টাকা পেলেই শপিং করার বদঅভ্যাস ছাড়ুন

মাসের বেতনের টাকা হাতে এলেই দৌড় দেন শপিংমলে? কিংবা অনলাইন শপিং সাইটগুলোতে ঘোরাফেরা শুরু করেন?  নিছক কালেকশন দেখতে দেখতেই শপিং করা শুরু হয়ে যায়। তাহলে সময় এসেছে এই অভ্যাসে রাশ টানার।

১. মাসের শুরুতেই খরচের হিসেব খাতায় লিখে ফেলুন। কোন খাতে কত টাকা দিতে হবে, ইএমআই-এ কত খরচ হবে, পুরো মাসের খরচ চালাতে বাজেট কত সব লিখে নিন। তাহলেই দেখতে পারবেন উদ্বৃত্ত কত টাকা হাতে থাকছে। এবার সেই টাকা অনুযায়ী শপিং করার প্ল্যানিং করুন। টাকা কম থাকলে দেখবেন কেনাকাটা করার ইচ্ছেটাই আর থাকছে না।

২. কেনাকাটা করতে আমরা সবাই ভালোবাসি। আবার অনলাইন শপিং-এর সুবিধা হয়ে তো অনেক সুবিধা হয়েছে। কিছু কেনার দরকার থাকলে টুক করে অর্ডার করে দিলেন। কয়েকদিনের মধ্যে আপনার দোরগোড়ায় এসে হাজির হল পছন্দের জিনিস। এর ফলে এমন অনেক কিছু কেনা হয়ে যায়, যা আসলেই আমাদের কোনও প্রয়োজনে লাগে না। যেহেতু হাতের কাছে পেয়ে যাচ্ছেন, অর্ডার প্লেস করতে বিশেষ সময় লাগছে না। ভাবারও সুযোগ থাকছে না। এখন তো আবার ইএমআই-এরও অপশন থাকছে। কিন্ত্ত টাকা অপচয় করার আগে ভালো করে ভেবে দেখুন। খেয়াল করে দেখুন, প্রতিদিন বিভিন্ন অনলাইন রিটেইল স্টোর থেকে বিভিন্ন প্রমোশনাল ই-মেল আপনার ইনবক্স-এ জমা হয়। যাঁরা শপিং করতে ভালোবাসেন, তাঁরা একবার না একবার ওই ই-মেল খুলে পড়বেনই। আপনার প্রথম কাজ হল সমস্ত অনলাইন স্টোরের প্রমোশনাল ই-আনসাবস্ক্রাইব করা।

৩. পরের ধাপটা একটু কঠিন। কিন্ত্ত করাটা খুব সহজ। আপনি যে সমস্ত অনলাইন স্টোর থেকে কেনাকাটা করতে ভালোবাসেন সেগুলোতে ইন্টারনেট অ্যাকসেস ব্লক করে দিন। শুধু তাই নয়, আপনার স্মার্ট ফোন থেকেও সব শপিং-এর অ্যাপ আনইন্সটল করে ফেলুন। আগেই বলেছি এটা করা খুব সহজ। কিন্ত্ত কতদিন এই অনলাইন শপিং সাইটগুলোর হাতছানি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেন, সেটাই আসল পরীক্ষা। প্রথম প্রথম কষ্টকর হবে। বিশেষ করে যাঁরা কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন, তাঁদের পক্ষে তো এটা বেশ শক্ত কাজ। তবে পুরোটাই অভ্যাসের ব্যাপার। প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হলেও, কিছুদিন পরে দেখবেন আপনি আর অযথা অনলাইন স্টোরগুলিতে মাউস ক্লিক করার কথা ভাবছেন না। আপনার যদি সত্যি কিছু কেনার প্রয়োজন থাকে, তাহলে অনলাইন স্টোর থেকে নয় এমনিই কোনও স্টোর থেকে জিনিস কিনুন। কেনার আগে অবশ্যই বেশ কয়েকবার ভাবুন ওই জিনিসটি আপনার প্রয়োজন আছে কিনা।

৪. এমন অনেকেই আছেন, যারা মুড ভালো রাখার জন্য কিছু না কিছু কেনাকাটা করেন। এটাকে রিটেল থেরাপি বলে। কিন্ত্ত আপনার মন ভালো রাখতে আপনাকে সবসময় রিটেইল থেরাপির সাহায্য নিতে হবে কেন? আরও অনেক ধরনের উপায় আছে। অন্য কোনও হবি বেছে নিন। এমন কিছু যা আপনাকে সমৃদ্ধ করবে। দেখবেন, তাতেও আপনি আরও ভালো থাকবেন। মন ভালো রাখার জন্য আপনাকে আর যখন তখন শপিং করার কথা ভাবতে হবে না।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s