বৈশাখী শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সিরাজগঞ্জের তাঁতিরা

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করতে বৈশাখী শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার তাঁত পল্লীর তাঁতিরা। বাহারি রঙ আর বিভিন্ন ছাপে কাপড়ে ফুটে উঠছে বাংলার চিরায়ত রূপ। এসব শাড়ি চলে যাচ্ছে দেশ ও দেশের বাইরে। তবে, তাঁতিরা বলছেন,পুঁজির অভাবে চাহিদা অনুযায়ী শাড়ি উৎপাদন করতে পারছেন না।

পহেলা বৈশাখকে আনন্দ মুখর ও রাঙিয়ে তুলতে বৈশাখী শাড়ী তৈরি করতে এখন ব্যস্ত রাতদিন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার তাঁতিরা। বাঙালি নারীদের সাজাতে বৈশাখী শাড়ীতে রং আর ছাপে ফুটে উঠছে ঢাক-ঢোল, একতারা, হাতপাখা, কুলা, দোয়েল পাখিসহ বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্য। এসব শাড়ি এখান থেকে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বিদেশেও।

কারিগররা জানান, অন্যান্য বারের তুলনায় এ বছর কাজের চাপ অনেক বেশি। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করার জন্য প্রয়োজনীয় লোক পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বছর শাড়ির চাহিদা বেশি হলেও পুঁজির অভাবে পর্যাপ্ত শাড়ি উৎপাদন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ তাঁত মালিকের।

সনি শাড়ির স্বত্বাধিকারী শামছুল হক বলেন, ‘সরকার আমাদের যদি ঋণ দিতো তাহলে আমরা আরো আগে থেকে আরো বড় করে কাজটা করতে পারতাম।

শিল্পটির আরো প্রসার ঘটাতে তাঁতিদের সহযোগিতা আশ্বাস দিলেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের জুনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জিহাদ আল ইসলাম।

সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন তাঁত পল্লীতে তৈরি বৈশাখী শাড়ি সর্বনিম্ন একশ’ পঞ্চাশ টাকা থেকে তিন হাজার টাকায় পাইকারি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

এক বছর পর পপি

অনেক দিন ধরেই সিনেমার পর্দায় নেই চিত্রনায়িকা পপি। বিরতি কাটিয়ে পর্দায় ফিরছেন এই নায়িকা। আগামী মে মাসে মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত চলচ্চিত্র ‘সোনাবন্ধু’। ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন ডি এ তায়েব।

এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক বছর পর প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে পপিকে। সিনেমাটির পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম সুমন বলেন, ‘এরই মধ্যে চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্রসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ শেষ হয়েছে। এবার তারিখ চূড়ান্ত করে সিনেমাটি মে মাসে মুক্তি দেয়া হবে।’

ছবিটিতে এক বিধবা নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন পপি। এ নায়িকাকে গত বছরের মে মাসে ‘পৌষ মাসের পিরিতি’ ছবিতে সর্বশেষ দেখা গেছে।

আলিয়ায় মুগ্ধ হাশমি

বলিউড পাড়ায় ভাট পরিবারের দাপুটে বিচরণ অনেক আগে থেকেই। অভিনেতা, অভিনেত্রী, পরিচালক, প্রযোজক কী নেই তাদের পরিবারে! ভাট কন্যা আলিয়া তো পুরো বলিউড কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। শিশু চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বলিউড অঙ্গনে পা রাখা আলিয়া এরই মধ্যে ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন।

তবে হাইওয়েতে স্টকহোম সিনড্রোমে আক্রান্ত কিশোরীর চরিত্রে অভিনয় দিয়েই সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।

এবারে আলিয়া বন্দনায় মেতেছেন ‘আজহার’ অভিনেতা ইমরান হাশমি। নতুন একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করছেন তিনি। সেখানেই আলিয়ার অভিনয়ে মুগ্ধ হাশমি তাকে বিস্ময় বলে মন্তব্য করেছেন। হাশমি জানান, ‘আলিয়া অসাধারণ উঠতি অভিনয়শিল্পী। যতো রকমের উপমা আছে তার সবটাই তার জন্য প্রযোজ্য। ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ দেখতে পারিনি, তবে এখন তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হচ্ছি।’

বেনামি একটা চলচ্চিত্রের প্রযোজনা করছেন ইমরান হাশমি। চলচ্চিত্রটির মুক্তি সম্পর্কে তিনি জানান, ‘চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে যতোটা সময় দরকার তা দিতে হবে। এ জন্য যদি এ বছর পুরোটা লেগে যায় তাতেও কোনো আপত্তি নেই।’

তিনি মনে করেন, একজন অভিনেতার পক্ষে চলচ্চিত্রে নিজের দেয়ার জায়গাটা সীমিত। তবে একজন প্রযোজক যত্ন নিয়ে কোনো চলচ্চিত্রকে বিভিন্ন আকৃতি দিতে পারেন। তুলে ধরতে পারেন অনেক কিছুই। প্রযোজক হাশমি তার চলচ্চিত্রে কী তুলে ধরেন এবার সেটাই দেখার অপেক্ষায় বলিউডপ্রেমীরা।

অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থাকাটা জরুরি: দিলারা জামান

‘অনেকেই এ মাধ্যমে এসে দেখি অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা পেতে চায়। সেক্ষেত্রে তারা সাংবাদিকদের কাছ থেকেও এক ধরনের সহযোগিতা পায়। আসলে সত্যি করে বলতে কি অনেকের মধ্যেই অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসাটা কম দেখি। এটাও ঠিক তারা আসলে স্থায়ী না। তারা আসবে আবার চলেও যাবে। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থাকাটা জরুরি। চেহারার যে সৌন্দর্য সেটি মানুষের মনে বেশিদিন দাগ কাটতে পারে না। স্থায়ীও হয় না। যারা এখনো আমাদের কাছে স্মরণীয় তারা কিন্তু সৌন্দর্যের জন্য নয়, অভিনয়ের জন্যই তারা স্মরণীয়।’
তরুণদের অভিনয় প্রসঙ্গে এমনটাই বললেন গুণী অভিনেত্রী দিলারা জামান।

শুটিং ফাঁসানোর দায়ে বাদ পড়লেন সারিকা

মডেল অভিনেত্রী সারিকার বিরুদ্ধে শুটিং কিংবা শিডিউল ফাঁসানোর অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অনেকের শিডিউল ফাঁসিয়েছেন তিনি।

মাঝে বিয়ে করে সংসারী হয়ে মিডিয়ায় কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের তিন বছরের মাথায় ডিভোর্স হয়ে যায়। তাই আবারও মিডিয়ায় ব্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ফিরতি যাত্রায়ও তার পুরনো অভ্যাস পরিবর্তন হয়নি।

সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনের কাজ করতে গিয়ে শুটিং ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। গত ৫ এপ্রিল থেকে মানিকগঞ্জে রাঙাপরি মেহেদির নামে একটি প্রসাধনী পণ্যের বিজ্ঞাপনের শুটিং করার কথা ছিল তার। সেদিন সকাল ৬টা থেকে শুটিং শুরু করার কথা থাকলেও আগেরদিন অর্থাৎ ৪ এপ্রিল রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সারিকার মোবাইল বন্ধ ছিল। উপায়ন্তর না দেখে বিজ্ঞাপনটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মুসলিম কসমেটিকস অ্যান্ড হারবাল কেয়ার বিপাকে পড়ে নিজেদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সারিকাকে বাদ দিয়ে তাৎক্ষনিকভাবে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাকে কাস্ট করে। নির্দিষ্ট দিনে পূর্ণিমাকে নিয়েই শুটিং শুরু হয়।

এরপর সারিকা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ এনে স্ট্যাটাস দিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত জানতে চান।

এ বিষয়ে অনুসদ্ধান করে জানা গেছে, মূলত শুটিং ফাঁসানোর অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতেই সারিকা ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। কারণ ৪ এপ্রিল রাত ১টা ৪৩ মিনিটে তিনি মানিকগঞ্জে গিয়ে শুটিং স্পট খুঁজেছেন- এ মর্মে প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার মাসুম সরকারকে মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ দেন। ততক্ষণে প্রযোজনা সংস্থা তাদের সিদ্ধান্ত বদলে পূর্ণিমাকে কাস্ট করে ফেলেছেন। নিজের অপরাধের বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই সারিকা ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বলে মাসুম সরকার জানান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রোডাকশন থেকে কেউ যদি তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিত তাহলে তিনি রাত পৌনে দুইটায় স্পটে গেলেন কেন? তার তো আগে থেকেই কাজটি ছেড়ে দেয়ার কথা! একজন শিল্পীর কাছ থেকে এমন অপেশাদার আচরণ মোটেও কাম্য নয়।’

সারিকা যে নিজের অপরাধ ঢাকতে ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন সে সংক্রান্ত প্রমাণাদিও যুগান্তরের কাছে রয়েছে। বিজ্ঞাপনটিতে চিত্রনায়ক ইমনও অভিনয় করেছেন।

তিনিও সারিকার শুটিং ফাঁসানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘ক্লায়েন্ট শুটিংয়ের আগের দিন রাত দেড়টা পর্যন্ত সারিকাকে না পেয়ে তাদের সিদ্ধান্ত বদল করেছেন। অনৈতিক প্রস্তাবের কোনো কিছুই ইউনিটে ঘটেনি।’

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলো জয়ার ‘বিসর্জন’

ভারতের ৬৪তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নিয়েছে জয়া আহসান অভিনীত ‘বিসর্জন’। শুক্রবার (৭ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সেরা বাংলা ছবি বিভাগে এ পুরস্কার জিতেছে ছবিটি। কৌশিক গাঙ্গুলি পরিচালিত এ ছবিতে জয়ার সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন আবির চ্যাটার্জি।

