দর্শক যেভাবে চাইবেন সেভাবে কাজ করব

অভিনেতা, সঙ্গীতশিল্পী ও শিক্ষক- এমন পরিচয়েই পরিচিত এ প্রজন্মের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী তাহসান খান। টিভি খুললেই তার অভিনীত বিজ্ঞাপন, নাটক বা গানের মিউজিক ভিডিও যেন প্রমাণ করে দেয় ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে একজন সফল মানুষ তিনি। নিজের লেখা গান দিয়েই সঙ্গীত জগতে পথচলা এ শিল্পীর। সঙ্গীতশিল্পীর বাইরেও একজন অভিনেতা হিসেবেই বর্তমানে বেশি দেখা মিলছে তার। সারা বছর না হলেও ঈদ ও বিশেষ দিনগুলোতে তাহসানের উপস্থিতি যেন দর্শকদের বাড়তি আকর্ষণ। তবে অভিনয়ে তার দেখা মিললেও বর্তমানে গান আর শিক্ষকতা নিয়েই ব্যস্ত আছেন তিনি। অভিনয় জগতে পথচলা এবং সঙ্গীতের নানা বিষয়ে নিয়ে কথা বলেছেন এ সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেতা।

সঙ্গীতে যাত্রার শুরু কীভাবে?

ছোটবেলায় শিশু একাডেমিতে গান শেখার মাধ্যমে গানের সঙ্গে পরিচয়। তারপর ছায়ানটে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখি। কিন্তু একটি সমস্যার কারণে গান ছেড়ে দিতে হয়। তবে গানের প্রতি ভালোবাসা ছিল তখন থেকেই। তাই নিজেই গান তৈরি শুরু করি। গানের সুর করি। এসএসসি পরীক্ষার আগে ভাইয়া একটি কিবোর্ড কিনে দেন। পরবর্তীতে বন্ধুদের সঙ্গে ব্যান্ড করা হয়। প্রথম অ্যালবাম কথোপকথন প্রকাশ করি। তারপর থেকে সঙ্গীতের সঙ্গে আজও হাঁটছি।

অভিনয়ের শুরু কীভাবে..?

২০০৩ সালের দিকে ‘অফ বিট’ একটি নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব পাই। নাটকটি পরিচালনা করেছেন আফসানা মিমি। তার কাছ থেকে প্রথমবারের মতো অভিনয় করার প্রস্তাব পাই। গল্পের মান ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে হ্যাঁ বলে দিই। এ নাটকে অভিনয়ের জন্য দর্শকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেতে থাকি। এরপরই অভিনয়ের আগ্রহ বাড়ে। পরবর্তীতে ২০০৭-এ ‘মধুরেণ সমাপয়েৎ’ নামে আরও একটি নাটকে অভিনয় করি। সেটিও ভালোবাসা দিবসের বিশেষ নাটক হিসেবে প্রচারিত হয়েছিল। তারপর থেকেই নিয়মিত করছি। এরপরের কথা সবারই জানা।

অভিনেতা তাহসান হিসেবেই কি নিয়মিত হওয়ার পরিকল্পনা আছে?

আমি গানের মানুষ। ভালোলাগা থেকে অভিনয় করি। বিশেষ দিবসগুলোতেই কাজ করা হয়। ভবিষ্যতে এভাবেই কাজ করব। অভিনয় নিয়ে পরিকল্পনা করে কাজ করি না।

কোন প্ল্যাটফর্মে নিজেকে বেশি জনপ্রিয় মনে করেন? সঙ্গীত নাকি অভিনয়?

আসলে এ বিষয়টি আমি কখনও পরিমাপ করতে পারি না। এর জন্য বিশেষ কোনো মাপকাঠি নেই। যখন আমি স্টেজে উঠি তখন মনে হয় আমি সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেই অনেক জনপ্রিয়। আবার যখন অভিনয় করি তখন মনে হয় দর্শক আমাকে এখানেই দেখতে চান। তাই এ বিষয়ে আলাদা করে বলতে পারছি না।

একাধারে গায়ক, নায়ক, মডেল, সেই সঙ্গে শিক্ষকতার মতো গুরুদায়িত্ব পালন করছেন সমস্যা হচ্ছে না?

