প্রসঙ্গ : সুলতান সুলেমান, জানতে হবে দর্শকরুচি!

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দীপ্ত টিভির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে এফটিপিও’র নেতা কর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি ওই চ্যানেলকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয়।

প্রথমে বিদেশি ডাবিংকৃত সিরিয়াল বন্ধের দাবি থাকলে সোমবার এফটিপিও’র নেতা কর্মীরা ‘সুলতান সুলেমান’ নামের দীপ্ত টিভির জনপ্রিয় বিদেশি সিরিয়ালে এসে ঠেকেন।   তারা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাংলায় ডাবিংকৃত তুর্কি সিরিয়াল ‘সুলতান সুলেমান’ বন্ধের দাবি জানায় তারা। তা না হলে ৪৮ ঘণ্টা পর কেবল অপারেটর দিয়ে দীপ্তর সম্প্রচার বন্ধের হুমকি দেন।

এদিকে দীপ্ত টিভির জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘সুলতান সুলেমান’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবিতে ভোলায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ‘সুলতান সুলেমান’ দর্শক ফোরাম।   পরে তাদের একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

নির্মাতা, কুশীলবরা সুলতান সুলেমান কিংবা বিদেশি ডাবিংকৃত সিরিয়ালের বিপক্ষে দাঁড়ালেও এদেশের টেলিভিশন দর্শকদের একটা অংশ আবার এসবই দেখতে চাচ্ছেন।   এদিকে পক্ষে বিপক্ষে প্রচুর মন্তব্য থাকলেও আসলে কোনো সুরাহা হচ্ছে না।   নির্মাতা, কুশীলবদের দাবির পক্ষেও প্রচুর যুক্তি রয়েছে। তারা দেশীয় নির্মাণ খাতে বাজেটের ঘাটতির প্রসঙ্গ টেনে আনছেন।   এবং এর যথার্থতাও পাওয়া গেছে।   অপরদিকে বিদেশি সিরিয়াল প্রচুর অর্থ খরচ করে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ নিয়ে আসছেন, অভিযোগ রয়েছে এমন।   তাহলে আসলে সুরাহাটা কীভাবে সম্ভব?

নির্মাতা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ একটি প্রস্তাবনা দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।   তার প্রস্তাবনা-  ‘আমাদের উচিত দর্শকদের মতামত নেওয়া আসলে তারা কি চায়? আমরা এবং দর্শক কেউ জানি না আমাদের কি বানানো উচিত বা কোনটা দর্শকের দেখা উচিত? বহুব্রীহি, এই সব দিন রাত্রি, সকাল সন্ধ্যা, কোন কাননের ফুল ” এই সমস্ত ধারাবাহিকের জনপ্রিয় ছিলো। কিন্তু ২০১৬ তে কি সেগুলো বানালে কেউ দেখবে সে গ্যারান্টি কেউ কি দিতে পারবে? এইসব ধারাবাহিক যখন চলতো তখন চ্যানেল ছিল মাত্র একটি বিটিভি। আর এখন কয়টি চ্যানেল আছে? সাথে আছে বিদেশী চ্যানেল, ইউটিউব ফেইসবুক লাইভ। সো কম্পিটিশনটা বেশী এখন অনকে। প্রযুক্তি থেকে শুরু করে মেকিং, কালার, মিউজিক, গল্প বলার ধরন সব পরিবর্তন হয়েছে। যাই হউক একটা প্রপার সার্ভে করা দরকার আসলে আমাদের কি বানানো উচিত? দর্শক কি দেখতে চাই?’

তার প্রস্তাবনার পক্ষে অনেক নির্মাতাও একমত হচ্ছেন।   গতকাল  মিডিয়া সংশ্লিষ্ট  ব্যাক্তিত্ব এসএম সাইফুল ইসলাম লিখেছেন, ‘মামুন ভাই দেশের নাটক-সিনেমার উন্নয়নের জন্য ন্যায্য আন্দোলন করবেন, তা আমিও চাই। কিন্তু অযৌক্তিকভাবে “সুলতান সুলেমান” এর মতো কোটি দর্শকের বিশেষ প্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক বন্ধের জন্য আন্দোলন করতে পারেন না। নিজেদের কিছু দাবি প্রতিষ্ঠার লক্ষে উদ্ভূত এ অন্যায্য আন্দোলন সাফল্য পাবেনা। এর চেয়ে ভালো হতো নিজেদের নাটক-সিনেমার সত্যিকারের সমৃদ্ধির জন্য কাজ করা। আশাবাদ, আপনাদের ভুল ভাঙবে। শুভকামনা। ‘

সাইফুলের হ্যাঁ না-র উত্তরে একজন লিখেছেন,  ‘আমি পক্ষে বিপক্ষে কোনটাই না, আসলে আমি দেখিনা সুলতান সুলেমান বা অন্য কোনটা। আবার দেশি কিছুও দেখার মতো নাই, সাথে এ্যাডের মস্তানি তো আছেই। তবে ডাবিং সিরিয়াল চললে সমস্যা কোথায় বুঝিনা, মানুষ ওটাই দেখছে শুধু? তার মানে এরা যেটা করছে সেটা দেখার যোগ্য না, ব্যাস। আরে ভাই জোর করে কি বিদেশি বিস্কুট ফেলে দিয়ে দেশী গরুর গোবর খাওয়ানো যায়?’

এদেশের বড় অংশের দর্শকশ্রেণি ছিল কলকাতামুখী। ‘সুলতান সুলেমান’ প্রচারিত হওয়ার পর বড় দর্শকশ্রেণি কলকাতামুখী সিরিয়াল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এখন এদেশের নির্মাণে বৈচিত্রতা আসলে বিদেশি ডাবিং সিরিয়াল থেকেও দর্শক মুখ ফিরিয়ে নেবে-এমনটাই মনে করছেন সোশ্যাল মিডিয়ার বড় একটা অংশ।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s