এ বিষয়ে জয়া আহসান তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। এতে তিনি লিখেন, “ভারতের জাতীয় পুরস্কার জিতে নিয়েছে ‘বিসর্জন’। সেরা বাংলা ছবির বিভাগে এ পুরস্কার জিতেছে ছবিটি। আমরা খুশি। আমরা আনন্দিত। এ আনন্দ তোমাদের সঙ্গে ভাগ করে নিলাম।”

এক বিধবা বাংলাদেশি মেয়ের সঙ্গে এক ভারতীয় পুরুষের প্রেম নিয়ে সাজানো হয়েছে ‘বিসর্জন’-এর কাহিনী। সীমান্ত টেনে যে প্রেমকে ভাগ করা যায় না তা দেখানো হয়েছে বলে জানান নির্মাতা কৌশিক গাঙ্গুলি।

ছবিটির সংগীতায়োজন করেছেন দোহারের কালিকা প্রসাদ। অপেরা মুভিজের ব্যানারে নির্মিত ‘বিসর্জন’ আগামী পয়লা বৈশাখ মুক্তি পাবে বলেও জানা গেছে।

আমিরকে না বলে দিলেন আলিয়া!

অভিনয়ে দারুণ নৈপুণ্যতার কারণে বলিউডের মি. পারফেকশনিস্টের খেতাব পেয়েছেন আমির খান। চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে ভিন্নভাবে হাজির করাই তার কাজ।

আমির খানের সিনেমা মানেই সুপার হিট। কোটি কোটি টাকা আয় করে তার সিনেমা। আর সিনেমা থেকে তার পারিশ্রমিক কত হতে পারে তা ধারণারও বাইরে।

আমিরকে বলা হয় বলিউডের বক্স অফিস কিং। তার বিপরীতে সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সবাই মুখিয়ে থাকেন। আমির খানের সঙ্গে অভিনয়ের মাধ্যমে যদি বলিউডে ভালো একটা পজিশন দাঁড় করানো যায় সেই সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন নায়িকারা।

তবে সেই আমির খানের সঙ্গে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিলেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট।

আমির খানের পরবর্তী সিনেমা ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’ এ নায়িকা হিসেবে আলিয়াকে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন আমির খান। তবে ওই সিনেমায় অভিনয়ে কোনো আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন আলিয়া।

সিনেমাটি প্রযোজনা করবে বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যশ রাজ ফিল্মস।

‘থাগস অব হিন্দুস্তান’ সিনেমায় নায়িকার ভূমিকা খুব বেশি নেই। এ কারণেই ওই সিনেমায় অভিনয়ে কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন আলিয়া।

ডেকান ক্রনিকালের খবরে বলা হয়, আমির খানের সঙ্গে কাজ করতে অবশ্যই আগ্রহী আলিয়া। তবে যেখানে নায়িকার চরিত্র ছোট সেখানে তিনি অভিনয় করতে রাজি নন।

এর আগে শ্রদ্ধা কাপুর ও বাণী কাপুরকে এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তারাও সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।

‘ভাবতে পারিনি এতো তাড়াতাড়ি সিনেমার নায়িকা হয়ে যাবো’

‘তুমি না ওই রাস্তা দিয়ে আসো, আসি না আমি ওখানেই থাকি…’  রিন ওয়াশিং পাউডারের এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছোট্ট পূজা বেশ পরিচিতি পান। কেননা বিজ্ঞাপনটি এতোবেশি প্রচার হতো যে না দেখে থাকার উপায় নেই। ‘আসি না আমি ওখানেই থাকি’র সংলাপ আওড়ানো মেয়েটিই পূজা চেরি। ছোট্ট পূজা বড় হয়েছেন, হচ্ছেন। পড়েন ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুলে নবম শ্রেণিতে। কিন্তু তাই বলে নায়িকা? হুম, পূজা এখন জাজ মাল্টিমিডিয়ার সিনেমার নায়িকা। সাইমন-মাহির ‘পোড়ামন’ ছবির সিক্যুয়েল পোড়ামন-২ তে অভিনয় করবেন পূজা চেরি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূজাকে নায়িকা হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি চমকে উঠেছিলেন। কেন চমকে উঠেছিলেন? আপনি কি জানতেন না যে আপনিই পোড়ামন-২ ছবির নায়িকা হতে যাচ্ছেন? পূজা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি কল্পনাই করিনি যে আমি নায়িকা হতে যাচ্ছি। তাছাড়া তাড়াতাড়ি নায়িকা হবো এটা কল্পনা করি নি। নায়িকা হবার ইচ্ছা তো আছেই।   আমি একজন ভালো অভিনেত্রী হতে চাই। এই ইচ্ছা তো লালন করেই আসছি। কিন্তু স্বপ্নপূরণ এতোদ্রুত ঘটবে ভাবতে পারিনি। এতো তাড়াতাড়ি বড় পর্দার নায়িকা হয়ে যাবো ভাবতে পারিনি। সবকিছু এখনো কল্পনার মতো মনে হচ্ছে। ‘

