‘নকল চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত’

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রে ‘নকল সন্ত্রাস’-এর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। একের পর এক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য, পোস্টারসহ সব বিষয়েই নকলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে দেশীয় চলচ্চিত্র যেমন স্বকীয়তা, সুনাম হারাচ্ছে, তেমনই ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে দেশের চলচ্চিত্র জগৎ। এতে দেশের চলচ্চিত্রবোদ্ধারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, ‘একটা ইন্ডাস্ট্রির যদি মৌলিকত্বই না থাকে তাহলে সে ইন্ডাস্ট্রি বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না’।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ছবি মুক্তির পরেই নকলের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। সমালোচনার মুখে পড়েছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের সঙ্গে জড়িতরা। বর্তমান সময়ে নকলের বিষয়টি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এক-দেড় দশক আগে হিন্দি ছবি থেকে টুকলিফাই করা হতো, বর্তমানে তামিল, তেলেগু, মারাঠি, কোরিয়ানসহ বিভিন্ন ছবি থেকে হুবহু নকল করা হচ্ছে।

চলচ্চিত্র গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘নকলে নাজেহাল বাংলা সিনেমার চিত্রনাট্যের অবস্থা এতটাই খারাপ প্রায় ৯০ ভাগ ছবি নকলের অভিযোগে অভিযুক্ত। সেখানে বাদ যাচ্ছে না যৌথ প্রযোজনার ছবিগুলোও’।

বাংলাদেশের স্বনামধন্য গীতিকার, সুরকার ও নির্মাতা গাজী মাজহারুল আনোয়ার মনে করেন, ‘যে কোনো নকল বিষয়ই তো খারাপ, নকল বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আর সিনেমার চিত্রনাট্য নকল, সেটি তো আরও ভয়াবহ। আমাদের তো সেন্সরবোর্ড রয়েছে। তাদের তো এসব বিষয়ে ধরনের ধারণা থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ তা না হলে একটা সময় গিয়ে নকলের প্রবণতা এতটা বেড়ে যবে, তখন তা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হবে। চিত্রনাট্য যদি নকল হয়, তাহলে চলচ্চিত্রের মূল বিষয়টাই তো নষ্ট হয়ে গেল’।

তবে খ্যাতিমান এ চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক অনুকরণের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করিয়ে বললেন, ‘নকল একটা কথা, অনুকরণ আরেকটা বিষয়। একটি ছবির চিত্রনাট্যকে অনুকরণ করে নিজেদের মতো করে আরেকটি সিনেমা নির্মাণ করা যেতে পারে। আবার হুবহু একটি ছবিকে আমি এখানে কার্বন কপি করে বানিয়ে দিলাম, সেটি তো গ্রহণযোগ্য নয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে অনুকরণ হতে পারে, সেটি আমাদের জনগন কিংবা জাতিকে বিব্রত না করে, আমাদের সংস্কৃতি মূল্যবোধকে নষ্ট না করে। আর নকলকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।’

প্রায় সাত বছর পর নতুন সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। ছবির নাম ‘ফাগুনের আগুন’। এটি পরিচালনা করবেন নির্মাতা শফিক হাসান। সর্বশেষ ‘পাষাণের প্রেম’ নামে একটি ছবির চিত্রনাট্য লিখেছিলেন তিনি।

গাজী মাজহারুল আনোয়ার  মনে করেন বর্তমানে চলচ্চিত্রের সার্বিক যে অবস্থা তাতে সরকারের পক্ষ থেকে একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যে ভাল ছবির নির্মাতা নেই, বিষয়টা তো এমন নয়। মৌলিক গল্প লেখক, চিত্রনাট্যকার সবই আছে। স্বাধীনতা উত্তরকাল থেকে অনেক অনেক মূল্যবান ছবি আমরা নির্মাণ হয়ে আসছে। সেগুলো তো ব্যবসা সফল হয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই ছবি নির্মাণ করা উচিত বলে আমি মনে করি। সিনেমার নকল সন্ত্রাসের জন্য এককভাবে নির্মাতারা দায়ী হবে, বিষয়টি আমি তা মনে করি না। তবে চলচ্চিত্রে মৌলিকত্ব না থাকলে সে মাধ্যমটি বেশিদূর এগিয়ে যেতে পারবে বলে অমার মনে হয় না’।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s