Category Archives: Bangla Drama

ওয়েব সিরিজের নামে কী চলছে?

ওয়েব সিরিজ। নামটা খুব অপরিচিত ঠেকছে, তাই না? কেউ কেউ হয়তো ভাবছেন, ‘এটা আবার কী জিনিস?’ সহজ ভাষায়, শুধু অনলাইন বা অনলাইন টিভির জন্য তৈরি ও প্রকাশিত ধারাবাহিকের (ধারাবাহিক ভিডিও) নাম ওয়েব সিরিজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে ওয়েব সিরিজ। মূলত টিভি মিডিয়ার বাইরে ইন্টারনেটে নাটক প্রচারের মাধ্যমকে ওয়েব সিরিজ বলে। এ মাধ্যমে নাটকের সেন্সর বলতে আপাতত কোনো কিছুই বাংলাদেশে নেই। এর ফলে যে যার মতো করে নাটক বানিয়ে ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার করছে। সাধারণত ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ট্যাব ও স্মার্টফোনই এ ধরনের সিরিজ দেখার মাধ্যম। মূলত নব্বই দশকে আমেরিকায় এর জন্ম। বিশ শতকের শেষ দিকে উত্থান। একুশ শতকে এর বিশ্বভ্রমণ, বিনোদনের প্রভাবশালী বিকল্প মাধ্যম হয়ে ওঠা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এর জয়যাত্রা শুরু অনেক আগে। তবে বাংলাদেশে ওয়েব সিরিজের মাত্র ঊষাকাল যাচ্ছে। আর ঊষাতেই বিতর্ক, সমালোচনা ও চায়ের টেবিলে ঝড়! তার আগে দেশীয় বিনোদনের এ নতুন মাধ্যমের সঙ্গে পরিচয় পর্বটা সারা যাক।
ওয়েব সিরিজের ইতিহাস
নব্বই দশকে আমেরিকান লেখক ট্রেসি রিড লিখিত ‘কোয়ান্টামলিঙ্ক সিরিয়াল’ (১৯৮৮-৯৯) দিয়ে ওয়েব সিরিজের আত্মপ্রকাশ। এরপর স্কট জাকারিনের সৃষ্টি ‘দ্যা স্পট’ (The Spot)। ১৯৯৫-৯৭ সালে প্রচারিত এই সিরিজের জন্য এর প্রকাশনা সংস্থা ‘ইন্টারনেটের অস্কার’খ্যাত ‘Webby awards’ পুরস্কার পায়। মূলত এ সিরিজ দিয়েই এ ধারার জয়যাত্রা। তারপর অ্যানিমেটেড Bullseye Art, 1998 সালে কমেডি Stella Shorts, 2003 সালে Weird TV 2000, তারপর একে একে Red Vs. Blue, Sam Has 7 Friends, Bravo ইত্যাদি সিরিজ এ ধারাটিকে প্রচণ্ড জনপ্রিয় করে তোলে। তন্মধ্যে Sam Has 7 Friends সিরিজটি ২০০৬ সালের ‘ডে টাইম অ্যামি অ্যাওয়ার্ডে’র জন্য মনোনীত হয়।
তবে ওয়েব সিরিজকে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় করার পেছনে নেটফ্লিক্সের বেশ ভালো অবদান। ২০১৩ সালে নেটফ্লিক্সের ৩টি সিরিজ (House of Cards, Arrested Development I Hemlock Grove) প্রাইমটাইম অ্যামি অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পায়। ২০১৬ সালে বিভিন্ন ওয়েব সিরিজ Streamys, Webbys, Indie Series Awards, Emmy Awards, Canadian Screen Awards সহ বিভিন্ন গুরুত্বপর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়। বর্তমানে ওয়েব সিরিজকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্বে ২১টি আন্তর্জাতিক উৎসব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান প্রচলিত আছে।
বাংলাদেশে ওয়েব সিরিজ
ঈদ উপলক্ষে বরাবরই অসংখ্য নাটক-টেলিফিল্ম-অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। এতকাল সেটি ছিল টিভিকেন্দ্রিক। গত রোজার ঈদে ওই ধারায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হল অনলাইন। টিভির পাশাপাশি ওই সময় ইউটিউব চ্যানেলে একাধিক ধারাবাহিক নাটক প্রকাশ পায়। তার মধ্যে সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে ৭ পর্বের ‘আমি ক্রিকেটার হতে চাই’ ও ‘অ্যাডমিশন টেস্ট’; ‘এল আমোর টিভি’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে ‘টেস্টিং সল্ট’, বাংলা ঢোলের উদ্যোগে ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বাংলাফ্লিক্সে প্রচার পায় বিশেষ নাটক ‘উপহার’। বাংলাদেশে ওয়েব সিরিজের আনুষ্ঠানিক প্রকাশটা মূলত তখন। এরপর ঈদুল ফিতরের ধারাবাহিকতায় ঈদুল আজহায়ও প্রকাশ পেল একাধিক নাটক। তন্মধ্যে সিএমভির ব্যানারে ৭ পর্বের ওয়েব সিরিজ ‘দ্য লিস্ট’, ধ্রুব এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে সাত পর্বের দুই সিরিজ ‘বাঘবন্দি’ ও ‘আবাসিক হোটেল’, কিংবা টয়া অভিনীত ‘পালাবি কোথায়’ উল্লেখযোগ্য।
কেন ওয়েব সিরিজ?
ট্রেন্ড বা ধারা বদলে বরাবরই তারুণ্যের রুচি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বিনোদনের ক্ষেত্রে তারা এখন প্রবলভাবে টিভিবিমুখ এবং ইউটিউবমুখী। টিভির নাটক, অনুষ্ঠানই এখন জনপ্রিয় হচ্ছে ইউটিউবে। সময়ের আবর্তনে ইউটিউবের ভিউয়ারই হয়ে গেছে জনপ্রিয়তার মাপকাঠি। আর গান তো এখন পুরোদস্তুর ইউটিউবনির্ভর। তো দর্শক আকর্ষণ বা জনপ্রিয়তার মাধ্যম যদি ইউটিউবই হয়, তবে কেন শুধু ইউটিউব বা অনলাইনের জন্য নাটক বা অনুষ্ঠান নয়? এ ভাবনা বা দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই মূলত বাংলাদেশে ওয়েব সিরিজের উদ্যোগ। তা ছাড়া বিষয়বস্তু নির্বাচন ও প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা, তরুণ জনপ্রিয় নির্মাতা, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সংযুক্তি; ওয়েব সিরিজের সম্ভাবনাকে বেশ ভালোভাবে জাগিয়ে তুলেছে।
ওয়েব সিরিজ নিয়ে বিতর্কটা যেখানে
