নেতার ৫ গুণ, যাতে সহজে বিশ্বাস আনেন কর্মীরা

বহু প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর গবেষণা চালিয়েছে একটি রহস্য ভেদ করতে। তা হলো, কর্মক্ষেত্রে কিভাবে স্বাস্থ্যকর সংস্কৃতি গড়ে তোলা যায়।

অনেক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, স্বাস্থ্যকর সংস্কৃতি গড়ে তোলার চাবাকিঠি হলো বিশ্বাস। গ্লোবাল রিসার্চ কনসাল্টেন্সি ‘গ্রেট প্লেস টু ওয়ার্ক’ গবেষণা করেছে ফর্চুন এর সঙ্গে। বার্ষিক এই গবেষণায় সেরা কম্পানিগুলোকে খুঁজে বের করেছে কর্ম-সংস্কৃতির ভিত্তিতে। সেখানে বলা হয়, বিশ্বাস মানুষের আচরণের এমন এক দিক যা না থাকলে জোর করে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া যায় না।

তাদের গবেষণায় সেরা কম্পানিগুলোর তালিকার প্রথমেই রয়েছে গুগল। দেখা গেছে, কম্পানিগুলোতে স্বচ্ছতাই বিশ্বস্ততা সৃষ্টি করে। কম্পানির নেতাদের দরকার কর্মীদের কাছে বিশ্বস্ত হয়ে ওঠা। আর সে কাজটি করতে প্রত্যেক নেতার ৫টি বিশেষ গুণ থাকা দরকার। এগুলো জেনে নিন।

১. ক্ষমতা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত: ইতিহাসে অসংখ্য সফল নেতার দেখা মেলে। এরা প্রত্যেকেই তার ক্ষমতার আসন থেকে সরে যেতে প্রস্তুত থাকেন। তারা নিজের দলের সক্ষমতা ও দক্ষতা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী। সাধারণত বস আরো ওপরে উঠতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। তারা কোনো অবস্থাতেই ক্ষমতা ছাড়তে প্রস্তুত নন। কিন্তু সত্যিকার নেতারা নিজের ক্ষমতা নিয়ে চিন্তিত নন। যাদের ক্ষমতার লোভ নেই তাদের ওপর সহজে বিশ্বাস আনেন কর্মীরা। কর্ম-সংস্কৃতিতে বিশ্বাস স্থাপন করতে হলে তাই নেতাকে ক্ষমতা ছাড়ার মানসিকতা থাকতে হবে।

২. বিদ্বেষপূর্ণ অবস্থাতেও প্রাণোচ্ছল থাকা: থমাস এডিসন বলেছিলেন, বেশিরভাগ মানুষের ব্যর্থতার কারণ হলো, তারা সফলতার কতটা কাছাকাছি না বুঝেই আশা ছেড়ে দেন। কিন্তু কিছু নেতা সহজে হাল ছাড়েন না। প্রয়োজনে একটু থেমে যান। নিজেকে নিয়ে গবেষণা করেন। তার কোথায় কোথায় সমস্যা রয়েছে তা বের করেন। যেকোনো বিরূপ পরিস্থিতিতে তারা আবারো ফিরে আসার চেষ্টায় থাকেন। আর এ বিষয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করতে সক্ষম তারা। সামলে উঠে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে অনন্য তারা। আর এ ধরনের মানুষের ওপর কে না ভরসা করতে চান?

৩. কর্মীদের ওপর বিশ্বাস রাখেন: স্টিফেন এম আর কভে এবং ‘দ্য স্পিড অব ট্রাস্ট’ আলোচনায় আসতে পারে। লেখক বলেন, যে দলের ওপর নেতা বিশ্বাস স্থাপন করেন সে দল অনেক দ্রুত সামনে এগোতে পারে। কিন্তু এমন কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে হলে নিজের বিশ্বস্ততা অর্জন করতে হবে কর্মীদের কাছ থেকে। বিশ্বস্ততা অর্জনের বিষয়ে দুটো জিনিস খেয়াল করবেন।

ক. বিশ্বাস এমন এক বিষয় যা অবশ্যই অর্জন করতে হবে।
খ. বিশ্বাস এমন এ বিষয় যা উপহার হিসাবে প্রদান করতে হবে।

যদি ‘ক’ পয়েন্ট বিশ্বাসী থাকেন, তবে অধিকাংশের দলে থাকবেন। কারণ সবাই মনে করেন, মানুষের বিশ্বস্ততা অর্জন করতে হয়। এটা বেশ কঠিন। আর ‘খ’ পছন্দ করলে আপনি কিছুটা পিছিয়ে থাকবেন। দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর প্রতিষ্ঠানে নেতারা তার কর্মীদের কাছে আগে নিজে বিশ্বস্ততা অর্জন করতে চান। আর নিজের অর্জনের আগে তারা এটি উপহার হিসাবে কর্মীদের প্রদান করেন।

৪. বিনয়কে নেতৃত্বের শক্তি হিসাবে প্রকাশ করুন: অনেক মানুষই মনে করেন, কর্মীদের কাছে নেতাদের বিনয় দুর্বলতা ছাড়া কিছু নয়। কিন্তু এই অনন্য গুণটি নেতাদের মনে গভীন থেকে বেরিয়ে আসে তাদের গর্বিত নেতৃত্বের অংশ হয়ে। গর্ব, বিচারবুদ্ধি, নিয়ন্ত্রণ, আত্মবিশ্বাস এবং আবেগপ্রবণ অবস্থার সবচেয়ে মোহনীয় প্রকাশ হতে পারে বিনয় এবং নম্রতা। কাজে লাগাতে পারলে এটা দুর্বলতা তো কখনোই নয়, বরং দারুণ শক্তি হয়ে প্রকাশ করে।

৫. কর্মীদের ভেতরটা দেখার ইচ্ছা: আপনার নেতৃত্বের পথে অন্যতম কাজটি কি হতে পারে? কর্মীদের ভেতরটা বুঝে নেওয়া। আমি কেমন করছি? এ প্রশ্নের জবাব মিলবে যখন আপনি কর্মীদের মনের ভেতরটা বুঝতে পারবেন। তাদের বুঝতে পারলেই আপনি বিশ্বাস অর্জন করতে পারবেন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s