Category Archives: Media

ভারতীয় শিল্পীরা আমাদের মূল্যায়ন করেন না

সঙ্গীতশিল্পী নাজমুন মুনীরা ন্যান্সী। অডিও গানের পাশাপাশি প্লে-ব্যাকেও চোখ পড়ার মতো উপস্থিতি ছিল তার। বর্তমানে প্লে-ব্যাকে নয়, অডিও গান ও স্টেজ শো নিয়েই ব্যস্ত আছেন তিনি। সমসাময়িক ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে আজ কথা বলেছেন তিনি।

* বর্তমান কাজের ব্যস্ততা কী নিয়ে?

** সারা বছরই কোনো না কোনো গানের রেকর্ডিং থাকে। বেশ কয়েকটি মিক্স অ্যালবামের কাজ করলাম। সামনের সপ্তাহে তিনটি গানের রেকর্ডিং আছে। পাশাপাশি স্টেজ শো আগের মতোই করছি।

* গেল ঈদে আপনার বেশ কয়েকটি গান প্রকাশ হওয়ার পরও তা আলোচনার বাইরে, কারণ কী?

** বৈশাখ এবং ঈদে আমার যে গানগুলো প্রকাশ হয়েছে তা নিয়ে আমি খুব আশাবাদী ছিলাম। আমার নির্দিষ্ট কিছু গানের সমালোচক আছেন তারাও বলেছেন, কাজগুলো বেশ ভালো হয়েছে। কিন্তু তারপরও কেন দর্শক-শ্রোতাদের কাছ থেকে সাড়া পাইনি তা বুঝতে পারছি না। তবে আমি এটাকে ব্যর্থ বলব না। কারণ আমি নিজে কাজগুলো করে সন্তুষ্ট ছিলাম।

* সম্প্রতি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর সঙ্গে গান করেছেন…

** কাজটি আমার কোনো প্রজেক্টে ছিল না। আমার কাজ ছিল গান গাওয়া। তাছাড়া আমি চেয়েছিলাম সবাই ছেলেটিকে প্রমোট করুক। কারণ ছেলেটি যথেষ্ট প্রতিভাবান। যদি আমরা নতুনদের সুযোগ না দিই আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন মুখ কীভাবে আসবে।

* চলচ্চিত্রের গানেও আপনার উপস্থিতি নেই বললেই চলে…

** অন্যদের অবস্থা জানি না, তবে চলচ্চিত্রে আমার গানের অবস্থা খুব খারাপ। আগে কোনো ছবি হলেই আমার জন্য একটি হলেও গান বরাদ্দ থাকত। কিন্তু এখন আর তা হচ্ছে না। বাইরের শিল্পী বা কম্পোজার দিয়ে কম টাকা দিয়ে ছবির গান করিয়ে নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া আমি যাদের সঙ্গে কাজ করতাম তারা আর সেভাবে কাজ করছেন না। তাই করছি না।

* যৌথ প্রযোজনায়, গান হচ্ছে বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

** যৌথ প্রযোজনার গান করতে সমস্যা নেই, কলকাতাসহ অন্যান্য দেশে নিজেকে পরিচিত করতে পারলে আমার ভালো লাগত। কিন্তু কলকাতার শিল্পীদের আমরা যতটা সম্মান দিয়ে আমাদের দেশে গান করাই তারা আমাদের ততটা মূল্যায়ন করেন না। এমনও দেখেছি, তাদের চ্যানেলে আমাদের শিল্পীদের সঙ্গে গান প্রচারের সময় তা কেটে তাদের শিল্পীদের গান চালাচ্ছেন। তাই যৌথ প্রযোজনার গানের বিষয়টি আমি ভালো চোখে দেখি না।

Advertisements

ডিভোর্সের কথা স্বীকার করলেন তাহসান-মিথিলা

দীর্ঘদিনের গুঞ্জন অবশেষে সত্যি হলো। আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্স হতে যাচ্ছে দেশের জনপ্রিয় তারকা জুটি তাহসান-মিথিলার। ২০ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে তাহসান তার ভ্যারিফায়েড পেজ থেকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্সের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, আমরা বেশ কয়েক মাস থেকেই আলাদা থাকছি। গত কয়েকমাস ধরেই বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছিলাম। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম কোন চাপে না থেকে আলাদা থাকার। আমরা জানি আমাদের এই সিদ্ধান্তে অনেকে ব্যথিত হবেন। সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

tahasan-1437292195

তিনি আরও লিখেন, আমরা সব সময়ই আমাদের সম্পর্কটা ভালোবাসা ও নীতিবোধের মধ্যে রেখেছিলাম। আশা করবো এই সিদ্ধান্তের পরও সেটা অব্যহত থাকবে। আমাদের এই কঠিন সময়ে আমাদের ভক্তরা আমাদের সাথে থাকবেন বলেই বিশ্বাস করি আমরা।’

গুঞ্জন বা গসিপ যাই বলি না কেন, ইস্যুটা কিন্তু নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, জনপ্রিয় তারকা জুটি তাহসান-মিথিলা তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। আর গতকাল রাত থেকে ফেসবুকে এই খবরটি আরো বেশি উত্তাপ ছড়ায় এই জুটির ভক্তদের মাঝে। অনেকেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া শুরু করেন ডিভোর্সের ঘটনা নিয়ে।

এদিকে কিছুদিন আগে নিজেদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন বিষয়ে মিথিলা বলেছিলেন, তাদের সম্পর্কের বিষয় নিয়ে মিডিয়ার মাথা না ঘামালেও চলবে।

