Tag Archives: Fashion & Lifestyle

প্রেগন্যান্ট? আম খাওয়ার সময় মেনে চলুন এগুলো

সারা গরম কাল আম উপভোগ করার সময়। সুস্বাদু পাকা আম হোক বা মুখরোচক কাঁচা-মিঠে আম। যে কোনও আমই খেতে যেমন ভাল লাগে, তেমনই শরীরের পক্ষেও উপকারী। তবে আপনি যদি প্রেগন্যান্ট হন তা হলে আম খাওয়ার ব্যাপারে কিছুটা সতর্কতা মেনে চলতে হবে। আম খাওয়া এই সময় খুবই পুষ্টিকর হলেও কিছু ঝুঁকি থেকেই যায়। জেনে নিন কী ভাবে সতর্ক থেকে আম খাবেন।

উপকারিতা
আমের মধ্যে থাকে আয়রন যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে, ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে ও ভিটামিন সি রক্তে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের মোকাবিলা করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পটাশিয়াম শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে ও ফাইবার হজমে সাহায্য করে। এ ছাড়াও আমের আরও অনেক গুণ রয়েছে। অন্যান্য ফলের তুলনায় মরসুমি আমে চিনির পরিমাণও বেশি থাকে। ক্যালোরি বেশি থাকার জন্য গর্ভাবস্থার তৃতীয় পর্যায়ে আম খাওয়া খুব জরুরি। এই সময় বেশি এনার্জির প্রয়োজন হয়।

ঝুঁকি
গর্ভাবস্থায় আম খুবই পুষ্টিকর। কিন্তু অনেক সময়ই আম পাকানোর জন্য ক্যালসিয়াম কার্বাইড দেওয়া হয়। যা গর্ভাবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যদি আপনার জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস বা গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ধরা পড়ে থাকে তা হলে আম এড়িয়ে চলাই ভাল। আবার পরিমিত পরিমাণ না খেলে ডায়রিয়া হতে পারে। যা থেকে ডিহাইড্রেশনে ভুগতে পারেন।

কী ভাবে খাবেন
আম রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়। তাই খাওয়ার আগে খুব ভাল করে ধুয়ে নিন। খোসা ছাড়িয়ে নিন ও খোসার গা থেকে সরাসরি আমের শাঁস খাবেন না। সবচেয়ে ভাল হয় যদি কাঁচা অবস্থায় আম কিনে বাড়িতে পাকিয়ে নিতে পারেন। তা হলে রাসায়নিক থাকার সম্ভাবনা কম। পাকা আম কাটার পর ছুরি, হাত ভাল করে ধুয়ে নিন। স্মুদি, জুস বা আমের কোনও ডেজার্ট বানাতে হলে বেশি চিনি মেশাবেন না।

নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে জেনে নিন…

নিজের ভূমিকা ও জটিলতার মাত্রা
যে পদে চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছেন, সে পদে আপনার দায়দায়িত্ব সম্পর্কে খুঁটিনাটি জেনে নিন। বুঝে নিতে হবে কাজের ধরন ও সম্ভাব্য জটিলতা। নয়তো ভালো মাইনে পেলেও পরে কিন্তু ভোগান্তিতে পড়বেন। মনের বিরুদ্ধে যখন সময় কাটবে, তখন কোনো চাকরিই ভালো লাগবে না।
কম্পানির অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য
আপনি নিশ্চয়ই এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে চান না, যেখানে চাকরি ছাড়তে হবে কম্পানির বেহাল দশার কারণে। তাই কম্পানির অর্থনৈতিক অবস্থা আগেভাগেই জেনে নিন।
কম্পানির ব্র্যান্ড ভ্যালু
বাজারে চাকরিদাতার ব্র্যান্ডের মূল্যমানের ওপর আপনার ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ  নির্ভর করে। চলতি বাজারের গড় মূল্যমানের চেয়ে কম হলে অদূর ভবিষ্যতেই এখানে ক্যারিয়ারের ইতি ঘটতে পারে। তাই প্রতিষ্ঠানের খুঁটি শক্তিশালী না হলে বিপদ।
কাজের পরিবেশ
কাজের পরিবেশ ও অফিস সংস্কৃতি বিষয়ে ইন্টারভিউয়ের সময়ই ধারণা পাওয়া যায়। আপনি জিজ্ঞাসাও করে নিতে পারেন। কাজের আদর্শ, উদ্যাপন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মীদের অংশগ্রহণের পরিবেশ সম্পর্কে জেনে নিন। সাধারণ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন আয়োজনের ছবি ও ভিডিও বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এগুলো প্রকাশ করে। তবুও আরো বেশি কিছু বুঝে নেওয়াটা জরুরি।
সুবিধাদি
হিসাব করে দেখুন, কম্পানি যে বেতন ভাতা কিংবা অন্যান্য সুবিধাদি দেবে, এর সঙ্গে বাজারের সামঞ্জস্যতা আছে কি না। কম হলে তা ভালো নয়। আবার খুব বেশি হলেও চিন্তার বিষয়। এও দেখতে হবে, পদোন্নতি মিললে বর্তমান বেতন ভাতার চেয়ে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি কি না।
ব্যক্তিগত জীবন
আপনার চাকরিটা এমন হবে, যেখানে ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে কর্ম জীবনের সংঘাত থাকবে না। যে চাকরি এ দুই জীবনের মধ্যে ঝামেলা পাকিয়ে ফেলে, তাতে যোগ দেওয়ার আগে দ্বিতীয়বার ভেবে নিন।