আলোচনা বা প্রশংসা নয়, সমালোচনা ও বিতর্ক দিয়েই বাংলাদেশে ‘ওয়েব সিরিজ’-এর জনযাত্রা। ইতিবাচকতা নয়, নেতিবাচকতা দিয়েই ওয়েব সিরিজের দৃষ্টি আকর্ষণ। এমনকি কপালে জনপ্রিয়তার তকমা সাঁটার আগেই সেঁটে গেছে যৌনতা, অশ্লীলতার তকমা। গত ঈদুল আজহায় প্রচারিত ‘দ্য লিস্ট’, ‘বাঘবন্দি’ ‘পালাবি কোথায়’ প্রভৃতি ওয়েব সিরিজে অপ্রাসঙ্গিক ও অহেতুক যৌনতার সুড়সুড়ি, অশালীন সংলাপ ও অঙ্গভঙ্গি, মাদক গ্রহণের দৃশ্যবালীর কারণেই মূলত এই সমালোচনা। বিষয়বস্তু বা শিল্পগুণের বদলে ‘অকাক্সিক্ষত’ দৃশ্যের বন্দুকে সস্তা ও দ্রুত জনপ্রিয়তা বা বিপুল ভিউয়ার শিকারের চেষ্টা, নাটকগুলোতে খুব দৃষ্টিকটুভাবে পরিলক্ষিত হয়।
অশ্লীলতা বনাম আইন
অশ্লীলতা মাত্রই কেবল নিন্দনীয় নয়, একই সঙ্গে দণ্ডনীয়। ওয়েব সিরিজের কিছু ভিডিওতে যৌনতার যে দৃষ্টিকটু বাণিজ্যিক সমীকরণ বা অশ্লীলতার যে স্যাঁতসেঁতে ব্যাকরণ ধরা পড়ে, তা প্রচলিত একাধিক আইনে অপরাধ। যেমন-
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০১৩ সালে সংশোধিত) : ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রুনিক বিন্যাসে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু প্রকাশ করে যা অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে; তবে তিনি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন (ধারা-৫৭)।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১
টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতির মাধ্যমে কেউ অশ্লীল বার্তা প্রেরণ করলে তাকে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ৫ কোটি অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে (ধারা-৬৯)।
পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ : এখানে ‘পর্নোগ্রাফি’ মানে, যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোনো অশ্লীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য; যা চলচ্চিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থিরচিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোনো উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যার কোনো শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই। এ সংজ্ঞামতে, যৌন উত্তেজক অঙ্গভঙ্গিও ‘পর্নোগ্রাফি’র কাতারে পড়ে, যার সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড [ধারা-২, ৮(৩)]। প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৬-এও একই ধাঁচের বিধান থাকছে। যৌন উত্তেজক অঙ্গভঙ্গি বা ভিডিওচিত্রকে এই আইনে নাম দেয়া হয়েছে ‘ডিজিটাল পর্নোগ্রাফি’, যার সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়ই (ধারা-১৮)।
উল্লেখ্য, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্নোগ্রাফির অভিযোগে ‘নেশা’ নামক এক মিউজিক ভিডিওর সঙ্গে সম্পৃক্ত ৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে পর্নোগ্রাফি মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার নাজমুল আহসান। এ ধরনের মামলা বাংলাদেশে এই প্রথম। যাত্রায় ওয়েব সিরিজে যা শুরু হয়েছে, তাতে আগামীতে এ ধরনের মামলার পুনরাবৃত্তি হলে, অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
সংকটের কার্যকারণ ও সমাধান রেখা
টিভিতে প্রচারিত নাটকগুলো নির্মাতা সরাসরি দেখাতে পারে না। তজ্জন্য সংশ্লিষ্ট টিভি চ্যানেলের প্রিভিউ কমিটি বা চ্যানেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগে। ছবির ক্ষেত্রেও একইভাবে আছে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র। কিন্তু শুধু অনলাইনে গান বা ভিডিও প্রকাশে এ ধরনের অনুমোদন বা সেন্সরশিপের ব্যবস্থা নেই। নির্মাতারা এ ক্ষেত্রে বনের পাখির মতো নিরঙ্কুশ স্বাধীন। আর স্বাধীনতা যেখানে অবারিত, অপব্যবহার সেখানে অবধারিত। তাই ওয়েব সিরিজের অরাজকতা বা অশ্লীলতা ঠেকাতে চাইলে, এখানেও এক ধরনের সেন্সরশিপ সিস্টেম রাখা দরকার। তজ্জন্য সংস্কৃতি বা তথ্য মন্ত্রণালয়ে ‘অনলাইন কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ কমিটি’ নামে কমিটি চালু করা যেতে পারে। অনলাইনে কোনো ভিডিও ছাড়ার আগে এ কমিটিতে জমা দিতে হবে। কমিটি সংশ্লিষ্ট ভিডিওতে অশ্লীলতা, মানহানি, ধর্ম অবমাননা, রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কনটেন্টের বিষয়টা খতিয়ে দেখবে। তাদের অনাপত্তি পেলেই কেবল ভিডিওটি অনলাইনে ছাড়া যাবে। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বিটিআরসিতেও এ ধরনের একটা সেল থাকতে পারে। পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটও বিষয়টি নজরদারি করতে পারে।
অস্বীকারের জো নেই, ওয়েব সিরিজ বিনোদনের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটা মাধ্যম। তবে বাংলাদেশে এখনও এ ধারা হাঁটি হাঁটি পা পা দশা। যুগের চাহিদায় ও সময়ের স্রোতে এখানেও ধারাটি আগামীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সৃজনশীল শুদ্ধ সংস্কৃতিচর্চায় বিশ্বাসী। তাই চাই, ওয়েব সিরিজ এ দেশে সৃষ্টিশীলতার সর্বোচ্চ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাক। কিন্তু শিশুকালেই ধারাটি যে আতঙ্কের বীজ ছড়াল, অশুভ বার্তা দিল- তা কোনোভাবে প্রত্যাশিত ও সমর্থনীয় নয়। তাই ওয়েব সিরিজের চারাটি পরিশুদ্ধ হয়ে, কলঙ্ক বা আগাছামুক্ত হয়ে এ দেশে বেড়ে উঠুক। প্রতিষ্ঠা পাক, প্রকৃত ও মুক্তমনা শিল্পচর্চার সর্বোৎকৃষ্ট পাদপীঠ হিসেবে।
Advertisements

