর করা যায়? এ বিষয়ে প্রফেসর রাজ রঘুনাথন জানান, অসুখী হওয়ার কারণটি বের করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার নিজের অসুখী হওয়ার কারণ নির্ণয় করতে পারেন তাহলে সমস্যার সমাধান করতে পারবেন সহজেই। অন্য কেউ যদি এ সমস্যায় পড়েন তাহলে তার সমস্যার কারণ নির্ণয় করুন। সমস্যা নির্ণয় করার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে আপনার কাজ হবে সমস্যাটি স্বীকার করে নেওয়া। সমস্যাটি স্বীকার করে না নিলে তা কখনোই সমাধান হবে না। এক্সেত্রে আপনাকে যে বিষয়টি অসুখী করছে তার তথ্য সংগ্রহ করুন। এরপর তা দুই হাতে সমাধানের চেষ্টা করুন।

এক্ষেত্রে আপনার যদি নিজের অনুভূতির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা সম্ভব হয় তাহলে আপনি শিখে নিতে পারবেন যে, কিভাবে দুঃখ দূর করা যায়।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s