সেলফি মেকআপ: ছয়টি চম‍ৎকার টিপস

আজকাল প্রায় সবাই সেলফিপ্রেমী, কোনো অনুষ্ঠানে গেলে সবাই ব্যস্ত হয়ে যাই সেলফি তুলতে। সেলফি তুলে সবার আগে সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করার এক ধরনের প্রতিযোগিতাও চলে।

সেলফি সুন্দর করে তুলতে হবে, এটা তো প্রথম শর্ত। আসুন জেনে নেই সেলফি মেকআপ কেমন হবে:
প্রাইমার দিয়ে শুরু করা যাক,

ভালো সেলফির জন্য প্রথম প্রয়োজন মসৃণ ত্বক। মসৃণ ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে অন্য কিছু করার আগেই প্রাইমার লেয়ারের ব্যবহার বুদ্ধিমানের কাজ। এমনকি ফাউন্ডেশন ব্যবহার করার আগেই প্রাইমার ব্যবহার করা উচিৎ।

হাইলাইট
মুখের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো যেমন- নাক, কপাল, চোখ ও গালের মধ্যবর্তী অংশ ও থুতনিতে হাইলাইট করলে ছবিতে নিজেকে অনেক তরুণ ও উজ্জ্বল দেখায়। মূলত হাইলাইট হচ্ছে স্মার্টফোনের একটি ফিচার, কিন্তু ত্বক উজ্জ্বল করতে রিয়েল লাইফেও এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সারাদিন ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল রেখে যখন-তখন সেলফি তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে ক্রিমি হাইলাইটার স্টিকের ব্যবহার করা।

হলুদাভ আবরণ-টিন্টেড পাউডার
হ্যাঁ ঠিক- যখন আপনি জানবেন যে, এখন আপনি সেলফি তুলবেন, তখন মুখের ত্বকে ফাউন্ডেশন লেয়ারের ওপর হলুদাভ বর্ণের টিন্টেড পাউডার ব্যবহার করুন। মুখে টিন্টেড পাউডারের প্রলেপ দিলেই ছবি হয়ে ওঠে উজ্জ্বল। স্মার্টফোনে এটি প্রিলোডেড গোল্ডেন টোনফিচার হিসেবে যুক্ত থাকে।

চোখের চারপাশ
প্রতিটি ছবির জন্য ফ্রেমিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আর চোখের চারপাশে ফ্রেমিং করতে পারলে বেশ সুন্দর সেলফি তোলা সম্ভব। আপার ও লোয়ার ল্যাশলাইনের সঙ্গে কালো রংয়ের আইলাইনার আঁকতে পারলে, সেলফি কিন্তু চমৎকার হয়।

ভ্রু-তেও একটু ছোঁয়া
জানেন কি, যত সুন্দর করে ভ্রু আঁকা যায় সেলফিতে নিজেকে ততটাই সুন্দর দেখানো সম্ভব! ভ্রু-এর কোনো অংশ যদি হালকা থাকে তবে দিয়ে সেখানে মুখের ধরণ অনুযায়ী আই ভ্রু পেনসিল দিয়ে এঁকে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলা যায়। পেনসিল দিয়ে ছোট রেখা এঁকে ভ্রু-এর হালকা অংশ ভরাট করা যেতে পারে।

লিপস্টিক
সবশেষে কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেকআপ আইটেম হচ্ছে লিপস্টিক। সুন্দর সেলফি তুলতে ঠোঁটের রংয়ের লিপস্টিক নিয়ে কাজ করতে হবে। ঠোঁটের রংয়ের চেয়ে একটু গাঢ় টোনের লিপস্টিক ব্যবহার করুন। এতে সেলফিতে দিপ্তীময় হাসি নিয়ে আসতে পারে। ঠোঁটের মেকআপে লিপব্রাশ ব্যবহার করুন।

সঠিক মেকআপে নিজেকে আরও সুন্দর আর আকর্ষণীয় করে তুলুন। পছন্দের সেলফি দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে থাকুন।

বৈশাখী শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সিরাজগঞ্জের তাঁতিরা

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করতে বৈশাখী শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার তাঁত পল্লীর তাঁতিরা। বাহারি রঙ আর বিভিন্ন ছাপে কাপড়ে ফুটে উঠছে বাংলার চিরায়ত রূপ। এসব শাড়ি চলে যাচ্ছে দেশ ও দেশের বাইরে। তবে, তাঁতিরা বলছেন,পুঁজির অভাবে চাহিদা অনুযায়ী শাড়ি উৎপাদন করতে পারছেন না।

পহেলা বৈশাখকে আনন্দ মুখর ও রাঙিয়ে তুলতে বৈশাখী শাড়ী তৈরি করতে এখন ব্যস্ত রাতদিন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার তাঁতিরা। বাঙালি নারীদের সাজাতে বৈশাখী শাড়ীতে রং আর ছাপে ফুটে উঠছে ঢাক-ঢোল, একতারা, হাতপাখা, কুলা, দোয়েল পাখিসহ বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্য। এসব শাড়ি এখান থেকে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বিদেশেও।

কারিগররা জানান, অন্যান্য বারের তুলনায় এ বছর কাজের চাপ অনেক বেশি। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করার জন্য প্রয়োজনীয় লোক পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বছর শাড়ির চাহিদা বেশি হলেও পুঁজির অভাবে পর্যাপ্ত শাড়ি উৎপাদন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ তাঁত মালিকের।

সনি শাড়ির স্বত্বাধিকারী শামছুল হক বলেন, ‘সরকার আমাদের যদি ঋণ দিতো তাহলে আমরা আরো আগে থেকে আরো বড় করে কাজটা করতে পারতাম।