জনপ্রিয়তায় মিস্টার বিন-কে ছুঁয়ে ফেলল ভুতু

ভাবনার অভিনবত্ব, আরশিয়ার অতুলনীয় কাস্টিং এবং সর্বোপরি তার অসামান্য অভিনয় ভুতুকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল। প্রায় এক বছর সম্প্রচার হওয়ার পরে জি বাংলা-তে বন্ধ হয় ধারাবাহিক।

জি টিভি-তে নতুন করে শুরু হয় ভুতুর জয়যাত্রা। কিন্তু বাংলা ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পরেও ভুতুর জনপ্রিয়তা একই রকম থেকেছে। বাংলার জনমানসে যে ছাপ সে ফেলেছে তা কোনওদিনই মুছে যাওয়ার নয়। আর সেই জনপ্রিয়তার কারণেই সে আবারও ফিরছে টেলি-পর্দায়, তবে অ্যানিমেশন হিসেবে। এবার প্রতি রবিবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে দেখা যাবে অ্যানিমেশনে ভুতুর গল্প।

বাংলা টেলিভিশনে এটি অবশ্যই একটি নজিরবিহীন ঘটনা। টেলি-ধারাবাহিকের একটি চরিত্র এতটাই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছে যে তার অ্যানিমেটেড অবতার এল টেলিভিশনে। ঠিক একই ভাবে মিস্টার বিন টেলিসিরিজ-এর জগৎজোড়া জনপ্রিয়তার পরে তৈরি হয় মিস্টার বিন-এর অ্যানিমেশন। তাই সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে লেজেন্ড হয়ে ওঠা মিস্টার বিন-কে একপ্রকার ছুঁয়েই ফেলল বলা যায় বাংলার ভুতু।

অ্যানিমেশন প্রোগ্রামটি যদি সফল হয়, তবে সত্যিই ভুতুকে টেলিভিশন লেজেন্ড বলতেই হবে। অল দ্য বেস্ট ভুতু।

ভারতীয় শিল্পীরা আমাদের মূল্যায়ন করেন না

সঙ্গীতশিল্পী নাজমুন মুনীরা ন্যান্সী। অডিও গানের পাশাপাশি প্লে-ব্যাকেও চোখ পড়ার মতো উপস্থিতি ছিল তার। বর্তমানে প্লে-ব্যাকে নয়, অডিও গান ও স্টেজ শো নিয়েই ব্যস্ত আছেন তিনি। সমসাময়িক ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে আজ কথা বলেছেন তিনি।

* বর্তমান কাজের ব্যস্ততা কী নিয়ে?

** সারা বছরই কোনো না কোনো গানের রেকর্ডিং থাকে। বেশ কয়েকটি মিক্স অ্যালবামের কাজ করলাম। সামনের সপ্তাহে তিনটি গানের রেকর্ডিং আছে। পাশাপাশি স্টেজ শো আগের মতোই করছি।

* গেল ঈদে আপনার বেশ কয়েকটি গান প্রকাশ হওয়ার পরও তা আলোচনার বাইরে, কারণ কী?

** বৈশাখ এবং ঈদে আমার যে গানগুলো প্রকাশ হয়েছে তা নিয়ে আমি খুব আশাবাদী ছিলাম। আমার নির্দিষ্ট কিছু গানের সমালোচক আছেন তারাও বলেছেন, কাজগুলো বেশ ভালো হয়েছে। কিন্তু তারপরও কেন দর্শক-শ্রোতাদের কাছ থেকে সাড়া পাইনি তা বুঝতে পারছি না। তবে আমি এটাকে ব্যর্থ বলব না। কারণ আমি নিজে কাজগুলো করে সন্তুষ্ট ছিলাম।

* সম্প্রতি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর সঙ্গে গান করেছেন…

** কাজটি আমার কোনো প্রজেক্টে ছিল না। আমার কাজ ছিল গান গাওয়া। তাছাড়া আমি চেয়েছিলাম সবাই ছেলেটিকে প্রমোট করুক। কারণ ছেলেটি যথেষ্ট প্রতিভাবান। যদি আমরা নতুনদের সুযোগ না দিই আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন মুখ কীভাবে আসবে।

* চলচ্চিত্রের গানেও আপনার উপস্থিতি নেই বললেই চলে…

** অন্যদের অবস্থা জানি না, তবে চলচ্চিত্রে আমার গানের অবস্থা খুব খারাপ। আগে কোনো ছবি হলেই আমার জন্য একটি হলেও গান বরাদ্দ থাকত। কিন্তু এখন আর তা হচ্ছে না। বাইরের শিল্পী বা কম্পোজার দিয়ে কম টাকা দিয়ে ছবির গান করিয়ে নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া আমি যাদের সঙ্গে কাজ করতাম তারা আর সেভাবে কাজ করছেন না। তাই করছি না।

* যৌথ প্রযোজনায়, গান হচ্ছে বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

** যৌথ প্রযোজনার গান করতে সমস্যা নেই, কলকাতাসহ অন্যান্য দেশে নিজেকে পরিচিত করতে পারলে আমার ভালো লাগত। কিন্তু কলকাতার শিল্পীদের আমরা যতটা সম্মান দিয়ে আমাদের দেশে গান করাই তারা আমাদের ততটা মূল্যায়ন করেন না। এমনও দেখেছি, তাদের চ্যানেলে আমাদের শিল্পীদের সঙ্গে গান প্রচারের সময় তা কেটে তাদের শিল্পীদের গান চালাচ্ছেন। তাই যৌথ প্রযোজনার গানের বিষয়টি আমি ভালো চোখে দেখি না।