তিনি বলেছিলেন,’কে কি বললো ওগুলো নিয়ে আমি একদমই ভাবি না। মানুষের কথা শোনার সময় আমার নেই। তারা তো কত কথাই বলবে! আমার লাইফ একটা রুটিনে চলে। আমি আমার কাজ আমি করে যাচ্ছি। আমি শুধু সবাইকে এটাই বলব, আমার যদি কিছু বলার থাকে আমরা সোচ্চার হয়ে সবলভাবে বলব। কেনো লুকোছাপার কিচ্ছু নেই। এ নিয়ে এতো মাথাব্যথার কোনো কারণ নেই। যাদের বিষয়ে কথা হচ্ছে, আমার মনে হয় মাথাব্যথাটা তাদেরই হওয়া উচিত। বাকি মানুষদের এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা না করলেও চলবে। তাদের (তাহসান-মিথিলা) যদি কিছু বলার থাকে, যখন সময় হবে তারাই সব বলবে। যখন সময় হবে কি সত্যি না মিথ্যা সেটা সবাই জানতে পারব। আমি এমন একটা মানুষ যে ফেইক একটা লাইফ লিড করতে পারি না। আর কোনো মিথ্যার আশ্রয়ে আমি এমনিতেও থাকব না।’

বলে রাখা ভালো ২০০৪ সালে তাহসান মিথিলার প্রেম শুরু হয়েছিল। ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট তারা বিয়ে করেন। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

Za ‘n Zee এর নতুন বিজ্ঞাপনে সাকিব আল হাসানের সাথে নিঝুম ফারুকী

কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের অন্যতম ব্র্যান্ড জা এন জি (Za ‘n Zee) শাহী মালাই আইসক্রিমের বিজ্ঞাপনে বিশ্ব সেরা ক্রিকেট অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সাথে এবার একই পর্দায় কাজ করলেন মডেল ও চিত্রনায়ক নিঝুম ফারুকী। সাকিব ফাহাদের নির্দেশনায় সম্প্রতি ঢাকার উত্তরায় বিজ্ঞাপনটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই স্যাটেলাইট চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপনটি প্রচারিত হবে।

20180413_1363850153733654_1891535087_o

শিল্পকলা পদক পাচ্ছেন ৭ গুণী

শিল্পকলা একাডেমি প্রবর্তিত ২০১৬ সালের শিল্পকলা পদক ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর শিল্পকলা পদক পাচ্ছেন দেশের ৭ গুণীজন।

মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

এ বছর যন্ত্রসঙ্গীতে পবিত্র মোহন দে, নৃত্যকলায় মো. গোলাম মোস্তফা খান, আলোকচিত্রে গোলাম মুস্তাফা, চারুকলায় কালিদাস কর্মকার, লোকসংস্কৃতিতে সিরাজউদ্দিন খান পাঠান, নাট্যকলায় অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ এবং কণ্ঠসঙ্গীতে মিতা হক পুরস্কার পাচ্ছেন।

নির্বাচিত গুণীজনদের প্রত্যেককে স্বর্ণপদক, এক লাখ টাকা ও সনদপত্র প্রদান করা হবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী জানান, ২০১৩ সাল থেকে শিল্পকলা পদক প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পদক প্রদানের জন্য দশটি বিষয় রয়েছে- কণ্ঠসঙ্গীত, যন্ত্রসঙ্গীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা, চারুকলা, আবৃত্তি, আলোকচিত্র, যাত্রাশিল্প, চলচ্চিত্র ও লোকসংস্কৃতি।

আগামী বছর থেকে এর সঙ্গে সাংস্কৃতিক গবেষণা ও সৃজনশীল সংগঠক বিষয় দুইটি যুক্ত হবে বলেও জানান তিনি।

লিয়াকত আলী লাকী আরও জানান, এ পদক প্রদানের জন্য শিল্পকলা পদক প্রদান নীতিমালা রয়েছে।

সে অনুযায়ী একাডেমির মহাপরিচালক, একাডেমির সচিব, একাডেমির ছয়জন পরিচালক, সাতজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে ১৬ সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে।

এই কমিটিই পদকপ্রাপ্তদের নির্বাচিত করেন বলে জানান একাডেমির মহাপরিচালক।

কপিল বাদ, আসছে সুনীলের নামে নতুন শো

জল্পনা, জল্পনা আর জল্পনা। কপিল বনাম সুনীল লড়াইয়ের পরিণতি কী হবে? দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রশ্নের এমন উত্তর কি কেউ আশা করতে পেরেছিলেন? শেষ যা খবর তাতে কপিল শর্মার শোয়ের পরিবর্তে এবার সুনীল গ্রোভারকে কেন্দ্র করে নতুন শো আনতে চলেছে সনি এন্টারটেনমেন্ট টেলিভিশন। এটাই সর্বশেষ খবর। এর আগে জানা গিয়েছিল, সুনীল নাকি এমন প্রস্তাব দিয়েছেন যে তিনি কপিলের শোয়ে কাজ করতে পারেন তবে তিনি কপিলের সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না। এমন কী এক ফ্রেমে কপিলের সঙ্গে থাকতেও রাজি নন সুনীল।