শিল্পটির আরো প্রসার ঘটাতে তাঁতিদের সহযোগিতা আশ্বাস দিলেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের জুনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জিহাদ আল ইসলাম।

সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন তাঁত পল্লীতে তৈরি বৈশাখী শাড়ি সর্বনিম্ন একশ’ পঞ্চাশ টাকা থেকে তিন হাজার টাকায় পাইকারি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

বিষণ্ণতা একটি মানসিক রোগ

গতকাল ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- আসুন ডিপ্রেশন নিয়ে কথা বলি। ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা একটি গুরুতর মানসিক ব্যাধি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় দেখা যায়, ডিসএবিলিটি এডজাস্টেড লাইফ ইয়ার অনুযায়ী পৃথিবীতে সবচেয়ে কর্ম অক্ষম করা রোগের মধ্যে বর্তমানে বিষণ্ণতার অবস্থান তৃতীয়। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এটির অবস্থান হবে দ্বিতীয়। আত্মহত্যার অন্যতম কারণ ডিপ্রেশন। বাংলাদেশেও ডিপ্রেশনের রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। কয়েক বছর আগের গবেষণায় এ হার ছিল ৪.৬ শতাংশ। বর্তমান গবেষণায় এটি প্রায় ১২ শতাংশ। দেশে প্রতিদিন প্রায় ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করে। বিষণ্ণতায় ভোগা বেশিরভাগ রোগী শারীরিক সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে হাজির হয় বলে রোগ সহজে শনাক্ত হয় না ও সঠিক চিকিৎসা পায় না। তাই ডিপ্রেশন নিয়ে আলোচনা জরুরি।

আমরা প্রাকটিসে প্রচুর বিষণ্ণতার রোগী পাই। তেমন দুটি রোগীর কাহিনী লিখছি যাতে পাঠক এ রোগের ধরণ, লক্ষণ ও করণীয় সম্পর্কে জানতে পারেন।

‘কষ্ট শুধু মনে থাকে না/এটি শরীরের কোষে কোষেও ঢুকে পড়ে’

আমরা মনে করি ডিপ্রেশন মানে রোগী এসে সরাসরি মনের কষ্ট, অশান্তির কথা বলবে। বেশিরভাগ ডিপ্রেশনের রোগীরা ডাক্তারের কাছে যায় শারীরিক সমস্যা নিয়ে। এ জন্য অনেক ডাক্তার প্রথম দিকে এটি যে মানসিক রোগ সেটি ধরতে পারেন না। প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় সবকিছু নরমাল দেখে আপনার কোনো রোগ নেই বলে স্যালাইন, ভিটামিন, ঘুমের ওষুধ রোগীকে দেন। রোগী এতে সুস্থ হয় না। আরও খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে রোগী বা তার আত্মীয়রা নিজেরাই বুঝে ব্রেইনের ডাক্তার-মানসিক রোগের ডাক্তার দেখাতে হবে ততদিনে রোগ অনেক অগ্রসর পর্যায়ে চলে গেছে। কোন কোন রোগী আত্মহত্যা করে বা অকর্মণ্য হয়ে পড়ে।

কাহিনী সংক্ষেপ : রোগিনী ওয়াহিদা, বয়স ৩০। বিয়ের পর স্বামী আরেকটি বিয়ে করে। তাদের তালাক হয়নি। একটি ছেলে আছে, সেও মার সঙ্গে থাকে। দিনে আনে দিন খায় অবস্থা। অনেকদিনের রোগ। অনেক চিকিৎসা করানো হয়েছে (অ্যালোপ্যাথি, কবিরাজি)। কিন্তু রোগের উপশম হয় না।

রোগীর ভাষায় সমস্যা : শরীর কাঁপে, মাংস লাফায়, চুলে বিড় বিড় করে, ঘুম কম, মাথা ঝাঁকুনি দেয়, হাত মোচড়ায়, গলায় কী যেন উঠে যায়, পেট মোড়া দেয়, জ্বর আছে, পায়খানা কষা, বালিশের সঙ্গে মাথা লাগাতে পারি না, বুক ব্যথা, শরীরে জ্বালা-পোড়া, রূহ বাইড়া-বাইড়ি করে, ক্ষিধা নেই, ঘুম নেই, রাতে আজেবাজে স্বপ্ন দেখে চিৎকার দিয়ে উঠি, বুক ধড়ফড় করে, পেট ভুর ভুর করে ডাকে- ইত্যাদি।

আরও কী সমস্যা জানতে চাইলে রোগী বলে : হাহুতাশ লাগে, কাজ করতে পারি না, জ্ঞান নেই, কিছু বুঝি না, কীভাবে কাজ করব তাও বুঝি না, ঘোরাঘুরির মধ্যে থাকি, আনন্দ লাগে না, এর কাছে ওর কাছে যাই কিন্তু কোথাও শান্তি পাই না, কি যেন হারিয়ে ফেলেছি, বেশি কথা বলি (আল্লাহ আল্লাহ বলি, অসুখ ভালো হবে না ইত্যাদি বলি)।

আমাদের যা শেখার রয়েছে

* ডিপ্রেশনের রোগীরা নানাবিধ শারীরিক লক্ষণ নিয়ে হাজির হতে পারে। মনের কথা, মনের ব্যথা শরীরের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়।