ডিভোর্সের কথা স্বীকার করলেন তাহসান-মিথিলা

দীর্ঘদিনের গুঞ্জন অবশেষে সত্যি হলো। আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্স হতে যাচ্ছে দেশের জনপ্রিয় তারকা জুটি তাহসান-মিথিলার। ২০ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে তাহসান তার ভ্যারিফায়েড পেজ থেকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্সের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, আমরা বেশ কয়েক মাস থেকেই আলাদা থাকছি। গত কয়েকমাস ধরেই বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছিলাম। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম কোন চাপে না থেকে আলাদা থাকার। আমরা জানি আমাদের এই সিদ্ধান্তে অনেকে ব্যথিত হবেন। সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

tahasan-1437292195

তিনি আরও লিখেন, আমরা সব সময়ই আমাদের সম্পর্কটা ভালোবাসা ও নীতিবোধের মধ্যে রেখেছিলাম। আশা করবো এই সিদ্ধান্তের পরও সেটা অব্যহত থাকবে। আমাদের এই কঠিন সময়ে আমাদের ভক্তরা আমাদের সাথে থাকবেন বলেই বিশ্বাস করি আমরা।’

গুঞ্জন বা গসিপ যাই বলি না কেন, ইস্যুটা কিন্তু নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, জনপ্রিয় তারকা জুটি তাহসান-মিথিলা তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। আর গতকাল রাত থেকে ফেসবুকে এই খবরটি আরো বেশি উত্তাপ ছড়ায় এই জুটির ভক্তদের মাঝে। অনেকেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া শুরু করেন ডিভোর্সের ঘটনা নিয়ে।

এদিকে কিছুদিন আগে নিজেদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন বিষয়ে মিথিলা বলেছিলেন, তাদের সম্পর্কের বিষয় নিয়ে মিডিয়ার মাথা না ঘামালেও চলবে।

তিনি বলেছিলেন,’কে কি বললো ওগুলো নিয়ে আমি একদমই ভাবি না। মানুষের কথা শোনার সময় আমার নেই। তারা তো কত কথাই বলবে! আমার লাইফ একটা রুটিনে চলে। আমি আমার কাজ আমি করে যাচ্ছি। আমি শুধু সবাইকে এটাই বলব, আমার যদি কিছু বলার থাকে আমরা সোচ্চার হয়ে সবলভাবে বলব। কেনো লুকোছাপার কিচ্ছু নেই। এ নিয়ে এতো মাথাব্যথার কোনো কারণ নেই। যাদের বিষয়ে কথা হচ্ছে, আমার মনে হয় মাথাব্যথাটা তাদেরই হওয়া উচিত। বাকি মানুষদের এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা না করলেও চলবে। তাদের (তাহসান-মিথিলা) যদি কিছু বলার থাকে, যখন সময় হবে তারাই সব বলবে। যখন সময় হবে কি সত্যি না মিথ্যা সেটা সবাই জানতে পারব। আমি এমন একটা মানুষ যে ফেইক একটা লাইফ লিড করতে পারি না। আর কোনো মিথ্যার আশ্রয়ে আমি এমনিতেও থাকব না।’

বলে রাখা ভালো ২০০৪ সালে তাহসান মিথিলার প্রেম শুরু হয়েছিল। ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট তারা বিয়ে করেন। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

Za ‘n Zee এর নতুন বিজ্ঞাপনে সাকিব আল হাসানের সাথে নিঝুম ফারুকী

কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের অন্যতম ব্র্যান্ড জা এন জি (Za ‘n Zee) শাহী মালাই আইসক্রিমের বিজ্ঞাপনে বিশ্ব সেরা ক্রিকেট অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সাথে এবার একই পর্দায় কাজ করলেন মডেল ও চিত্রনায়ক নিঝুম ফারুকী। সাকিব ফাহাদের নির্দেশনায় সম্প্রতি ঢাকার উত্তরায় বিজ্ঞাপনটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই স্যাটেলাইট চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপনটি প্রচারিত হবে।

20180413_1363850153733654_1891535087_o

শিল্পকলা পদক পাচ্ছেন ৭ গুণী

শিল্পকলা একাডেমি প্রবর্তিত ২০১৬ সালের শিল্পকলা পদক ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর শিল্পকলা পদক পাচ্ছেন দেশের ৭ গুণীজন।

মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

এ বছর যন্ত্রসঙ্গীতে পবিত্র মোহন দে, নৃত্যকলায় মো. গোলাম মোস্তফা খান, আলোকচিত্রে গোলাম মুস্তাফা, চারুকলায় কালিদাস কর্মকার, লোকসংস্কৃতিতে সিরাজউদ্দিন খান পাঠান, নাট্যকলায় অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ এবং কণ্ঠসঙ্গীতে মিতা হক পুরস্কার পাচ্ছেন।

নির্বাচিত গুণীজনদের প্রত্যেককে স্বর্ণপদক, এক লাখ টাকা ও সনদপত্র প্রদান করা হবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী জানান, ২০১৩ সাল থেকে শিল্পকলা পদক প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পদক প্রদানের জন্য দশটি বিষয় রয়েছে- কণ্ঠসঙ্গীত, যন্ত্রসঙ্গীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা, চারুকলা, আবৃত্তি, আলোকচিত্র, যাত্রাশিল্প, চলচ্চিত্র ও লোকসংস্কৃতি।

আগামী বছর থেকে এর সঙ্গে সাংস্কৃতিক গবেষণা ও সৃজনশীল সংগঠক বিষয় দুইটি যুক্ত হবে বলেও জানান তিনি।

লিয়াকত আলী লাকী আরও জানান, এ পদক প্রদানের জন্য শিল্পকলা পদক প্রদান নীতিমালা রয়েছে।

সে অনুযায়ী একাডেমির মহাপরিচালক, একাডেমির সচিব, একাডেমির ছয়জন পরিচালক, সাতজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে ১৬ সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে।