প্রাইম টাইমের ওই শো ইতিমধ্যেই টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট (টিআরপি) হারিয়েছে। ওই শোয়ের মধ্যমণি কপিল হলেও সুনীল গ্রোভার একাধিক চরিত্রে অভিনয় করে রীতিমতো জনপ্রিয়। তার অভাব অল্প দিনেই বুঝে গিয়েছেন চ্যানেল কর্তারা। সুনীল গ্রোভার চাইলেও চ্যানেল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়তে নারাজ। চ্যানেলের পক্ষে নাকি এমনও বলা হয়েছে যে ওই শো কপিলের নামে হলেও সেটা শুধু কপিলের নয়, চ্যানেল অনেক রুপি বিনিয়োগ করেছে।

চ্যানেলের এই যুক্তি শোনার পরে নাকি সুনীল গ্রোভার জানান, চুক্তি মতো তিনি চ্যানেলের অন্য অনুষ্ঠানে কাজ করতে রাজি। এর পরেই চ্যানেল নাকি সুনীল গ্রোভারকে এমন প্রস্তাবও দিয়েছে যে, কপিলের শো বন্ধ করে সেই জায়গায় সুনীল গ্রোভারের একটি শো নিয়ে আসা হবে। এই খবর যদি সত্যি হয় তবে এটা ভারতীয় টেলিভিশনে এক নতুন নজির তৈরি করবে। তৈরি হবে নতুন চ্যালেঞ্জ। সুনীল কি ছাপিয়ে যেতে পারবেন কপিল শর্মাকে?

শুটিং ফাঁসানোর দায়ে বাদ পড়লেন সারিকা

মডেল অভিনেত্রী সারিকার বিরুদ্ধে শুটিং কিংবা শিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অনেকের শিডিউল ফাঁসিয়েছেন তিনি।

মাঝে বিয়ে করে সংসারী হয়ে মিডিয়ায় কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের তিন বছরের মাথায় ডিভোর্স হয়ে যায়। তাই আবারও মিডিয়ায় ব্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ফিরতি যাত্রায়ও তার পুরনো অভ্যাস পরিবর্তন হয়নি।

সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনের কাজ করতে গিয়ে শুটিং ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। গত ৫ এপ্রিল থেকে মানিকগঞ্জে রাঙাপরি মেহেদির নামে একটি প্রসাধনী পণ্যের বিজ্ঞাপনের শুটিং করার কথা ছিল তার। সেদিন সকাল ৬টা থেকে শুটিং শুরু করার কথা থাকলেও আগেরদিন অর্থাৎ ৪ এপ্রিল রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সারিকার মোবাইল বন্ধ ছিল। উপায়ন্তর না দেখে বিজ্ঞাপনটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মুসলিম কসমেটিকস অ্যান্ড হারবাল কেয়ার বিপাকে পড়ে নিজেদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সারিকাকে বাদ দিয়ে তাৎক্ষনিকভাবে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাকে কাস্ট করে। নির্দিষ্ট দিনে পূর্ণিমাকে নিয়েই শুটিং শুরু হয়।

এরপর সারিকা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ এনে স্ট্যাটাস দিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত জানতে চান।

এ বিষয়ে অনুসদ্ধান করে জানা গেছে, মূলত শুটিং ফাঁসানোর অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতেই সারিকা ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। কারণ ৪ এপ্রিল রাত ১টা ৪৩ মিনিটে তিনি মানিকগঞ্জে গিয়ে শুটিং স্পট খুঁজেছেন- এ মর্মে প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার মাসুম সরকারকে মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ দেন। ততক্ষণে প্রযোজনা সংস্থা তাদের সিদ্ধান্ত বদলে পূর্ণিমাকে কাস্ট করে ফেলেছেন। নিজের অপরাধের বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই সারিকা ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বলে মাসুম সরকার জানান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রোডাকশন থেকে কেউ যদি তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিত তাহলে তিনি রাত পৌনে দুইটায় স্পটে গেলেন কেন? তার তো আগে থেকেই কাজটি ছেড়ে দেয়ার কথা! একজন শিল্পীর কাছ থেকে এমন অপেশাদার আচরণ মোটেও কাম্য নয়।’

সারিকা যে নিজের অপরাধ ঢাকতে ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন সে সংক্রান্ত প্রমাণাদিও যুগান্তরের কাছে রয়েছে। বিজ্ঞাপনটিতে চিত্রনায়ক ইমনও অভিনয় করেছেন।

তিনিও সারিকার শুটিং ফাঁসানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘ক্লায়েন্ট শুটিংয়ের আগের দিন রাত দেড়টা পর্যন্ত সারিকাকে না পেয়ে তাদের সিদ্ধান্ত বদল করেছেন। অনৈতিক প্রস্তাবের কোনো কিছুই ইউনিটে ঘটেনি।’

সিডির বিকল্প এখনও কিছু ভাবতে পারি না: ন্যান্সি

ভেতর বলে দূরে থাকুক বাহির বলে আসুক না- এ গানই ন্যান্সিকে শ্রোতার হৃদয়ে আসন গেড়ে দিয়েছে। জন্মসূত্রে যশোরের মেয়ে হলেও বেড়ে উঠেছেন নেত্রকোনায়। পুরো নাম নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। মা জ্যোৎস্না হক ছিলেন শখের শিল্পী। মায়ের কাছে ন্যান্সির গানের হাতেখড়ি। অডিওর পাশাপাশি প্লেব্যাকেও পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। সমসাময়িক সঙ্গীতের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে এক আড্ডায় ভাগাভাগি করে নিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতা।

কখন থেকে গানের প্রতি আকৃষ্ট হলেন?