* পরীক্ষায় কিছু পাওয়া যায়নি, তাই কোনো রোগ নেই এমনটি বলা অজ্ঞতার পরিচয়। সব ডাক্তারের মনে রাখতে হবে কোনো লক্ষণই তথাকথিত ভেইগ বা বানানো নয়। রোগের কারণ পাচ্ছেন না বা আপনার পড়া বিদ্যার সঙ্গে লক্ষণ মিলছে না তাই এটি রোগ নয় এমনটি ভাববেন না। মনোরোগ সমন্ধে প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে।

* দরিদ্রতা, পারিবারিক/দাম্পত্য সমস্যা ডিপ্রেশনের একটি বড় কারণ হতে পারে।

* আশার কথা ডিপ্রেশনের কার্যকর ও সফল চিকিৎসা রয়েছে।

‘ছেলে দুটিকে গলা কেটে মেরে নিজে মরতে চাই’

প্রায়ই পত্রিকায় খবর হয় যে মা নিজ সন্তানদের হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছে। আমরা বিস্মিত হই এমনটি কীভাবে সম্ভব? মা কি এত নিষ্ঠুর হতে পারে? কিন্তু সব হত্যা নিষ্ঠুরতা থেকে হয় তা নয়, কিছু হত্যা গভীর ভালোবাসা-মমতা ও করুণা থেকেও হতে পারে।

কাহিনী-১

৩০-৩২ বছরের নারী। দু’সন্তানের জননী। রোগের ইতিহাসও বেশি দিনের নয়, ৬ মাসের। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক দন্দ্ব, সংঘাত বা মনোমালিন্যের তেমন কোনো ইতিহাস নেই। প্রথমবারের মতো চিকিৎসায় এসেছেন, তাও স্বামীর অনেক পীড়াপীড়ির পর। ইতিহাস ও মনস্বতাত্ত্বিক অবস্থা পরীক্ষা করে বুঝতে পারলাম তিনি গভীর বিষণ্ণতায় ভুগছেন।

রোগ কাহিনী বলতে গিয়ে তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। তিনি বলতে লাগলেন ওদেরকে (দু’ছেলে) গলা কেটে নিজে মরতে চাই কিন্তু সাহসে কুলায় না/(আমি প্রফেশনাল অভিজ্ঞতা থেকে জানতাম কেন মায়েরা আত্মহত্যার আগে সন্তানকেও হত্যা করে) তবুও তার বেলায় ব্যাখ্যাটি কী তা জানতে প্রশ্ন করলাম- এরা আপনার আপন সন্তান না? কীভাবে নিজ হাতে তাদের মারতে চান? কেন মারতে চান? তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন আমি না থাকলে এরা কেমনে বাঁচবে, এদের কষ্টের মধ্যে রেখে কীভাবে মরব? আমি জানতে চাইলাম, এদের মারলে এরা কষ্ট পাবে না? এটা সহ্য করবেন কীভাবে?

তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন- এরা তো কষ্টে থাকবে (তার মানে তিনি না থাকলে এরা কষ্টে থাকবে এ চিন্তাটিই বারবার বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে, অন্য বিষয়গুলো তেমন স্পষ্টভাবে অনুধাবনে আনতে পারছেন না)। উল্লেখ্য, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতেও তিনি আগ্রহী ছিলেন না। কী হবে ডাক্তার দেখিয়ে, এসব কথা কি বলা যায়- ইত্যাদি তাৎক্ষণিক কিছু কাউন্সিলিং করে ওষুধ দিয়ে ৩ দিন পর দেখা করতে বললাম (তারা হাসপাতালে ভর্তি হতে রাজি হচ্ছিলেন না)। সঙ্গে সুইসাইডাল সাবধানতা মানতে। ১৫ দিনের মাথায় রোগী অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠলেন।

এখন সন্তান হত্যার কথা মনে করিয়ে দিলে যারপরনাই লজ্জায় পড়ে যান এবং জীবনে কখনও এরকম কুচিন্তা মাথায় আনবেন না বলে জানান।

কাহিনী-২

৩ বছর আগের কথা- এক তরুণীকে মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় চেম্বারে আনা হয়। সব জেনে, পরীক্ষা করে বুঝলাম একুউট সাইকোসিসে ভুগছে। কাহিনী সংক্ষেপ হল তার ইমেডিয়েট বড় ভাই মাদকাসক্ত ছিল। অনেক চিকিৎসায়ও তেমন উন্নতি হয়নি। সে বিভিন্ন অপরাধী গ্রুপের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। আর্থিক টানাটানি, পুলিশের হয়রানি, প্রতিপক্ষের হামলা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, মানসিক অবসাদ সব মিলিয়ে তার ভাই বিষণ্ণতাসহ নানাবিধ মানসিক সমস্যায় ভুগত। তাকে সবাই ঘৃণা করত, এমনকি মা-বাবাও। তার একমাত্র সহকর্মী ও সঙ্গী ছিল এ ছোট বোনটি। সেই তাকে আগলিয়ে রাখার চেষ্টা করত কিন্তু বশে আনতে পারেনি। প্রায়ই সে বোনকে আত্মহত্যার কথা বলত, কিন্তু বোনটি তাকে সাহচর্য ও মমতা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করত। তবে কোনো মনোচিকিৎসকের কাছে নেননি। একদিন রাতে ভাইটি খুবই অস্থির হয়ে উঠল।

বোনকে বারবার বলতে লাগল চল আমরা দু’জনে আত্মহত্যা করি, তুইও আমার সঙ্গে থাক। বোনটি অনেক কাকুতি মিনতি করে। কিন্তু তার অস্থিরতা কাটে না। অবশেষে সে প্রস্তাব দেয় চল বাইরে যাই, ঘুরলে হয়তো মন ভালো হবে।