এই কমিটিই পদকপ্রাপ্তদের নির্বাচিত করেন বলে জানান একাডেমির মহাপরিচালক।

কপিল বাদ, আসছে সুনীলের নামে নতুন শো

জল্পনা, জল্পনা আর জল্পনা। কপিল বনাম সুনীল লড়াইয়ের পরিণতি কী হবে? দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রশ্নের এমন উত্তর কি কেউ আশা করতে পেরেছিলেন? শেষ যা খবর তাতে কপিল শর্মার শোয়ের পরিবর্তে এবার সুনীল গ্রোভারকে কেন্দ্র করে নতুন শো আনতে চলেছে সনি এন্টারটেনমেন্ট টেলিভিশন। এটাই সর্বশেষ খবর। এর আগে জানা গিয়েছিল, সুনীল নাকি এমন প্রস্তাব দিয়েছেন যে তিনি কপিলের শোয়ে কাজ করতে পারেন তবে তিনি কপিলের সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না। এমন কী এক ফ্রেমে কপিলের সঙ্গে থাকতেও রাজি নন সুনীল।

প্রাইম টাইমের ওই শো ইতিমধ্যেই টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট (টিআরপি) হারিয়েছে। ওই শোয়ের মধ্যমণি কপিল হলেও সুনীল গ্রোভার একাধিক চরিত্রে অভিনয় করে রীতিমতো জনপ্রিয়। তার অভাব অল্প দিনেই বুঝে গিয়েছেন চ্যানেল কর্তারা। সুনীল গ্রোভার চাইলেও চ্যানেল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়তে নারাজ। চ্যানেলের পক্ষে নাকি এমনও বলা হয়েছে যে ওই শো কপিলের নামে হলেও সেটা শুধু কপিলের নয়, চ্যানেল অনেক রুপি বিনিয়োগ করেছে।

চ্যানেলের এই যুক্তি শোনার পরে নাকি সুনীল গ্রোভার জানান, চুক্তি মতো তিনি চ্যানেলের অন্য অনুষ্ঠানে কাজ করতে রাজি। এর পরেই চ্যানেল নাকি সুনীল গ্রোভারকে এমন প্রস্তাবও দিয়েছে যে, কপিলের শো বন্ধ করে সেই জায়গায় সুনীল গ্রোভারের একটি শো নিয়ে আসা হবে। এই খবর যদি সত্যি হয় তবে এটা ভারতীয় টেলিভিশনে এক নতুন নজির তৈরি করবে। তৈরি হবে নতুন চ্যালেঞ্জ। সুনীল কি ছাপিয়ে যেতে পারবেন কপিল শর্মাকে?

অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থাকাটা জরুরি: দিলারা জামান

‘অনেকেই এ মাধ্যমে এসে দেখি অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা পেতে চায়। সেক্ষেত্রে তারা সাংবাদিকদের কাছ থেকেও এক ধরনের সহযোগিতা পায়। আসলে সত্যি করে বলতে কি অনেকের মধ্যেই অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসাটা কম দেখি। এটাও ঠিক তারা আসলে স্থায়ী না। তারা আসবে আবার চলেও যাবে। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থাকাটা জরুরি। চেহারার যে সৌন্দর্য সেটি মানুষের মনে বেশিদিন দাগ কাটতে পারে না। স্থায়ীও হয় না। যারা এখনো আমাদের কাছে স্মরণীয় তারা কিন্তু সৌন্দর্যের জন্য নয়, অভিনয়ের জন্যই তারা স্মরণীয়।’
তরুণদের অভিনয় প্রসঙ্গে এমনটাই বললেন গুণী অভিনেত্রী দিলারা জামান।

শুটিং ফাঁসানোর দায়ে বাদ পড়লেন সারিকা

মডেল অভিনেত্রী সারিকার বিরুদ্ধে শুটিং কিংবা শিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অনেকের শিডিউল ফাঁসিয়েছেন তিনি।

মাঝে বিয়ে করে সংসারী হয়ে মিডিয়ায় কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের তিন বছরের মাথায় ডিভোর্স হয়ে যায়। তাই আবারও মিডিয়ায় ব্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ফিরতি যাত্রায়ও তার পুরনো অভ্যাস পরিবর্তন হয়নি।

সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনের কাজ করতে গিয়ে শুটিং ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। গত ৫ এপ্রিল থেকে মানিকগঞ্জে রাঙাপরি মেহেদির নামে একটি প্রসাধনী পণ্যের বিজ্ঞাপনের শুটিং করার কথা ছিল তার। সেদিন সকাল ৬টা থেকে শুটিং শুরু করার কথা থাকলেও আগেরদিন অর্থাৎ ৪ এপ্রিল রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সারিকার মোবাইল বন্ধ ছিল। উপায়ন্তর না দেখে বিজ্ঞাপনটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মুসলিম কসমেটিকস অ্যান্ড হারবাল কেয়ার বিপাকে পড়ে নিজেদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সারিকাকে বাদ দিয়ে তাৎক্ষনিকভাবে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাকে কাস্ট করে। নির্দিষ্ট দিনে পূর্ণিমাকে নিয়েই শুটিং শুরু হয়।

এরপর সারিকা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ এনে স্ট্যাটাস দিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত জানতে চান।

এ বিষয়ে অনুসদ্ধান করে জানা গেছে, মূলত শুটিং ফাঁসানোর অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতেই সারিকা ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। কারণ ৪ এপ্রিল রাত ১টা ৪৩ মিনিটে তিনি মানিকগঞ্জে গিয়ে শুটিং স্পট খুঁজেছেন- এ মর্মে প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার মাসুম সরকারকে মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ দেন। ততক্ষণে প্রযোজনা সংস্থা তাদের সিদ্ধান্ত বদলে পূর্ণিমাকে কাস্ট করে ফেলেছেন। নিজের অপরাধের বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই সারিকা ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বলে মাসুম সরকার জানান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রোডাকশন থেকে কেউ যদি তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিত তাহলে তিনি রাত পৌনে দুইটায় স্পটে গেলেন কেন? তার তো আগে থেকেই কাজটি ছেড়ে দেয়ার কথা! একজন শিল্পীর কাছ থেকে এমন অপেশাদার আচরণ মোটেও কাম্য নয়।’

সারিকা যে নিজের অপরাধ ঢাকতে ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন সে সংক্রান্ত প্রমাণাদিও যুগান্তরের কাছে রয়েছে। বিজ্ঞাপনটিতে চিত্রনায়ক ইমনও অভিনয় করেছেন।