ছোটবেলা থেকে কখনই আমার গানের প্রতি ভালোলাগা কিংবা ঝোঁক কোনোটিই ছিল না। একরকম জোর করেই মা আমাকে দিয়ে রেওয়াজ করাতেন। বড় হওয়ার পর কখন যে গানের প্রতি প্রেম জন্মায় সেটি নিজেও বলতে পারব না।

আজকের ন্যান্সি হয়ে ওঠার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?

শিল্পী ন্যান্সি হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের। সব সময় সবকিছুতে ছায়ার মতো থাকেন। আর বাবা যা করেছেন তা ছিল নীরবে। সবসময় আড়ালে থাকতেন তিনি। কখনও আমার কোনো কিছুতেই বেশি আগ্রহ দেখাতেন না। মাঝে মাঝে খারাপ লাগত। কিন্তু বাবার প্রতি এমন ধারণা ভেঙে যায়, যখন দেখি আমাকে নিয়ে যত নিউজ হয়েছে, সব পেপার কাটিংগুলো তিনি সযত্নে রেখে দিয়েছেন।

পহেলা বৈশাখে নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন…

তিনটি গান নিয়ে শুনতে চাই তোমায় শিরোনামে একটি একক অ্যালবাম প্রকাশ করব। মূলত বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রকাশ করছি। এটি আমার পঞ্চম একক অ্যালবাম। অনলাইন এবং সিডি দুই মাধ্যমেই প্রকাশ পাবে নতুন অ্যালবামটি।

গানগুলো কার লেখা কিংবা সুর সঙ্গীত কারা করেছেন?

অ্যালবামে তিনটি গান থাকছে। গানগুলো লিখেছেন জাহিদ আকবর। সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন ইমন চৌধুরী।

বর্তমানে সবাই অনলাইনে গান প্রকাশ করছেন। কিন্তু আপনি অনলাইনের পাশাপাশি সিডি আকারেও প্রকাশ করছেন, কারণ কী?

আমি সবসময় সিডি আকারেই গান প্রকাশে আগ্রহী। সিডির বিকল্প এখনও কিছু ভাবতে পারি না। আমার কাছে গান শোনা মানে সিডি প্লেয়ারেই শুনতে হবে। তাই সিডির ব্যাপারে আমার আগ্রহ একটু বেশি।

তাহলে কি পরবর্তীতে যত অ্যালবাম প্রকাশ করবেন সেগুলো সিডি আকারেই পাবেন শ্রোতারা?

এটা শুধু আমার ওপর নির্ভর করে না। মার্কেটের অবস্থা বুঝে কাজ করতে হয়। কোম্পানি যেটা ভালো মনে করবে সেটাই করবে। সবচেয়ে বড় কথা, সবাই ব্যবসা করতে এসেছেন। এখন দেখতে হবে তারা আমার ওপর কতটা আস্থা রাখতে পারেন। পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে প্রেক্ষাপটের ওপর।

এ অ্যালবামের কোনো গানের মিউজিক ভিডিও করার পরিকল্পনা আছে?

আমি মিউজিক ভিডিও করার ব্যাপারে একদমই আগ্রহী নয়। তাই নতুন গান নিয়ে এখনও কোনো মিউজিক ভিডিওর পরিকল্পনা করিনি।

এখন তো অনেকেই ভিডিও নির্মাণে আগ্রহী। আপনি এর বিপক্ষে?

আমার কাছে মনে হয় একজন শিল্পীর কাজ কণ্ঠের। শিল্পীদের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া উচিত তাদের কণ্ঠে। ভিডিওতে মনোযোগ দেয়া কোনোভাবেই জরুরি নয়। গান গাইলে শ্রোতারা অডিও শুনবেন না, কিন্তু ভিডিও দেখলে শুনবেন, এটা আমি বিশ্বাস করি না। এখন যেহেতু তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে, শ্রোতারা গানের পাশাপাশি ভিডিও দেখতে চান সে কথা মাথায় রেখে মিউজিক ভিডিও তৈরি করা যায়। এটাকে খারাপ বলছি না।

একটি গান শ্রোতাপ্রিয় হওয়ার জন্য সেটার কথা কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন?

কথা-সুর-গায়কী কোনোটিই ফেলে দেয়ার মতো নয়। যদি একটি গানের কথা খুব সুন্দর হয়, কিন্তু আবেদন দিয়ে গাইতে পারলেন না শিল্পী, আবার দুটিই ঠিক হল কিন্তু সুর গানটাকে প্রাণ দিতে পারল না, তাহলেও গানটা ভালো হবে না। তাই আমার কাছে মনে হয় একটি আরেকটির পরিপূরক। কোনোটিকেই বাদ দেয়া যাবে না।

স্টেজ শো’র কী অবস্থা?

প্রতি সপ্তাহে একটি করে স্টেজ শো করি। তাতেই আমার কাছে বেশি মনে হয়। তাই সবকিছুই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখি।

সব শিল্পীই দেশের বাইরে শো করতে যান। কিন্তু আপনাকে সেভাবে দেখা যায় না, কারণ কী?

দেশের বাইরে শো করতে যেতে আগ্রহী নই আমি। ৫-৬ বার দেশের বাইরে শো করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। যেটি খুব বেশি সুখকর নয়। বাইরে আয়োজক যারা থাকেন, তারা দেশের আয়োজকদের মতো লেনদেনে ততটা স্বচ্ছ নন। আমি স্পষ্ট কথা বলি, এ জন্য অনেকেরই অপছন্দ।

সিনেমার গানেও নিয়মিত নন। কারণ কী?