তখন রাত ৩টা- ভাইয়ের শোচনীয় অবস্থা চিন্তা করে সে যেতে রাজি হয়। তাদের বাসা ছিল বুড়িগঙ্গা সেতু-২ এর কাছে।

এই গভীর, অন্ধকার রাতে দু’ভাই-বোন সবার অগোচরে বুড়িগঙ্গা সেতুতে পায়চারী করতে লাগল। বোনটি ভাইকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সে বলে তোকে আমি অনেক ভালোবাসি চল একসঙ্গে মরে যাই, কী হবে এ পৃথিবীতে বেঁচে থেকে। এভাবে মিনিট ১৫ হাঁটাহাঁটি করে তার ভাই একটি পিলারের খুব কাছে গিয়ে উঁকি মারে। পরক্ষণে সে ঝাঁপ দিয়ে নদীতে পড়ে। একটি মাত্র ঝপাত শব্দ। বোনটি চিৎকার করতে করতে পাশের বাড়িতে ঢুকে পড়ে পাগলামী করতে থাকে। তারপর তো সব ইতিহাস (আত্মহত্যার আগে খুব কাছের জনকেও অনেকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চায়, এটি তার আরেকটি উপাখ্যান) আমি চাঁদপুরে শুক্রবারে চেম্বার করতে যাই। সেই সেতুর নিচ দিয়েই যেতে হয়। ঘটনাটি আমাকেও এতটুকু স্পর্শ করেছে যে প্রতিবার সেতুর কাছ দিয়ে গেলে সে বিভৎস্য স্মৃতির কথা মনে পরে (ডাক্তাররাও মানুষই তো)।

লেখক : মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা

চোখের কালো দাগ দূর করতে কফি

কফি শরীরকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি ত্বককেও চাঙ্গা করে! এতে যে ক্যাফেইন উপাদান রয়েছে, সেটি ত্বকের জন্য বেশ কার্যকর। এটি চোখের নিচের কালো দাগ দূর করে এবং রুক্ষতা দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করে।

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করে

চোখের নিচের কালো দাগ ও ফোলাভাব দূর করতে কফি খুবই উপকারী। এক চা চামচ কফির সঙ্গে পানি মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার চোখের চারপাশে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে হালকাভাবে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ময়েশ্চারাইজার ক্রিম লাগান। এভাবে নিয়মিত ঘুমের আগে কফি ব্যবহার করলে চোখের নিচের কালো দাগ ও ফোলাভাব দুটোই দূর হবে।

স্ক্রাবারের কাজ করে

ত্বকে স্ক্রাবারের কাজ করে কফি। অলিভ অয়েলের সঙ্গে সামান্য কফি মিশিয়ে পুরো মুখে হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন। এতে মুখের মরা কোষ দূর হয়ে ত্বক হবে নরম ও মসৃণ।

অতিরিক্ত তেল ও ব্লাকহেডস দূর করে

কফি তেল বা পানির সঙ্গে মিশিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন। ম্যাসাজের সময় নাকের ওপর ভালোভাবে ঘষুন। এতে ব্লাকহেডস দূর হবে এবং ত্বকের অতিরিক্ত তেলতেলে ভাবও দূর হবে।

ত্বক উজ্জ্বল করে

নিয়মিত কফি দিয়ে তৈরি প্যাক ব্যবহারে ত্বক হয় উজ্জ্বল ও দাগহীন। এ ছাড়া ম্যাসাজ করার কারণে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায় এবং এটি ত্বকের লাবণ্যতা ধরে রাখে।

কিডনি রোগের নীরব লক্ষণগুলো

বিভিন্ন রোগের মতো কিডনি রোগেরও আছে চিকিৎসা। তবে অনেকেই রোগটি সময়মত শনাক্ত করতে পারেন না। ফলে অনেক বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যায়, সারা জীবন ভুগতে হয় কাউকে কাউকে। কিডনির সমস্যার কিছু লক্ষণ আছে যা আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ মনে হয়। কিন্তু এগুলো শনাক্ত করতে পারলে অনেক বড় সমস্যার হাত থেকে বেঁচে যেতে পারেন আপনি। চলুন দেখে নিই নীরব লক্ষণগুলো।

অস্বাভাবিক র‍্যাশ বা চুলকানি
কিডনি ঠিক থাকলে আমাদের রক্তস্রোত থেকে তা বর্জ্য সরিয়ে ফেলে এবং পুষ্টি উপাদানের ব্যালান্স ঠিক রাখে। এই ব্যালান্স ঠিক না থাকলে আমাদের ত্বকে তা পরিবর্তন আনে। হতে পারে র‍্যাশ এবং চুলকানি। ত্বকের সমস্যার জন্য নেওয়া ওষুধ বা মলম এসব ক্ষেত্রে কাজ নাও করতে পারে।

মুখে ধাতব স্বাদ
কিডনিতে সমস্যার কারণে রক্তের মাঝে টক্সিন জমে গেলে মুখে ধাতব স্বাদ অথবা নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ দেখা দিতে পারে। অনেক সময়ে খাবারের স্বাদও ধাতব লাগতে পারে। কেউ কেউ মাংস খেয়ে আর স্বাদ পান না।

বমি বা বমি ভাব
শরীর থেকে বর্জ্য বের করার কাজটা কিডনি ঠিকভাবে করতে না পারলে বমি ভাব এমনকি বমিও হতে পারে। শরীর থেকে টক্সিন বের করার জন্য এমন হয়। এর কারণে ক্ষুধামন্দাও হতে পারে। এর থেকে আবার দেখা দিতে পারে ওজন কমে যাওয়ার সমস্যাটি।