আপনি জানেন না ছবিতে কাজ করবেন  কি না, অথচ আপনার নাম ঘোষণার সাথে সাথে আপনি দ্বিমত পোষণ করলেন, কিংবা কেন রাজি হয়ে গেলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে পূজা বলেন, আসলে আজ আজিজ ভাইয়ের জন্মদিন ছিল এজন্যই আমন্ত্রণ পেয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এসে তো আমি সারপ্রাইজড। যেহেতু অভিনেত্রী হবার মানসিকতা আমার রয়েছে সেহেতু না করার কোনো প্রশ্নই নেই।

 

আপনি কি মাহির স্থান পূরণ করতে পারবেন?  এই প্রশ্নের জবাবে পূজা কালের কণ্ঠকে বলেন, আমি এখনো অনেক ছোট।   আমি চেষ্টা করবো আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে অভিনয় করার। আমি ভালোটা দিতে চাই। আমি যেহেতু স্বপ্নপূরণের পথে হাঁটছিলাম সেহেতু আমি ভালো করবোই। আমার চেষ্টার ত্রুটি হবে না। এর আগেও আমি অনেকগুলো ছবিতে কাজ করেছি। কখনো জিতের ছোটবোন, কখনো মাহির ছোটবেলার দৃশ্যে সেহেতু আমি সাবলীল্ভাবে আমার বেস্ট কাজটা করতে পারবো বাকিটা দর্শকদের বিবেচনায় ছেড়ে দিতে হবে।

‘পোড়ামন ২’ ছবির শুটিং শুরু হবে ২৪ এপ্রিল থেকে সিলেটে। টানা ৪৫ দিনের শুটিং-এ নির্মাণ কাজ শেষ হবে ছবিটির। নায়ক রোশানের বিপরীতে অভিনয় করবেন পূজা চেরি।

বন্ধ হয়ে গেছে পূর্ণিমা সিনেমা হল

বন্ধ হয়ে গেল রাজধানীর কাওরানবাজারে অবস্থিত পুরনো সিনেমা হল পূর্ণিমা। সম্প্রতি সিনেমা হলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আগামী বছর থেকে এখানে নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু হবে। গত মাসের ৩১ তারিখ সব স্টাফকে পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকালের শো চালানো হয়, তারপর থেকে সিনেমা হলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ১৮তলা দুটি কমার্শিয়াল বিল্ডিং হবে। তবে এখানে কোনো সিনেপ্লেক্স থাকবে না।

এদিকে পূর্ণিমা সিনেমা হলের মালিক জানায়, টিকিট বিক্রির টাকা দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতনও দেওয়া যায় না। এছাড়া অন্যান্য বিল যেমন-গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিলের টাকাও পরিশোধ করা সম্ভব হতো না। তাই বাধ্য হয়েই হলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, পূর্ণিমা হলের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৮  সালে। বাংলা চলচ্চিত্রের সাড়া জাগানো অভিনেত্রী শাবানা, অভিনেতা আলমগীর ও জসিমের ‘বিশ্বাসঘাতক’ ছবির মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়েছিলো।

বিষণ্ণতা একটি মানসিক রোগ

গতকাল ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- আসুন ডিপ্রেশন নিয়ে কথা বলি। ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা একটি গুরুতর মানসিক ব্যাধি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় দেখা যায়, ডিসএবিলিটি এডজাস্টেড লাইফ ইয়ার অনুযায়ী পৃথিবীতে সবচেয়ে কর্ম অক্ষম করা রোগের মধ্যে বর্তমানে বিষণ্ণতার অবস্থান তৃতীয়। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এটির অবস্থান হবে দ্বিতীয়। আত্মহত্যার অন্যতম কারণ ডিপ্রেশন। বাংলাদেশেও ডিপ্রেশনের রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। কয়েক বছর আগের গবেষণায় এ হার ছিল ৪.৬ শতাংশ। বর্তমান গবেষণায় এটি প্রায় ১২ শতাংশ। দেশে প্রতিদিন প্রায় ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করে। বিষণ্ণতায় ভোগা বেশিরভাগ রোগী শারীরিক সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে হাজির হয় বলে রোগ সহজে শনাক্ত হয় না ও সঠিক চিকিৎসা পায় না। তাই ডিপ্রেশন নিয়ে আলোচনা জরুরি।

আমরা প্রাকটিসে প্রচুর বিষণ্ণতার রোগী পাই। তেমন দুটি রোগীর কাহিনী লিখছি যাতে পাঠক এ রোগের ধরণ, লক্ষণ ও করণীয় সম্পর্কে জানতে পারেন।

‘কষ্ট শুধু মনে থাকে না/এটি শরীরের কোষে কোষেও ঢুকে পড়ে’