আমি সবকিছু রুটিনমাফিক করি। কোনো কাজ তাড়াহুড়া করে করি না। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিই। কারণ আমি মনে করি তাড়াহুড়া করে কাজ করলে সেটি সফল নাও হতে পারে। আর অনেক বছর ধরে যেহেতু কাজ করে যাচ্ছি, তাই ব্যাপারটা সয়ে গেছে। এখন খুব একটা সমস্যা হয় না।

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

অনেক কিছুই তো করছি। তবে আমার কনসার্টের ব্যস্ততা অনেক বেশি যাচ্ছে। সামনে আমেরিকায় একটি শো করার কথা রয়েছে আপাতত সেগুলো নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। পাশাপাশি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি।

শো’র ব্যাপারে সব কিছু চূড়ান্ত হয়েছে?

মোটামুটি সবকিছু চূড়ান্ত হয়েছে। সব ঠিক থাকলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আমেরিকা পাড়ি জমাচ্ছি। প্রায় এক সপ্তাহের ট্যুর হবে এটি।

কিছুদিন আগে নিজের লেখা একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন…

এতদিন অন্যদের লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছিলাম মূলত ভ্যারিয়েশনের জন্য। এখন মনে হচ্ছে গান লেখাটা আবার শুরু করা দরকার। সেই ভাবনা থেকেই গান লিখছি।

তাহলে কি সামনের প্রকাশিত অ্যালবামগুলো আপনার লেখা গানে প্রকাশ করবেন?

এমনটিই ইচ্ছা আছে। সামনে নতুন একটি অ্যালবামের কাজ করব। আশা করছি, সাতটি বা তার বেশি গান থাকতে পারে। সেগুলো নিজেই লিখব।

বর্তমান সঙ্গীতের অবস্থা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

বর্তমানে কেমন গান হচ্ছে বা সঙ্গীতাঙ্গনের অবস্থা কেমন সে বিষয়ে চিন্তা করার অবকাশ নেই। সারা পৃথিবী কি করছে তা দেখা আমার কাজ নয়। আমি ভালো গান করব, মানুষ যদি আমাকে ভালোবাসে বুঝব ভালো কিছু হচ্ছে। ভালো-খারাপ বিচার করা শ্রোতাদের কাজ আমি সমালোচক নই।

তাহলে কি বর্তমানে সঙ্গীতের সুসময় নেই সেটির সঙ্গে একমত নন আপনি?

এসব কথা চিরকাল শুনে এসেছি, এখনও শুনছি। এটা সত্তর দশক থেকে শুরু করে আজ অবধি চিরচেনা একটি কথা। যারা যে সময়ে গান করছেন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন তাদের কাছে সুসময় আছে। যারা পারছেন না তারাই হয়তো এসব কথা বলছেন।

সবাই এখন অনলাইনে গান প্রকাশ করছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

বিষয়টি নিয়ে খারাপ বা ভালো আলাদা করে বলার কিছু নেই। এক সময় মানুষ ক্যাসেট কিনে গান শুনতেন এখন অনলাইনে শুনেন। এটা যুগের পরিবর্তন। টেকনোলজির পরিবর্তনের সঙ্গে গান শোনার মাধ্যমও পরিবর্তন হয়েছে। দেখার বিষয় হচ্ছে শ্রোতাদের কাছে গান পৌঁছায় কিনা, আর শিল্পীরা তাদের সঠিক সম্মানী পাচ্ছেন কিনা।

চলচ্চিত্রে কাজ করার পরিকল্পনা আছে?

বড় পর্দায় কাজের ব্যাপারে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে অনেকের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়, তারা সিনেমার গল্প শুনান। যদি কখনও এমন কোনো গল্প পেয়ে যাই যা সবার মাঝে সে কাজটিকে বাঁচিয়ে রাখবে তখন হয়তো করব। তা ছাড়া দর্শক আমাকে যে মাধ্যমে দেখতে চাইবেন আমি সে মাধ্যমেই কাজ করব।

আপনাদের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে নেতিবাচক গুঞ্জন শোনা যায়। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

আমার কাছে মনে হয় তারকাদের নিয়ে এমন অনেক কথাই অনেকে বলে থাকেন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন করার কিছু নেই। আমাদের দায়িত্ব পেশাগত জায়গা আর ব্যক্তিগত জীবন দুটিকে আলাদা রাখা। তা ছাড়া আমাদের মধ্যে যদি এমন কিছু হয়ে থাকত সেটা লুকোচুরির কিছু নেই। আমি এ বিষয়ে জানিয়ে দিতাম। কোনো কিছু হওয়ার আগেই মন্তব্য করে পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে নিয়ে যাওয়াটা আসলে কারোরই কাম্য নয়। আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিলে অবশ্যই সবাইকে জানিয়ে দেব।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s