অযথাই মুত্রের বেগ
কিডনি যেহেতু মুত্র উৎপাদন করে সুতরাং ঘন ঘন বাথ্রুম চাপাটা চিন্তার বিষয় বটে। কারো কারো ক্ষেত্রে অযথাই বাথরুমে যাওয়ার বেগ চাপে, কারো কারো অতিরিক্ত মুত্র দেখা যায়।

মুত্রে অস্বাভাবিকতা
অতিরিক্ত ঘন ঘন অথবা স্বাভাবিকের চাইতে কম মুত্রত্যাগের পাশাপাশি আরও কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। যেমন-
– মুত্রের সাথে রক্ত যাওয়া
– স্বাভাবিকের চাইতে গাড় বা হালকা রঙের মুত্র
– মুত্রের সাথে বুদবুদ যাওয়া

পা অথবা মুখ ফুলে যাওয়া
কিডনির আরেকটি কাজ হলো শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল অপসারণ। কিন্তু এই কাজতিতে যদি ব্যাঘাত ঘটে তাহলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমতে পারে। বিশেষ করে গোড়ালি, পায়ের পাতা, পা, হাত এবং মুখে পানি জমতে পারে।

ক্লান্তি
কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে রেড ব্লাড সেলের পরিমাণে দেখা দিতে পারে অসঙ্গতি। এতে কিডনি রোগীদের হালকা থেকে গুরুতর রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। এর কারণে সর্বক্ষন ক্লান্তি লাগতে পারে তার। এছাড়াও সহজেই হাঁপিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরানো এবং শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার উপসর্গগুলো থাকতে পারে।
এসব উপসর্গের পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

ঘর থেকে গরম তাড়াতে যা করবেন

গরমের দিন চলে এসেছে। এসময় যতটা সতেজ থাকা যায় ততই গরমের অনুভূতি কম হবে। নিজেকে সতেজ রাখার পাশাপাশি এসময় চারপাশের পরিবেশও সুন্দর রাখতে হবে। ঘরদোর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি বেছে নিতে পারেন বিশেষ কিছু কৌশল। তাতে গরম অনেকটাই কম অনুভূত হবে। গরম দূর করতে ঘর থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন। নজর রাখুন, ঘরে যেন খবরের কাগজ স্তূপাকৃতভাবে না থাকে। সিল্কের জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলুন। মেঝেতে উলের কার্পেট পাতা থাকলে তুলে ফেলুন। কাচের পাত্রে বা পাথরের থালা অথবা বাটিতে পানি ঢালুন। পানিভর্তি পাত্রে কিছু পাথর রাখুন। কিছু ফুল দিয়ে দিন। এবার যে দরজা বা জানলা দিয়ে সবচেয়ে বেশি বাতাস আসে, তার সামনে রেখে দিন।

টেবিলফ্যানের সামনে বাটিভর্তি বরফ রাখুন। এটি খুব সহজ পদ্ধতি। এতে বরফে লেগে ফ্যানের বাতাস আরও ঠান্ডা হবে এবং সেই ঠান্ডা বাতাস ঘরে ছড়িয়ে যাবে।

ঘরে অযথা বাতি জ্বালিয়ে রাখবেন না। যত অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক ল্যাম্পই জ্বালান না কেন, অপ্রয়োজনে জ্বালিয়ে রাখবেন না। ল্যাম্পের আলো ঘরের বাতাসকে গরম করে তোলে। সম্ভব হলে ঘরে কম পাওয়ারের আলো লাগান।

ঘরে ক্রস ভেন্টিলেশন রাখুন। মানে যে দিকের দরজা বা জানলা খুলবেন, তার বিপরীতের দরজা এবং জানালা খুলে রাখুন। এতে ঠান্ডা বাতাস ঘরে প্রবেশ করবে এবং বিপরীত দিক দিয়ে গরম বাতাসকে বের করে দেবে।

চালভর্তি বালিশ তৈরি করুন। চাল খুব ঠান্ডা থাকে। তাই গরমকালে চালের তৈরি বালিশ মাথায় দিতে পারেন। এতে চোখে-মুখে ঠান্ডার সতেজতা পাবেন। বালিশে চাল ভরার আগে এর মধ্যে কিছু নিমপাতা মিশিয়ে দিন। এতে চালে পোকা হবে না।

ইলেক্ট্রিক প্লাগ অন রাখবেন না। প্লাগে কোনো গ্যাজেট গুঁজে রাখলে তার কাজ শেষ হতেই সুইচ বন্ধ করে দিন এবং ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেটকে প্লাগ থেকে খুলে নিন।

ঘরে অর্কিড জাতীয় গাছ রাখুন। গাছ ঘরের মধ্যে থাকা গরম বাতাস থেকে কার্বনডাই-অক্সাইড সংগ্রহ করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া চালু রাখে। এতে ঘরের গরম বাতাস হাল্কা হয় এবং তাতে প্রচুর পরিমাণে জলকণা সঞ্চিত হয়। তাই ঘরে ঠান্ডা থাকে।

বারান্দায় বা জানলায় খসখস অথবা বাঁশের পর্দা ব্যবহার করুন। এতে পানি দিয়ে দিন। এমন ঠান্ডা অনুভব করবেন যে, এসির কথা ভুলে যাবেন।