আমরা মনে করি ডিপ্রেশন মানে রোগী এসে সরাসরি মনের কষ্ট, অশান্তির কথা বলবে। বেশিরভাগ ডিপ্রেশনের রোগীরা ডাক্তারের কাছে যায় শারীরিক সমস্যা নিয়ে। এ জন্য অনেক ডাক্তার প্রথম দিকে এটি যে মানসিক রোগ সেটি ধরতে পারেন না। প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় সবকিছু নরমাল দেখে আপনার কোনো রোগ নেই বলে স্যালাইন, ভিটামিন, ঘুমের ওষুধ রোগীকে দেন। রোগী এতে সুস্থ হয় না। আরও খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে রোগী বা তার আত্মীয়রা নিজেরাই বুঝে ব্রেইনের ডাক্তার-মানসিক রোগের ডাক্তার দেখাতে হবে ততদিনে রোগ অনেক অগ্রসর পর্যায়ে চলে গেছে। কোন কোন রোগী আত্মহত্যা করে বা অকর্মণ্য হয়ে পড়ে।

কাহিনী সংক্ষেপ : রোগিনী ওয়াহিদা, বয়স ৩০। বিয়ের পর স্বামী আরেকটি বিয়ে করে। তাদের তালাক হয়নি। একটি ছেলে আছে, সেও মার সঙ্গে থাকে। দিনে আনে দিন খায় অবস্থা। অনেকদিনের রোগ। অনেক চিকিৎসা করানো হয়েছে (অ্যালোপ্যাথি, কবিরাজি)। কিন্তু রোগের উপশম হয় না।

রোগীর ভাষায় সমস্যা : শরীর কাঁপে, মাংস লাফায়, চুলে বিড় বিড় করে, ঘুম কম, মাথা ঝাঁকুনি দেয়, হাত মোচড়ায়, গলায় কী যেন উঠে যায়, পেট মোড়া দেয়, জ্বর আছে, পায়খানা কষা, বালিশের সঙ্গে মাথা লাগাতে পারি না, বুক ব্যথা, শরীরে জ্বালা-পোড়া, রূহ বাইড়া-বাইড়ি করে, ক্ষিধা নেই, ঘুম নেই, রাতে আজেবাজে স্বপ্ন দেখে চিৎকার দিয়ে উঠি, বুক ধড়ফড় করে, পেট ভুর ভুর করে ডাকে- ইত্যাদি।

আরও কী সমস্যা জানতে চাইলে রোগী বলে : হাহুতাশ লাগে, কাজ করতে পারি না, জ্ঞান নেই, কিছু বুঝি না, কীভাবে কাজ করব তাও বুঝি না, ঘোরাঘুরির মধ্যে থাকি, আনন্দ লাগে না, এর কাছে ওর কাছে যাই কিন্তু কোথাও শান্তি পাই না, কি যেন হারিয়ে ফেলেছি, বেশি কথা বলি (আল্লাহ আল্লাহ বলি, অসুখ ভালো হবে না ইত্যাদি বলি)।

আমাদের যা শেখার রয়েছে

* ডিপ্রেশনের রোগীরা নানাবিধ শারীরিক লক্ষণ নিয়ে হাজির হতে পারে। মনের কথা, মনের ব্যথা শরীরের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়।

* পরীক্ষায় কিছু পাওয়া যায়নি, তাই কোনো রোগ নেই এমনটি বলা অজ্ঞতার পরিচয়। সব ডাক্তারের মনে রাখতে হবে কোনো লক্ষণই তথাকথিত ভেইগ বা বানানো নয়। রোগের কারণ পাচ্ছেন না বা আপনার পড়া বিদ্যার সঙ্গে লক্ষণ মিলছে না তাই এটি রোগ নয় এমনটি ভাববেন না। মনোরোগ সমন্ধে প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে।

* দরিদ্রতা, পারিবারিক/দাম্পত্য সমস্যা ডিপ্রেশনের একটি বড় কারণ হতে পারে।

* আশার কথা ডিপ্রেশনের কার্যকর ও সফল চিকিৎসা রয়েছে।

‘ছেলে দুটিকে গলা কেটে মেরে নিজে মরতে চাই’

প্রায়ই পত্রিকায় খবর হয় যে মা নিজ সন্তানদের হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছে। আমরা বিস্মিত হই এমনটি কীভাবে সম্ভব? মা কি এত নিষ্ঠুর হতে পারে? কিন্তু সব হত্যা নিষ্ঠুরতা থেকে হয় তা নয়, কিছু হত্যা গভীর ভালোবাসা-মমতা ও করুণা থেকেও হতে পারে।

কাহিনী-১

৩০-৩২ বছরের নারী। দু’সন্তানের জননী। রোগের ইতিহাসও বেশি দিনের নয়, ৬ মাসের। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক দন্দ্ব, সংঘাত বা মনোমালিন্যের তেমন কোনো ইতিহাস নেই। প্রথমবারের মতো চিকিৎসায় এসেছেন, তাও স্বামীর অনেক পীড়াপীড়ির পর। ইতিহাস ও মনস্বতাত্ত্বিক অবস্থা পরীক্ষা করে বুঝতে পারলাম তিনি গভীর বিষণ্ণতায় ভুগছেন।