তিনিও সারিকার শুটিং ফাঁসানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘ক্লায়েন্ট শুটিংয়ের আগের দিন রাত দেড়টা পর্যন্ত সারিকাকে না পেয়ে তাদের সিদ্ধান্ত বদল করেছেন। অনৈতিক প্রস্তাবের কোনো কিছুই ইউনিটে ঘটেনি।’

সিডির বিকল্প এখনও কিছু ভাবতে পারি না: ন্যান্সি

ভেতর বলে দূরে থাকুক বাহির বলে আসুক না- এ গানই ন্যান্সিকে শ্রোতার হৃদয়ে আসন গেড়ে দিয়েছে। জন্মসূত্রে যশোরের মেয়ে হলেও বেড়ে উঠেছেন নেত্রকোনায়। পুরো নাম নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। মা জ্যোৎস্না হক ছিলেন শখের শিল্পী। মায়ের কাছে ন্যান্সির গানের হাতেখড়ি। অডিওর পাশাপাশি প্লেব্যাকেও পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। সমসাময়িক সঙ্গীতের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে এক আড্ডায় ভাগাভাগি করে নিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতা।

কখন থেকে গানের প্রতি আকৃষ্ট হলেন?

ছোটবেলা থেকে কখনই আমার গানের প্রতি ভালোলাগা কিংবা ঝোঁক কোনোটিই ছিল না। একরকম জোর করেই মা আমাকে দিয়ে রেওয়াজ করাতেন। বড় হওয়ার পর কখন যে গানের প্রতি প্রেম জন্মায় সেটি নিজেও বলতে পারব না।

আজকের ন্যান্সি হয়ে ওঠার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?

শিল্পী ন্যান্সি হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের। সব সময় সবকিছুতে ছায়ার মতো থাকেন। আর বাবা যা করেছেন তা ছিল নীরবে। সবসময় আড়ালে থাকতেন তিনি। কখনও আমার কোনো কিছুতেই বেশি আগ্রহ দেখাতেন না। মাঝে মাঝে খারাপ লাগত। কিন্তু বাবার প্রতি এমন ধারণা ভেঙে যায়, যখন দেখি আমাকে নিয়ে যত নিউজ হয়েছে, সব পেপার কাটিংগুলো তিনি সযত্নে রেখে দিয়েছেন।

পহেলা বৈশাখে নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন…

তিনটি গান নিয়ে শুনতে চাই তোমায় শিরোনামে একটি একক অ্যালবাম প্রকাশ করব। মূলত বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রকাশ করছি। এটি আমার পঞ্চম একক অ্যালবাম। অনলাইন এবং সিডি দুই মাধ্যমেই প্রকাশ পাবে নতুন অ্যালবামটি।

গানগুলো কার লেখা কিংবা সুর সঙ্গীত কারা করেছেন?

অ্যালবামে তিনটি গান থাকছে। গানগুলো লিখেছেন জাহিদ আকবর। সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন ইমন চৌধুরী।

বর্তমানে সবাই অনলাইনে গান প্রকাশ করছেন। কিন্তু আপনি অনলাইনের পাশাপাশি সিডি আকারেও প্রকাশ করছেন, কারণ কী?

আমি সবসময় সিডি আকারেই গান প্রকাশে আগ্রহী। সিডির বিকল্প এখনও কিছু ভাবতে পারি না। আমার কাছে গান শোনা মানে সিডি প্লেয়ারেই শুনতে হবে। তাই সিডির ব্যাপারে আমার আগ্রহ একটু বেশি।

তাহলে কি পরবর্তীতে যত অ্যালবাম প্রকাশ করবেন সেগুলো সিডি আকারেই পাবেন শ্রোতারা?

এটা শুধু আমার ওপর নির্ভর করে না। মার্কেটের অবস্থা বুঝে কাজ করতে হয়। কোম্পানি যেটা ভালো মনে করবে সেটাই করবে। সবচেয়ে বড় কথা, সবাই ব্যবসা করতে এসেছেন। এখন দেখতে হবে তারা আমার ওপর কতটা আস্থা রাখতে পারেন। পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে প্রেক্ষাপটের ওপর।

এ অ্যালবামের কোনো গানের মিউজিক ভিডিও করার পরিকল্পনা আছে?

আমি মিউজিক ভিডিও করার ব্যাপারে একদমই আগ্রহী নয়। তাই নতুন গান নিয়ে এখনও কোনো মিউজিক ভিডিওর পরিকল্পনা করিনি।

এখন তো অনেকেই ভিডিও নির্মাণে আগ্রহী। আপনি এর বিপক্ষে?

আমার কাছে মনে হয় একজন শিল্পীর কাজ কণ্ঠের। শিল্পীদের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া উচিত তাদের কণ্ঠে। ভিডিওতে মনোযোগ দেয়া কোনোভাবেই জরুরি নয়। গান গাইলে শ্রোতারা অডিও শুনবেন না, কিন্তু ভিডিও দেখলে শুনবেন, এটা আমি বিশ্বাস করি না। এখন যেহেতু তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে, শ্রোতারা গানের পাশাপাশি ভিডিও দেখতে চান সে কথা মাথায় রেখে মিউজিক ভিডিও তৈরি করা যায়। এটাকে খারাপ বলছি না।

একটি গান শ্রোতাপ্রিয় হওয়ার জন্য সেটার কথা কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন?

কথা-সুর-গায়কী কোনোটিই ফেলে দেয়ার মতো নয়। যদি একটি গানের কথা খুব সুন্দর হয়, কিন্তু আবেদন দিয়ে গাইতে পারলেন না শিল্পী, আবার দুটিই ঠিক হল কিন্তু সুর গানটাকে প্রাণ দিতে পারল না, তাহলেও গানটা ভালো হবে না। তাই আমার কাছে মনে হয় একটি আরেকটির পরিপূরক। কোনোটিকেই বাদ দেয়া যাবে না।

স্টেজ শো’র কী অবস্থা?