একটি প্লাইউডে ছোট ছোট গর্ত করে তাঁর মধ্যে প্লাস্টিক বোতল গুঁজে দিন। এর আগে প্লাস্টিকের বোতলগুলিকে মাঝখান থেকে কেটে নিতে হবে। বোতলের উপরের দিকের অংশ কাজ লাগবে। বোতলের ছিপিতে ছিদ্র করে দিন। এরপর অর্ধেক কাটা বোতলগুলিকে প্লাইউডে করা গর্তগুলিতে জুড়ে দিন। জানলার সঙ্গে প্লাইউডকে সাঁটিয়ে দিন। বোতলের মধ্যে থাকা গরম বাতাস ছিপির ছোট ছিদ্র দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু, ঠান্ডা বাতাস হালকা হওয়ায় আগে ঘরে প্রবেশ করবে।

চেষ্টা করুন ঠান্ডা ফল খেতে। প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন। ঠান্ডা লিকার চা-এর মধ্যে একটু বরফ, লেবু এবং কারি পাতা মিশিয়ে নিন। এরপর তা মাঝে মাঝে পান করুন। পারলে রোজ তরমুজ খান। কোল্ড কফিও ট্রাই করতে পারেন।

একটা ব্র্যাকেটে বা ঝুড়িতে টবে লাগানো গাছ দিয়ে ভর্তি করুন এবং দরজা বা জানলার সামনে রেখে দিন।

ছাদের রঙ সাদা করে ফেলুন। দেখবেন, গরম অনেকটা কমে গিয়েছে।

দেহের ভাষা বুঝতে চান? ৭ ভঙ্গি চিনে নিন

১. আড়াআড়ি হাত ও পায়ের সংকেত
আপনি কাউকে কিছু বলছেন। কিন্তু শ্রোতা তার দুই হাত বা দুই পা আড়াআড়ি ভঙ্গিতে রেখেছে।

এ থেকে বুঝতে হবে, সে মনোযোগ দিয়ে আপনার কথা শুনছে না। এমনকি এ অবস্থায় শ্রোতার হাসিমুখও দেখা যেতে পারে। কিন্তু আসল ভাষা তার অঙ্গভঙ্গিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।
২. হাসির সংকেত
যখন কেউ হাসছে, তখন মুখ প্রতারণা করতে পারে, কিন্তু চোখ পারে না। আন্তরিক হাসির তরঙ্গ ছড়ায় চোখ পর্যন্ত। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলেন, কেউ আপনার দিকে তাকিয়ে হাসল। এই হাসিতে যদি তার দুই চোখের কোনা কুঞ্চিত হয়ে ওঠে, তবে স্পষ্ট হবে যে, হাসিটা সত্যিকারের। আর হাসিটা শুধু ঠোঁটকেন্দ্রিক হলে উল্টোটা বুঝতে হবে।
৩. কেউ আপনার অঙ্গভঙ্গি নকল করলে
এটা ইতিবাচক অর্থ প্রকাশ করে। ধরুন, আলাপকালে আপনি দুই হাত পকেটে রাখলেন, শ্রোতাও তাই করল। এমনটা ঘটলে বুঝতে হবে, শ্রোতা অবচেতনভাবে আপনার প্রতি গভীর বন্ধন অনুভব করছে।
৪. অঙ্গবিন্যাস গল্পটা বলে দেয়
ধরুন, কোনো অফিসের মধ্যে একজন হেঁটে এলেন এবং আপনি বুঝে ফেললেন তিনি হর্তাকর্তা। এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তিটি কক্ষে ঢুকলেন, তাঁর অঙ্গবিন্যাস বলে দিচ্ছে, তিনি ক্ষমতাবান কেউ।
৫. যে চোখ মিথ্যা বলে
আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলো—এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। এর মানে হলো, মিথ্যা বলার সময় মানুষের চোখের ভঙ্গি বদলে যায়। কারো চোখে চোখ রেখে অবলীলায় মিথ্যা বলাটা খুব কঠিন।
৬. ভ্রুর ভাষা
মানুষের ভ্রু ওপরের দিকে উঠতে পারে তিন কারণে—অবাক হলে, দুশ্চিন্তা ভর করলে এবং ভীতিকর অবস্থায় পড়লে। কিন্তু পরিচিত মানুষের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আলাপের সময় এমনটা হলে এর অর্থ হলো, সে স্বস্তিবোধ করছে না।
৭. চোয়াল যখন শক্ত
কেউ দাঁত চেপে রয়েছে বা চোয়ালগুলো শক্ত করে রয়েছে। এর অর্থ সে মানসিক চাপে জর্জরিত।

হঠাৎ অবসাদ না চাইলে ৭ টিপস মেনে চলুন

হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই ক্লান্ত হয়ে যাওয়া কিংবা হঠাৎ করে মারাত্মক অবসাদে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউ। নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক কারণে এমনটি হতে পারে।