সিনেমার গান কমিয়ে দেইনি। বর্তমানে ফিল্মে যারা লগ্নি করছেন, সবার ঝোঁক এখন কলকাতার দিকে। যখন তারা কলকাতামুখী হচ্ছেন, তারা চিন্তা করেন, কেন একজন দেশি শিল্পীকে ৪০-৫০ হাজার টাকা দিয়ে গান করাব। যেখানে কলকাতার একজন শিল্পী দিয়ে গান করানো যাচ্ছে একই পারিশ্রমিক দিয়ে। তা ছাড়া দেশে হাতেগোনা কয়েকজনকে দিয়ে তারা গান করান।

সঙ্গীত জীবনের বড় প্রাপ্তি কী?

সঙ্গীত ক্যারিয়ারে অনেক কিছু পেয়েছি। আবার অনেক কিছু হারিয়েছি। তবে খুব কম বয়সে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।

আগামীর পরিকল্পনা কী?

প্ল্যান করে কিছু করি না। আজ প্ল্যান করব কাল সেটা কার্যকর করতে না পারলে আপনারাই বলবেন, কই অনেক কিছুই পরিকল্পনা করেছেন, কিন্তু ফলাফল নেই। তাছাড়া আমার পরিকল্পনা করে কিছু হয়ও না।

দর্শক যেভাবে চাইবেন সেভাবে কাজ করব

অভিনেতা, সঙ্গীতশিল্পী ও শিক্ষক- এমন পরিচয়েই পরিচিত এ প্রজন্মের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী তাহসান খান। টিভি খুললেই তার অভিনীত বিজ্ঞাপন, নাটক বা গানের মিউজিক ভিডিও যেন প্রমাণ করে দেয় ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে একজন সফল মানুষ তিনি। নিজের লেখা গান দিয়েই সঙ্গীত জগতে পথচলা এ শিল্পীর। সঙ্গীতশিল্পীর বাইরেও একজন অভিনেতা হিসেবেই বর্তমানে বেশি দেখা মিলছে তার। সারা বছর না হলেও ঈদ ও বিশেষ দিনগুলোতে তাহসানের উপস্থিতি যেন দর্শকদের বাড়তি আকর্ষণ। তবে অভিনয়ে তার দেখা মিললেও বর্তমানে গান আর শিক্ষকতা নিয়েই ব্যস্ত আছেন তিনি। অভিনয় জগতে পথচলা এবং সঙ্গীতের নানা বিষয়ে নিয়ে কথা বলেছেন এ সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেতা।

সঙ্গীতে যাত্রার শুরু কীভাবে?

ছোটবেলায় শিশু একাডেমিতে গান শেখার মাধ্যমে গানের সঙ্গে পরিচয়। তারপর ছায়ানটে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখি। কিন্তু একটি সমস্যার কারণে গান ছেড়ে দিতে হয়। তবে গানের প্রতি ভালোবাসা ছিল তখন থেকেই। তাই নিজেই গান তৈরি শুরু করি। গানের সুর করি। এসএসসি পরীক্ষার আগে ভাইয়া একটি কিবোর্ড কিনে দেন। পরবর্তীতে বন্ধুদের সঙ্গে ব্যান্ড করা হয়। প্রথম অ্যালবাম কথোপকথন প্রকাশ করি। তারপর থেকে সঙ্গীতের সঙ্গে আজও হাঁটছি।

অভিনয়ের শুরু কীভাবে..?

২০০৩ সালের দিকে ‘অফ বিট’ একটি নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব পাই। নাটকটি পরিচালনা করেছেন আফসানা মিমি। তার কাছ থেকে প্রথমবারের মতো অভিনয় করার প্রস্তাব পাই। গল্পের মান ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে হ্যাঁ বলে দিই। এ নাটকে অভিনয়ের জন্য দর্শকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেতে থাকি। এরপরই অভিনয়ের আগ্রহ বাড়ে। পরবর্তীতে ২০০৭-এ ‘মধুরেণ সমাপয়েৎ’ নামে আরও একটি নাটকে অভিনয় করি। সেটিও ভালোবাসা দিবসের বিশেষ নাটক হিসেবে প্রচারিত হয়েছিল। তারপর থেকেই নিয়মিত করছি। এরপরের কথা সবারই জানা।

অভিনেতা তাহসান হিসেবেই কি নিয়মিত হওয়ার পরিকল্পনা আছে?

আমি গানের মানুষ। ভালোলাগা থেকে অভিনয় করি। বিশেষ দিবসগুলোতেই কাজ করা হয়। ভবিষ্যতে এভাবেই কাজ করব। অভিনয় নিয়ে পরিকল্পনা করে কাজ করি না।

কোন প্ল্যাটফর্মে নিজেকে বেশি জনপ্রিয় মনে করেন? সঙ্গীত নাকি অভিনয়?

আসলে এ বিষয়টি আমি কখনও পরিমাপ করতে পারি না। এর জন্য বিশেষ কোনো মাপকাঠি নেই। যখন আমি স্টেজে উঠি তখন মনে হয় আমি সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেই অনেক জনপ্রিয়। আবার যখন অভিনয় করি তখন মনে হয় দর্শক আমাকে এখানেই দেখতে চান। তাই এ বিষয়ে আলাদা করে বলতে পারছি না।

একাধারে গায়ক, নায়ক, মডেল, সেই সঙ্গে শিক্ষকতার মতো গুরুদায়িত্ব পালন করছেন সমস্যা হচ্ছে না?