প্রতি সপ্তাহে একটি করে স্টেজ শো করি। তাতেই আমার কাছে বেশি মনে হয়। তাই সবকিছুই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখি।

সব শিল্পীই দেশের বাইরে শো করতে যান। কিন্তু আপনাকে সেভাবে দেখা যায় না, কারণ কী?

দেশের বাইরে শো করতে যেতে আগ্রহী নই আমি। ৫-৬ বার দেশের বাইরে শো করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। যেটি খুব বেশি সুখকর নয়। বাইরে আয়োজক যারা থাকেন, তারা দেশের আয়োজকদের মতো লেনদেনে ততটা স্বচ্ছ নন। আমি স্পষ্ট কথা বলি, এ জন্য অনেকেরই অপছন্দ।

সিনেমার গানেও নিয়মিত নন। কারণ কী?

সিনেমার গান কমিয়ে দেইনি। বর্তমানে ফিল্মে যারা লগ্নি করছেন, সবার ঝোঁক এখন কলকাতার দিকে। যখন তারা কলকাতামুখী হচ্ছেন, তারা চিন্তা করেন, কেন একজন দেশি শিল্পীকে ৪০-৫০ হাজার টাকা দিয়ে গান করাব। যেখানে কলকাতার একজন শিল্পী দিয়ে গান করানো যাচ্ছে একই পারিশ্রমিক দিয়ে। তা ছাড়া দেশে হাতেগোনা কয়েকজনকে দিয়ে তারা গান করান।

সঙ্গীত জীবনের বড় প্রাপ্তি কী?

সঙ্গীত ক্যারিয়ারে অনেক কিছু পেয়েছি। আবার অনেক কিছু হারিয়েছি। তবে খুব কম বয়সে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।

আগামীর পরিকল্পনা কী?

প্ল্যান করে কিছু করি না। আজ প্ল্যান করব কাল সেটা কার্যকর করতে না পারলে আপনারাই বলবেন, কই অনেক কিছুই পরিকল্পনা করেছেন, কিন্তু ফলাফল নেই। তাছাড়া আমার পরিকল্পনা করে কিছু হয়ও না।

দর্শক যেভাবে চাইবেন সেভাবে কাজ করব

অভিনেতা, সঙ্গীতশিল্পী ও শিক্ষক- এমন পরিচয়েই পরিচিত এ প্রজন্মের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী তাহসান খান। টিভি খুললেই তার অভিনীত বিজ্ঞাপন, নাটক বা গানের মিউজিক ভিডিও যেন প্রমাণ করে দেয় ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে একজন সফল মানুষ তিনি। নিজের লেখা গান দিয়েই সঙ্গীত জগতে পথচলা এ শিল্পীর। সঙ্গীতশিল্পীর বাইরেও একজন অভিনেতা হিসেবেই বর্তমানে বেশি দেখা মিলছে তার। সারা বছর না হলেও ঈদ ও বিশেষ দিনগুলোতে তাহসানের উপস্থিতি যেন দর্শকদের বাড়তি আকর্ষণ। তবে অভিনয়ে তার দেখা মিললেও বর্তমানে গান আর শিক্ষকতা নিয়েই ব্যস্ত আছেন তিনি। অভিনয় জগতে পথচলা এবং সঙ্গীতের নানা বিষয়ে নিয়ে কথা বলেছেন এ সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেতা।

সঙ্গীতে যাত্রার শুরু কীভাবে?

ছোটবেলায় শিশু একাডেমিতে গান শেখার মাধ্যমে গানের সঙ্গে পরিচয়। তারপর ছায়ানটে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখি। কিন্তু একটি সমস্যার কারণে গান ছেড়ে দিতে হয়। তবে গানের প্রতি ভালোবাসা ছিল তখন থেকেই। তাই নিজেই গান তৈরি শুরু করি। গানের সুর করি। এসএসসি পরীক্ষার আগে ভাইয়া একটি কিবোর্ড কিনে দেন। পরবর্তীতে বন্ধুদের সঙ্গে ব্যান্ড করা হয়। প্রথম অ্যালবাম কথোপকথন প্রকাশ করি। তারপর থেকে সঙ্গীতের সঙ্গে আজও হাঁটছি।

অভিনয়ের শুরু কীভাবে..?

২০০৩ সালের দিকে ‘অফ বিট’ একটি নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব পাই। নাটকটি পরিচালনা করেছেন আফসানা মিমি। তার কাছ থেকে প্রথমবারের মতো অভিনয় করার প্রস্তাব পাই। গল্পের মান ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে হ্যাঁ বলে দিই। এ নাটকে অভিনয়ের জন্য দর্শকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেতে থাকি। এরপরই অভিনয়ের আগ্রহ বাড়ে। পরবর্তীতে ২০০৭-এ ‘মধুরেণ সমাপয়েৎ’ নামে আরও একটি নাটকে অভিনয় করি। সেটিও ভালোবাসা দিবসের বিশেষ নাটক হিসেবে প্রচারিত হয়েছিল। তারপর থেকেই নিয়মিত করছি। এরপরের কথা সবারই জানা।

অভিনেতা তাহসান হিসেবেই কি নিয়মিত হওয়ার পরিকল্পনা আছে?

আমি গানের মানুষ। ভালোলাগা থেকে অভিনয় করি। বিশেষ দিবসগুলোতেই কাজ করা হয়। ভবিষ্যতে এভাবেই কাজ করব। অভিনয় নিয়ে পরিকল্পনা করে কাজ করি না।

কোন প্ল্যাটফর্মে নিজেকে বেশি জনপ্রিয় মনে করেন? সঙ্গীত নাকি অভিনয়?

আসলে এ বিষয়টি আমি কখনও পরিমাপ করতে পারি না। এর জন্য বিশেষ কোনো মাপকাঠি নেই। যখন আমি স্টেজে উঠি তখন মনে হয় আমি সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেই অনেক জনপ্রিয়। আবার যখন অভিনয় করি তখন মনে হয় দর্শক আমাকে এখানেই দেখতে চান। তাই এ বিষয়ে আলাদা করে বলতে পারছি না।

একাধারে গায়ক, নায়ক, মডেল, সেই সঙ্গে শিক্ষকতার মতো গুরুদায়িত্ব পালন করছেন সমস্যা হচ্ছে না?