রোগ কাহিনী বলতে গিয়ে তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। তিনি বলতে লাগলেন ওদেরকে (দু’ছেলে) গলা কেটে নিজে মরতে চাই কিন্তু সাহসে কুলায় না/(আমি প্রফেশনাল অভিজ্ঞতা থেকে জানতাম কেন মায়েরা আত্মহত্যার আগে সন্তানকেও হত্যা করে) তবুও তার বেলায় ব্যাখ্যাটি কী তা জানতে প্রশ্ন করলাম- এরা আপনার আপন সন্তান না? কীভাবে নিজ হাতে তাদের মারতে চান? কেন মারতে চান? তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন আমি না থাকলে এরা কেমনে বাঁচবে, এদের কষ্টের মধ্যে রেখে কীভাবে মরব? আমি জানতে চাইলাম, এদের মারলে এরা কষ্ট পাবে না? এটা সহ্য করবেন কীভাবে?

তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন- এরা তো কষ্টে থাকবে (তার মানে তিনি না থাকলে এরা কষ্টে থাকবে এ চিন্তাটিই বারবার বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে, অন্য বিষয়গুলো তেমন স্পষ্টভাবে অনুধাবনে আনতে পারছেন না)। উল্লেখ্য, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতেও তিনি আগ্রহী ছিলেন না। কী হবে ডাক্তার দেখিয়ে, এসব কথা কি বলা যায়- ইত্যাদি তাৎক্ষণিক কিছু কাউন্সিলিং করে ওষুধ দিয়ে ৩ দিন পর দেখা করতে বললাম (তারা হাসপাতালে ভর্তি হতে রাজি হচ্ছিলেন না)। সঙ্গে সুইসাইডাল সাবধানতা মানতে। ১৫ দিনের মাথায় রোগী অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠলেন।

এখন সন্তান হত্যার কথা মনে করিয়ে দিলে যারপরনাই লজ্জায় পড়ে যান এবং জীবনে কখনও এরকম কুচিন্তা মাথায় আনবেন না বলে জানান।

কাহিনী-২

৩ বছর আগের কথা- এক তরুণীকে মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় চেম্বারে আনা হয়। সব জেনে, পরীক্ষা করে বুঝলাম একুউট সাইকোসিসে ভুগছে। কাহিনী সংক্ষেপ হল তার ইমেডিয়েট বড় ভাই মাদকাসক্ত ছিল। অনেক চিকিৎসায়ও তেমন উন্নতি হয়নি। সে বিভিন্ন অপরাধী গ্রুপের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। আর্থিক টানাটানি, পুলিশের হয়রানি, প্রতিপক্ষের হামলা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, মানসিক অবসাদ সব মিলিয়ে তার ভাই বিষণ্ণতাসহ নানাবিধ মানসিক সমস্যায় ভুগত। তাকে সবাই ঘৃণা করত, এমনকি মা-বাবাও। তার একমাত্র সহকর্মী ও সঙ্গী ছিল এ ছোট বোনটি। সেই তাকে আগলিয়ে রাখার চেষ্টা করত কিন্তু বশে আনতে পারেনি। প্রায়ই সে বোনকে আত্মহত্যার কথা বলত, কিন্তু বোনটি তাকে সাহচর্য ও মমতা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করত। তবে কোনো মনোচিকিৎসকের কাছে নেননি। একদিন রাতে ভাইটি খুবই অস্থির হয়ে উঠল।

বোনকে বারবার বলতে লাগল চল আমরা দু’জনে আত্মহত্যা করি, তুইও আমার সঙ্গে থাক। বোনটি অনেক কাকুতি মিনতি করে। কিন্তু তার অস্থিরতা কাটে না। অবশেষে সে প্রস্তাব দেয় চল বাইরে যাই, ঘুরলে হয়তো মন ভালো হবে।

তখন রাত ৩টা- ভাইয়ের শোচনীয় অবস্থা চিন্তা করে সে যেতে রাজি হয়। তাদের বাসা ছিল বুড়িগঙ্গা সেতু-২ এর কাছে।

এই গভীর, অন্ধকার রাতে দু’ভাই-বোন সবার অগোচরে বুড়িগঙ্গা সেতুতে পায়চারী করতে লাগল। বোনটি ভাইকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সে বলে তোকে আমি অনেক ভালোবাসি চল একসঙ্গে মরে যাই, কী হবে এ পৃথিবীতে বেঁচে থেকে। এভাবে মিনিট ১৫ হাঁটাহাঁটি করে তার ভাই একটি পিলারের খুব কাছে গিয়ে উঁকি মারে। পরক্ষণে সে ঝাঁপ দিয়ে নদীতে পড়ে। একটি মাত্র ঝপাত শব্দ। বোনটি চিৎকার করতে করতে পাশের বাড়িতে ঢুকে পড়ে পাগলামী করতে থাকে। তারপর তো সব ইতিহাস (আত্মহত্যার আগে খুব কাছের জনকেও অনেকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চায়, এটি তার আরেকটি উপাখ্যান) আমি চাঁদপুরে শুক্রবারে চেম্বার করতে যাই। সেই সেতুর নিচ দিয়েই যেতে হয়। ঘটনাটি আমাকেও এতটুকু স্পর্শ করেছে যে প্রতিবার সেতুর কাছ দিয়ে গেলে সে বিভৎস্য স্মৃতির কথা মনে পরে (ডাক্তাররাও মানুষই তো)।