আমি সবকিছু রুটিনমাফিক করি। কোনো কাজ তাড়াহুড়া করে করি না। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিই। কারণ আমি মনে করি তাড়াহুড়া করে কাজ করলে সেটি সফল নাও হতে পারে। আর অনেক বছর ধরে যেহেতু কাজ করে যাচ্ছি, তাই ব্যাপারটা সয়ে গেছে। এখন খুব একটা সমস্যা হয় না।

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

অনেক কিছুই তো করছি। তবে আমার কনসার্টের ব্যস্ততা অনেক বেশি যাচ্ছে। সামনে আমেরিকায় একটি শো করার কথা রয়েছে আপাতত সেগুলো নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। পাশাপাশি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি।

শো’র ব্যাপারে সব কিছু চূড়ান্ত হয়েছে?

মোটামুটি সবকিছু চূড়ান্ত হয়েছে। সব ঠিক থাকলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আমেরিকা পাড়ি জমাচ্ছি। প্রায় এক সপ্তাহের ট্যুর হবে এটি।

কিছুদিন আগে নিজের লেখা একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন…

এতদিন অন্যদের লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছিলাম মূলত ভ্যারিয়েশনের জন্য। এখন মনে হচ্ছে গান লেখাটা আবার শুরু করা দরকার। সেই ভাবনা থেকেই গান লিখছি।

তাহলে কি সামনের প্রকাশিত অ্যালবামগুলো আপনার লেখা গানে প্রকাশ করবেন?

এমনটিই ইচ্ছা আছে। সামনে নতুন একটি অ্যালবামের কাজ করব। আশা করছি, সাতটি বা তার বেশি গান থাকতে পারে। সেগুলো নিজেই লিখব।

বর্তমান সঙ্গীতের অবস্থা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

বর্তমানে কেমন গান হচ্ছে বা সঙ্গীতাঙ্গনের অবস্থা কেমন সে বিষয়ে চিন্তা করার অবকাশ নেই। সারা পৃথিবী কি করছে তা দেখা আমার কাজ নয়। আমি ভালো গান করব, মানুষ যদি আমাকে ভালোবাসে বুঝব ভালো কিছু হচ্ছে। ভালো-খারাপ বিচার করা শ্রোতাদের কাজ আমি সমালোচক নই।

তাহলে কি বর্তমানে সঙ্গীতের সুসময় নেই সেটির সঙ্গে একমত নন আপনি?

এসব কথা চিরকাল শুনে এসেছি, এখনও শুনছি। এটা সত্তর দশক থেকে শুরু করে আজ অবধি চিরচেনা একটি কথা। যারা যে সময়ে গান করছেন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন তাদের কাছে সুসময় আছে। যারা পারছেন না তারাই হয়তো এসব কথা বলছেন।

সবাই এখন অনলাইনে গান প্রকাশ করছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

বিষয়টি নিয়ে খারাপ বা ভালো আলাদা করে বলার কিছু নেই। এক সময় মানুষ ক্যাসেট কিনে গান শুনতেন এখন অনলাইনে শুনেন। এটা যুগের পরিবর্তন। টেকনোলজির পরিবর্তনের সঙ্গে গান শোনার মাধ্যমও পরিবর্তন হয়েছে। দেখার বিষয় হচ্ছে শ্রোতাদের কাছে গান পৌঁছায় কিনা, আর শিল্পীরা তাদের সঠিক সম্মানী পাচ্ছেন কিনা।

চলচ্চিত্রে কাজ করার পরিকল্পনা আছে?

বড় পর্দায় কাজের ব্যাপারে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে অনেকের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়, তারা সিনেমার গল্প শুনান। যদি কখনও এমন কোনো গল্প পেয়ে যাই যা সবার মাঝে সে কাজটিকে বাঁচিয়ে রাখবে তখন হয়তো করব। তা ছাড়া দর্শক আমাকে যে মাধ্যমে দেখতে চাইবেন আমি সে মাধ্যমেই কাজ করব।

আপনাদের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে নেতিবাচক গুঞ্জন শোনা যায়। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

আমার কাছে মনে হয় তারকাদের নিয়ে এমন অনেক কথাই অনেকে বলে থাকেন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন করার কিছু নেই। আমাদের দায়িত্ব পেশাগত জায়গা আর ব্যক্তিগত জীবন দুটিকে আলাদা রাখা। তা ছাড়া আমাদের মধ্যে যদি এমন কিছু হয়ে থাকত সেটা লুকোচুরির কিছু নেই। আমি এ বিষয়ে জানিয়ে দিতাম। কোনো কিছু হওয়ার আগেই মন্তব্য করে পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে নিয়ে যাওয়াটা আসলে কারোরই কাম্য নয়। আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিলে অবশ্যই সবাইকে জানিয়ে দেব।

রেগে আগুন সালমা

জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ক্লোজ আপ তারকা সালমা বেসরকারি একটি টেলিভিশনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সালমার অভিযোগ তাকে না জানিয়েই একটি লাইভ শো’র পোস্টার প্রকাশ করে টেলিভিশনটি। সালমার অভিযোগমতে, পরে শিল্পী আসে নাই ধোয়া তুলে শিল্পীদের বদনাম করতে পারে টেলিভিশন চ্যানেলটি। শুধু ক্ষোভই নয় এই ঘটনায় বেশ রেগে গেছেন সালমা।

সালমা সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে জানান, তাকে এক ভক্ত জানান আপা আজ আপনার লাইভ আছে না? সালমা আসমান থেকে পড়েন।   আজ শুক্রবার আড়াইটায় তার লাইভ প্রোগ্রাম টেলিভিশনে অথচ তিনি জানেন না! যখন তিনি পোস্টার দেখেন তিনি অবাক হয়ে যান। কেননা আজ একটু পরেই বাংলা ভিশনে তার লাইভ প্রোগ্রাম উল্লেখ করে পোস্টার করা হয়েছে।

সালমা বলেন, দেশে শিল্পীদের নিয়ে অহরহ ব্যবসা করা হচ্ছে। পোস্টার লাগিয়ে শো এরেনজমেন্ট করে বলা হয় শিল্পী আসেনি। সব শিল্পীদের এই প্রবলেম ফেইস করতে হচ্ছে। কেন? এগুলোর সমাধান করবে কে?