আমি সবকিছু রুটিনমাফিক করি। কোনো কাজ তাড়াহুড়া করে করি না। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিই। কারণ আমি মনে করি তাড়াহুড়া করে কাজ করলে সেটি সফল নাও হতে পারে। আর অনেক বছর ধরে যেহেতু কাজ করে যাচ্ছি, তাই ব্যাপারটা সয়ে গেছে। এখন খুব একটা সমস্যা হয় না।

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

অনেক কিছুই তো করছি। তবে আমার কনসার্টের ব্যস্ততা অনেক বেশি যাচ্ছে। সামনে আমেরিকায় একটি শো করার কথা রয়েছে আপাতত সেগুলো নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। পাশাপাশি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি।

শো’র ব্যাপারে সব কিছু চূড়ান্ত হয়েছে?

মোটামুটি সবকিছু চূড়ান্ত হয়েছে। সব ঠিক থাকলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আমেরিকা পাড়ি জমাচ্ছি। প্রায় এক সপ্তাহের ট্যুর হবে এটি।

কিছুদিন আগে নিজের লেখা একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন…

এতদিন অন্যদের লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছিলাম মূলত ভ্যারিয়েশনের জন্য। এখন মনে হচ্ছে গান লেখাটা আবার শুরু করা দরকার। সেই ভাবনা থেকেই গান লিখছি।

তাহলে কি সামনের প্রকাশিত অ্যালবামগুলো আপনার লেখা গানে প্রকাশ করবেন?

এমনটিই ইচ্ছা আছে। সামনে নতুন একটি অ্যালবামের কাজ করব। আশা করছি, সাতটি বা তার বেশি গান থাকতে পারে। সেগুলো নিজেই লিখব।

বর্তমান সঙ্গীতের অবস্থা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

বর্তমানে কেমন গান হচ্ছে বা সঙ্গীতাঙ্গনের অবস্থা কেমন সে বিষয়ে চিন্তা করার অবকাশ নেই। সারা পৃথিবী কি করছে তা দেখা আমার কাজ নয়। আমি ভালো গান করব, মানুষ যদি আমাকে ভালোবাসে বুঝব ভালো কিছু হচ্ছে। ভালো-খারাপ বিচার করা শ্রোতাদের কাজ আমি সমালোচক নই।

তাহলে কি বর্তমানে সঙ্গীতের সুসময় নেই সেটির সঙ্গে একমত নন আপনি?

এসব কথা চিরকাল শুনে এসেছি, এখনও শুনছি। এটা সত্তর দশক থেকে শুরু করে আজ অবধি চিরচেনা একটি কথা। যারা যে সময়ে গান করছেন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন তাদের কাছে সুসময় আছে। যারা পারছেন না তারাই হয়তো এসব কথা বলছেন।

সবাই এখন অনলাইনে গান প্রকাশ করছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

বিষয়টি নিয়ে খারাপ বা ভালো আলাদা করে বলার কিছু নেই। এক সময় মানুষ ক্যাসেট কিনে গান শুনতেন এখন অনলাইনে শুনেন। এটা যুগের পরিবর্তন। টেকনোলজির পরিবর্তনের সঙ্গে গান শোনার মাধ্যমও পরিবর্তন হয়েছে। দেখার বিষয় হচ্ছে শ্রোতাদের কাছে গান পৌঁছায় কিনা, আর শিল্পীরা তাদের সঠিক সম্মানী পাচ্ছেন কিনা।

চলচ্চিত্রে কাজ করার পরিকল্পনা আছে?

বড় পর্দায় কাজের ব্যাপারে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে অনেকের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়, তারা সিনেমার গল্প শুনান। যদি কখনও এমন কোনো গল্প পেয়ে যাই যা সবার মাঝে সে কাজটিকে বাঁচিয়ে রাখবে তখন হয়তো করব। তা ছাড়া দর্শক আমাকে যে মাধ্যমে দেখতে চাইবেন আমি সে মাধ্যমেই কাজ করব।

আপনাদের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে নেতিবাচক গুঞ্জন শোনা যায়। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

আমার কাছে মনে হয় তারকাদের নিয়ে এমন অনেক কথাই অনেকে বলে থাকেন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন করার কিছু নেই। আমাদের দায়িত্ব পেশাগত জায়গা আর ব্যক্তিগত জীবন দুটিকে আলাদা রাখা। তা ছাড়া আমাদের মধ্যে যদি এমন কিছু হয়ে থাকত সেটা লুকোচুরির কিছু নেই। আমি এ বিষয়ে জানিয়ে দিতাম। কোনো কিছু হওয়ার আগেই মন্তব্য করে পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে নিয়ে যাওয়াটা আসলে কারোরই কাম্য নয়। আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিলে অবশ্যই সবাইকে জানিয়ে দেব।

রেগে আগুন সালমা

জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ক্লোজ আপ তারকা সালমা বেসরকারি একটি টেলিভিশনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সালমার অভিযোগ তাকে না জানিয়েই একটি লাইভ শো’র পোস্টার প্রকাশ করে টেলিভিশনটি। সালমার অভিযোগমতে, পরে শিল্পী আসে নাই ধোয়া তুলে শিল্পীদের বদনাম করতে পারে টেলিভিশন চ্যানেলটি। শুধু ক্ষোভই নয় এই ঘটনায় বেশ রেগে গেছেন সালমা।

সালমা সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে জানান, তাকে এক ভক্ত জানান আপা আজ আপনার লাইভ আছে না? সালমা আসমান থেকে পড়েন।   আজ শুক্রবার আড়াইটায় তার লাইভ প্রোগ্রাম টেলিভিশনে অথচ তিনি জানেন না! যখন তিনি পোস্টার দেখেন তিনি অবাক হয়ে যান। কেননা আজ একটু পরেই বাংলা ভিশনে তার লাইভ প্রোগ্রাম উল্লেখ করে পোস্টার করা হয়েছে।

সালমা বলেন, দেশে শিল্পীদের নিয়ে অহরহ ব্যবসা করা হচ্ছে। পোস্টার লাগিয়ে শো এরেনজমেন্ট করে বলা হয় শিল্পী আসেনি। সব শিল্পীদের এই প্রবলেম ফেইস করতে হচ্ছে। কেন? এগুলোর সমাধান করবে কে?