লেখক : মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা

সারফারোশ-২ এ থাকছে না আমির খান

বলিউডে সিক্যুয়েল নতুন কিছু নয়। কখনও পুরানো ছবিতে নতুন মোড়কে আনা হচ্ছে। কখনও আগের সেই ছবিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পরের ছবিতে। প্রায় ১৮ বছর আগের একটি ছবি। আমির খানের সারফারোশ। অনেকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল সেই ছবির সিক্যুয়েল হবে। সেই কাজে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন পরিচালক ম্যাথু ম্যাটহান। কিন্তু সবচেয়ে বড় যেটা চমক, তা হলো সেই ছবিতে আমির খানই থাকছেন না।

তখন ছবিটি বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছিল। আমিরের সঙ্গে ছিলেন সোনালি বেন্দ্রে, নাসিরুদ্দিন শাহ। এখনও ছবিটি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চর্চা হয়। আমিরের সেরা ছবিগুলির অন্যতম হিসেবেই ধরা হয়। সেই ছবিতে আমির থাকছেন না!‌ পরিচালক জানালেন, তিনি কমবয়সী কাউকে নিয়ে কাজ করতে চান।

সূত্রের খবর, চার বছর আগে আমির নিজেও ছবিটি নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। সিক্যুয়েল হলে তিনি কাজ করতে পারেন, এমন ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি খুব বেছে বেছে ছবি করেন। বছরে একটির বেশি ছবি করেন না। এমনকি যে নায়িকাদের সঙ্গে একবার কাজ করেছেন, সেই নায়িকার সঙ্গে আবার জুটি বাঁধতেও রাজি নন। সেই কারণেই সারফারোশ সম্পর্কেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তাছাড়া সারফারোশে যে ধরনের মারামারির দৃশ্য ছিল, সেটা সেই বয়সের আমিরের পক্ষে মানানসই ছিল। সিক্যুয়েল হলে সেখানে তাঁকে পুলিশ অফিসারের চরিত্রেই থাকতে হবে, সেই অ্যাকশন থাকবে। যা তিনি আর করতে চাইছেন না।

সিডির বিকল্প এখনও কিছু ভাবতে পারি না: ন্যান্সি

ভেতর বলে দূরে থাকুক বাহির বলে আসুক না- এ গানই ন্যান্সিকে শ্রোতার হৃদয়ে আসন গেড়ে দিয়েছে। জন্মসূত্রে যশোরের মেয়ে হলেও বেড়ে উঠেছেন নেত্রকোনায়। পুরো নাম নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। মা জ্যোৎস্না হক ছিলেন শখের শিল্পী। মায়ের কাছে ন্যান্সির গানের হাতেখড়ি। অডিওর পাশাপাশি প্লেব্যাকেও পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। সমসাময়িক সঙ্গীতের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে এক আড্ডায় ভাগাভাগি করে নিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতা।

কখন থেকে গানের প্রতি আকৃষ্ট হলেন?

ছোটবেলা থেকে কখনই আমার গানের প্রতি ভালোলাগা কিংবা ঝোঁক কোনোটিই ছিল না। একরকম জোর করেই মা আমাকে দিয়ে রেওয়াজ করাতেন। বড় হওয়ার পর কখন যে গানের প্রতি প্রেম জন্মায় সেটি নিজেও বলতে পারব না।

আজকের ন্যান্সি হয়ে ওঠার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?

শিল্পী ন্যান্সি হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের। সব সময় সবকিছুতে ছায়ার মতো থাকেন। আর বাবা যা করেছেন তা ছিল নীরবে। সবসময় আড়ালে থাকতেন তিনি। কখনও আমার কোনো কিছুতেই বেশি আগ্রহ দেখাতেন না। মাঝে মাঝে খারাপ লাগত। কিন্তু বাবার প্রতি এমন ধারণা ভেঙে যায়, যখন দেখি আমাকে নিয়ে যত নিউজ হয়েছে, সব পেপার কাটিংগুলো তিনি সযত্নে রেখে দিয়েছেন।

পহেলা বৈশাখে নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন…

তিনটি গান নিয়ে শুনতে চাই তোমায় শিরোনামে একটি একক অ্যালবাম প্রকাশ করব। মূলত বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রকাশ করছি। এটি আমার পঞ্চম একক অ্যালবাম। অনলাইন এবং সিডি দুই মাধ্যমেই প্রকাশ পাবে নতুন অ্যালবামটি।

গানগুলো কার লেখা কিংবা সুর সঙ্গীত কারা করেছেন?

অ্যালবামে তিনটি গান থাকছে। গানগুলো লিখেছেন জাহিদ আকবর। সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন ইমন চৌধুরী।

বর্তমানে সবাই অনলাইনে গান প্রকাশ করছেন। কিন্তু আপনি অনলাইনের পাশাপাশি সিডি আকারেও প্রকাশ করছেন, কারণ কী?