সাজ্জাদ-মেহজাবিনকে নিয়ে বান্নাহ’র প্রথম মিউজিক ভিডিও

বিভিন্ন ধরণ-ধাঁচের নাটক, টেলিফিল্ম বানিয়ে ইতোমধ্যে বেশ নামডাক কুড়িয়েছেন নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ। সবশেষ ক্লোজ আপ কাছে আসার অফলাইন গল্প দিয়ে বেশ প্রশংসাও পেয়েছেন। এবার প্রথমবারের মতো হাত দিলেন মিউজিক ভিডিও নির্মাণে।
মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেছন শোবিজের চেনা ‍মুখ মেহজাবিন ও ইরফান সাজ্জাদ। ‘কথা দাও তুমি’ শিরোনামের গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ইমরান এবং কণা। জনি হকের লেখা এই গানটিতে সংগীতায়োজন করেছেন ইমরান। সিএমভির আয়োজনে, মোশনরক ইন্টারটেইনমেন্ট এজেন্সি ও ইউসিএফ প্রোডাকশন হাউজের ব্যানারে ভিডিওটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রথম মিউজিক ভিডিও নিয়ে নির্মাতা বান্নাহ ইত্তেফাক অলাইনকে বলেন, জীবনের যেকোন প্রথম এর আনন্দটাই আলাদা। এতদিন তো ভিডিও ফিকশন একটার পর একটা নির্মান করেছি। “ফ্ল্যাশব্যাক” দিয়ে শুরু। ওই থেকে আপনাদের ইন্সপায়ারেশন এ আর থামা থামি নাই। জীবনের প্রথম সিরিয়াল “নাইন এন্ড এ হাফ”। এর পর অনলাইন ভাইরাল করেছি কিছু বছর আগে। আপনাদের মনে আছে কিনা জানি না ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে মায়ের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে রবির ভাইরালটা করেছিলাম। ওই সময় আপনাদের যে ভালোবাসা পেয়েছিলাম তা ভুলবো না। তার পর প্রথম থটফিল্ম। সেখানেও ইন্সপায়ারেশন এর অভাব ছিল না।’
তিনি আরো বলেন, ‘এবার আবারো আরেকটা প্রথম।জীবনের  প্রথম মিউজিক ভিডিও। এক্সপেরিয়েন্স যাই থাকুক যেকোন প্রথমের শুরুতেই আমার হার্ট বিট বেড়ে যায়। এখনো যে তা পরিবর্তন হয়নি তা বুঝেছি গতকাল। হয়ে গেছে শুটিং।’

নাটক আর ছবি দুই মাধ্যমেই নিয়মিত দেখা যাবে আমাকে

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নওশীন। ব্যবসা আর সংসার সামলানোর পাশাপাশি অভিনয়ে সরব তিনি। সম্প্রতি চিত্রনায়িকা হিসেবেও অভিষেক হল তার। এখন প্রেক্ষাগৃহে চলছে তার অভিনীত ছবি ‘মুখোশ মানুষ : দ্য ফোইক’। চিত্রনায়িকা হওয়ার অনুভূতি ও কাজের নানা ব্যস্ততা নিয়ে আজকের ‘হ্যালো…’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি

*ছিলেন আরজে। এরপর হলেন টিভি অভিনেত্রী। এখন চিত্রনায়িকা। কেমন লাগছে বিষয়টি?

**এক কথায় দারুণ। শোবিজের তিন মাধ্যমের কাজ নিয়েই অভিজ্ঞতা হচ্ছে। পাশাপাশি বিষয়টি উপভোগও করছি।

*‘মুখোশ মানুষ’ কী প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে দেখেছেন?

**মুক্তির প্রথম দিন রাজধানীর বেশ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে গিয়েছি। আজও যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দর্শকদের সঙ্গে ছবিটি নিয়ে কথা বলছি। তাদের ভালো লাগা মন্দ লাগাগুলো নোট করছি। তাদের সঙ্গে মিশে নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে।

*সিনেমায় এখন থেকে নিয়মিত হবেন?

**চাকরি ও সংসার সামলে নিয়মিতই অভিনয় করছি। তবে সেটা নাটকে। আসলে অভিনয়ের ওপর দৃষ্টি রয়েছে। সেটা হোক নাটক কিংবা ছবি। ভালো চরিত্র আর গল্প হলে নাটক আর ছবি দুই মাধ্যমেই নিয়মিত দেখা যাবে আমাকে।

*হিল্লোলের সঙ্গে সংসার জীবন কেমন চলছে?

**সবার দোয়ায় বেশ ভালোই চলছে আমাদের সংসার। ব্যবসা এবং অভিনয়ের ব্যস্ততার বাইরেও আমরা সংসারটাকে গুছিয়ে নিয়েছি। আশা করি আমৃত্যু এভাবে ভালো থেকেই কাটিয়ে দিতে পারব।

*স্বামী নয়, অভিনেতা হিল্লোলকে আপনার কেমন লাগে?

**একজন অভিনেতা হিসেবে হিল্লোল সত্যিই অনেক ভালো। অভিনয়ের প্রতি তার দায়িত্বশীলতা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করে। আমি আগে থেকেই হিল্লোলের অভিনয় দেখি। পর্দায় তার ব্যক্তিত্বটা দারুণ উপভোগ করি। বাস্তবেও সে অনেক ব্যক্তিত্ববান পুরুষ।

*উপস্থাপনাতে আগের মতো দেখা যাচ্ছে না…

**উপস্থাপনায় আগের মতোই আছি। তবে হুটহাট করে যেনতেন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করছি না। আগে বুঝেশুনে বিশেষ কিছু অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছি। মানের দিক থেকে কোনো আপস করছি না বলে অনেক অনুষ্ঠানই ছেড়ে দিতে হচ্ছে।

*উপস্থাপনা বা অভিনয়ে তরুণ শিল্পীদের কাজ কেমন লাগে আপনার?

**তরুণদের মধ্যে অনেকেই ভালো করছেন। তরুণ অভিনেত্রী হিসেবে অনেকের কাজই আমার দারুণ ভালো লাগে। তালিকা করলে বিশাল হয়ে যাবে। তাই নামগুলো বলতে পারছি না। তবে এখন যারা মিডিয়া অঙ্গনে কাজের জন্য আসছেন তাদের মধ্যে অনেকেই মেধাবী। তাদের প্রোপার গাইড করতে পারলে ভবিষ্যতে শোবিজ অঙ্গনে ভালো কিছু আর্টিস্ট তৈরি হবে বলে আমি মনে করি।

এ বছরের আলোচিত বিয়ে বিচ্ছেদ

শোবিজে যেন প্রেম-বিয়ে ডিভোর্স খুবই ঠুনকো ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বছর বলিউডে প্রচুর বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটেছে আমাদের দেশের শোবিজ অঙ্গনেও। এ বছর আমাদের দেশের শোবিজের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা তুলে ধরা হলো-সানবীম

সংগীতশিল্পী সানবীম শূন্য দশকের শুরুর দিকে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তার আগে জাফর ইকবালের কণ্ঠে গাওয়া সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী/হয়ে কারো ঘরনী/জেনে রাখো প্রাসাদেরও বন্দিনী/প্রেম কভূ মরেনি তিনি নতুন করে গেয়ে আলোচনায় আসেন। তবে তারচেয়েও বড় কথা তিনি আলোচনায় এলেন দীর্ঘদিনের দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টেনে।   সানবীমের দাম্পত্য জীবনের বিষয়ে তেমন কিছু জানা না গেলেও তার দুই সন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর এখন সন্তানরা ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের কাছেই থাকবে। এমনটাই ফেসবুক বন্ধুর এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন।

তিন্নি-সাদ

মডেল অভিনেত্রী তিন্নি। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে দ্বিতীয় স্বামীর সংসার ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। ২০১৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আদনান হুদা সাদের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এই তারকা। এ বছরের ১৩ আগস্ট সাদের সঙ্গে নিজের বিচ্ছেদের বিষয়টি জানান তিন্নি।

সালমা-শিবলী

কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমা ও সাংসদ শিবলী সাদিকের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে গেছে। গত ২০ নভেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় দুই পরিবারের উপস্থিতিতে তালাকের কার্য সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফোক গায়িকা সালমা এনটিভির রিয়েলিটি শো ‘ক্লোজআপ তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ এর মাধ্যমে রাতারাতি সংগীতশিল্পী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। দিনাজপুরের সংগীত পরিবারের ছেলে শিবলী সাদিক পছন্দ করেন সালমাকে।    ২০১১ সালে সালমা ও শিবলী সাদিকের পারিবারিকাভাবেই বিয়ে সম্পন্ন হয়।
শিবলী সাদিক সংগীতচর্চা করলে পিতার উত্তরসূরি হিসেবে রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন। দিনাজপুর ৬ আসন থেকে পিতার মৃত্যুর পর প্রার্থী হন এবং সর্বশেষ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়। সালমা ও শিবলির সংসারজুড়ে আসে একমাত্র কন্যা স্নেহা। রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকায় সালমা ও শিবলী বসবাস করে আসছিলেন। সম্প্রতি সালমার পারিবারিক দ্বন্দ্ব চরমে উঠলে সালমাই শিবলীকে ডিভোর্সের উদ্যোগ নেন।

সোহানা সাবা-মুরাদ পারভেজ

চলতি বছরের মার্চে অভিনেত্রী সোহানা সাবা ও পরিচালক মুরাদ পারভেজের বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে সাবা জানান, ব্যক্তিগত জীবনে আমি কী করছি, কী ভাবছি, কোথায় যাচ্ছি,পছন্দ-অপছন্দ এগুলো মানুষকে জানাতে পছন্দ করি না।   জানা গেছে মতের অমিল হওয়াতে তাদের এই বিচ্ছেদ।   এরই

শ্যামল মাওয়াল-নন্দিনী

টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ শ্যামল মাওলা। তিনবছরের প্রেম পর্ব শেষ করে বিয়ে করলেন নন্দিনীকে। বিয়ের পর পেরিয়ে গেছে আরো তিন বছর। কিন্তু, দীর্ঘ এই ছয় বছরের সম্পর্কটাও শেষ পর্যন্ত টিকলো না।   নিজেদের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার উল্লেখ করে কারণ হিসেবে কেবল স্ত্রীর সাথে বনিবনা না হওয়াকেই দায়ী করেন তিনি।