আমি সবসময় সিডি আকারেই গান প্রকাশে আগ্রহী। সিডির বিকল্প এখনও কিছু ভাবতে পারি না। আমার কাছে গান শোনা মানে সিডি প্লেয়ারেই শুনতে হবে। তাই সিডির ব্যাপারে আমার আগ্রহ একটু বেশি।

তাহলে কি পরবর্তীতে যত অ্যালবাম প্রকাশ করবেন সেগুলো সিডি আকারেই পাবেন শ্রোতারা?

এটা শুধু আমার ওপর নির্ভর করে না। মার্কেটের অবস্থা বুঝে কাজ করতে হয়। কোম্পানি যেটা ভালো মনে করবে সেটাই করবে। সবচেয়ে বড় কথা, সবাই ব্যবসা করতে এসেছেন। এখন দেখতে হবে তারা আমার ওপর কতটা আস্থা রাখতে পারেন। পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে প্রেক্ষাপটের ওপর।

এ অ্যালবামের কোনো গানের মিউজিক ভিডিও করার পরিকল্পনা আছে?

আমি মিউজিক ভিডিও করার ব্যাপারে একদমই আগ্রহী নয়। তাই নতুন গান নিয়ে এখনও কোনো মিউজিক ভিডিওর পরিকল্পনা করিনি।

এখন তো অনেকেই ভিডিও নির্মাণে আগ্রহী। আপনি এর বিপক্ষে?

আমার কাছে মনে হয় একজন শিল্পীর কাজ কণ্ঠের। শিল্পীদের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া উচিত তাদের কণ্ঠে। ভিডিওতে মনোযোগ দেয়া কোনোভাবেই জরুরি নয়। গান গাইলে শ্রোতারা অডিও শুনবেন না, কিন্তু ভিডিও দেখলে শুনবেন, এটা আমি বিশ্বাস করি না। এখন যেহেতু তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে, শ্রোতারা গানের পাশাপাশি ভিডিও দেখতে চান সে কথা মাথায় রেখে মিউজিক ভিডিও তৈরি করা যায়। এটাকে খারাপ বলছি না।

একটি গান শ্রোতাপ্রিয় হওয়ার জন্য সেটার কথা কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন?

কথা-সুর-গায়কী কোনোটিই ফেলে দেয়ার মতো নয়। যদি একটি গানের কথা খুব সুন্দর হয়, কিন্তু আবেদন দিয়ে গাইতে পারলেন না শিল্পী, আবার দুটিই ঠিক হল কিন্তু সুর গানটাকে প্রাণ দিতে পারল না, তাহলেও গানটা ভালো হবে না। তাই আমার কাছে মনে হয় একটি আরেকটির পরিপূরক। কোনোটিকেই বাদ দেয়া যাবে না।

স্টেজ শো’র কী অবস্থা?

প্রতি সপ্তাহে একটি করে স্টেজ শো করি। তাতেই আমার কাছে বেশি মনে হয়। তাই সবকিছুই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখি।

সব শিল্পীই দেশের বাইরে শো করতে যান। কিন্তু আপনাকে সেভাবে দেখা যায় না, কারণ কী?

দেশের বাইরে শো করতে যেতে আগ্রহী নই আমি। ৫-৬ বার দেশের বাইরে শো করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। যেটি খুব বেশি সুখকর নয়। বাইরে আয়োজক যারা থাকেন, তারা দেশের আয়োজকদের মতো লেনদেনে ততটা স্বচ্ছ নন। আমি স্পষ্ট কথা বলি, এ জন্য অনেকেরই অপছন্দ।

সিনেমার গানেও নিয়মিত নন। কারণ কী?

সিনেমার গান কমিয়ে দেইনি। বর্তমানে ফিল্মে যারা লগ্নি করছেন, সবার ঝোঁক এখন কলকাতার দিকে। যখন তারা কলকাতামুখী হচ্ছেন, তারা চিন্তা করেন, কেন একজন দেশি শিল্পীকে ৪০-৫০ হাজার টাকা দিয়ে গান করাব। যেখানে কলকাতার একজন শিল্পী দিয়ে গান করানো যাচ্ছে একই পারিশ্রমিক দিয়ে। তা ছাড়া দেশে হাতেগোনা কয়েকজনকে দিয়ে তারা গান করান।

সঙ্গীত জীবনের বড় প্রাপ্তি কী?

সঙ্গীত ক্যারিয়ারে অনেক কিছু পেয়েছি। আবার অনেক কিছু হারিয়েছি। তবে খুব কম বয়সে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।

আগামীর পরিকল্পনা কী?

প্ল্যান করে কিছু করি না। আজ প্ল্যান করব কাল সেটা কার্যকর করতে না পারলে আপনারাই বলবেন, কই অনেক কিছুই পরিকল্পনা করেছেন, কিন্তু ফলাফল নেই। তাছাড়া আমার পরিকল্পনা করে কিছু হয়ও না।