তবে কয়েকটি পদক্ষেপের মাধ্যমে এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
১. শারীরিক অনুশীলন
হঠাৎ অবসাদের কারণ হতে পারে শারীরিক। এক্ষেত্রে রক্তের শর্করার মাত্রা ওঠানামাতেও এমনটি হয়। আর এর পেছনে থাকতে পারে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা হ্রাস, অ্যানেমিয়া ও রিউম্যাথয়েড আর্থ্রাইটিস। নিয়মিত শারীরিক অনুশীলনে হৃৎস্পন্দন সঠিক মাত্রায় থাকবে। এতে পর্যাপ্ত অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত মস্তিষ্ক ও মাংসপেশিতে যাবে। ফলে হঠাৎ ক্লান্তিভাবও আসবে না।
২. পর্যাপ্ত ঘুম
প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে হঠাৎ করে ক্লান্তিভাব তৈরি হতে পারে। আর এ সমস্যা কাটানোর জন্য নিয়মিত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। এছাড়া ঘুমের মান যেন ঠিক থাকে সেজন্যও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ঘুমানোর জন্য উপযুক্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ প্রয়োজন।
৩. গ্যাজেট সাবধান
স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, কম্পিউটার মনিটর ও টিভির মতো ডিভাইস চোখের সামনে সর্বদা ধরে থাকলে তা থেকে নীল আলো বিচ্ছুরিত হয় এবং তা দেহের মেলাটোনিনের মাত্রায় তারতম্য ঘটায়। এ হরমোনটি দেহেরে ঘুম ও জেগে থাকার চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। হরমোনটির মাত্রায় পার্থক্য হলে তা ঘুমের সমস্যা যেমন তৈরি করে তেমন মানুষকে ক্লান্তও করে তোলে। আর এ সমস্যা দূর করতে সব সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা ত্যাগ করতে হবে।
৪. প্যাকেটজাত নয়, তাজা খাবার খান
প্যাকেটজাত খাবার দীর্ঘদিন তাজা রাখতে নানা ধরনের রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বাড়তি স্বাদ ও গন্ধের জন্যও এসবের মধ্যে নানা কৃত্রিম উপাদান ব্যবহৃত হয়। এসব রাসায়নিক মানুষের দেহের বিভিন্ন ধরনের হরমোনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তাজা ফলমূল ও খাবারে সাধারণত এ সমস্যা থাকে না। তাই সুস্থ থাকার জন্য সর্বদা তাজা ফলমূল ও বাড়িতে তৈরি খাবার খাওয়া উচিত।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ক্লান্তি এড়াতে আপনার দেহের পানির তৃষ্ণা থাকুক আর না থাকুক, পানি পান করতে হবে। শীতকালে কিংবা সারাদিন নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বসে কাজ করলে অনেকেরই পানির জন্য তৃষ্ণা নাও পেতে পারে। কিন্তু এ সময় পানি পান করা দেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
৬. সঙ্গীত
সঙ্গীতের সুর মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করে। এছাড়া এটি একঘেয়েমিও দূর করে। এ কারণে নিজের পছন্দমতো সঙ্গীত শুনলে তা ক্লান্তি দূর করতে ভূমিকা রাখে।
৭. সামাজিকতা
আপনার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। তাদের সঙ্গে সর্বদা সম্পর্ক বজায় রাখুন ও ভালো-মন্দ বিষয়ে মতামত নিন ও দিন। এতে আপনার সামাজিক সম্পর্ক জোরদার হবে এবং মনও ভালো থাকবে। ফলে হঠাৎ করে অবসাদজনিত ক্লান্তি থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে।

ফ্যাশনে পুরুষদের ১৩টি ভুল এবং সেগুলো এড়ানোর উপায়

প্রতিটি পুরুষই ভালোভাবে পোশাক পরার চেষ্টায় স্টাইল সম্পর্কিত বেশ কিছু জিনিস শেখেন। এবং অনিবার্যভাবে কিছু ভুলও করেন।
আপনি যদি সেই ভুলগুলো না করতে চান এবং ভুল করলে কীভাবে তা ঠিক রা সম্ভব তা জানতে চান তাহলে পড়ুন:
১. “চিকন লোকদের পাগুলো আরো প্রশস্ত দেখানোর জন্য বুট কাট প্যান্ট পরা উচিৎ”। এই ধারণাটি ঠিক নয়। বরং বুট কাট প্যান্টে চিকন লোকদেরকে সবচেয়ে বাজে লাগে।

২. “কাঁধ এবং বক্ষে শার্টগুলো ব্যাগি হলে ভালো”। এর চেয়ে বরং দেহের সঙ্গে ফিট শার্ট পরাই সবচেয়ে ভালো।
৩. “সঠিক পোশাক পরলেই ভালোভাবে পোশাক পরা হয়”। একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো, বেশি পোশাক পরলেই বুঝি ভালোভাবে পোশাক পরা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, সবসময়ই কেতাদুরস্ত স্যুট পরার চেয়ে বরং ধারালো ক্যাজুয়াল পোশাকে অনেক সময় পুরুষদেরকে বেশি ভালো লাগে। আর সবসময়ই পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই পোশাক পরতে হবে।
৪. “শর্টস পরা ঠিক না এবং শুধু ১২ বছরের কম বয়সী বা ক্রীড়াবিদ হলেই শর্টস পার উচিৎ”। অনেক পুরুষই এখন সচেতন হয়েছেন, গরমের সময় শর্টস পরাটাই সঠিক কাজ। এমনকি শিথিল অফিস পরিবেশেও শর্টস পরাটা এখন গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। শুধু কার্গো শর্টস না পরলেই হয়।

৫. “কার্গো শর্টসগুলো খুবই আকর্ষণীয় কারণ এতে থাকা পকেটগুলোতে আপনি সবকিছু রাখতে পারবেন”। ধারণাটি ভুল। কারণ এখন আর কার্গো শর্টস এর প্রচলন নেই। সুতরাং যে কোনো মূল্যে কার্গো শর্টস এড়িয়ে চলুন। তার চেয়ে বরং পাতলা সুতির শর্টস পরুন।
৬. “শুধু নির্মাণ কর্মী এবং নিম্নরুচির লোকরাই বুট পরে”। এটিও সেকেলে ধারণা। যে কোনো মানুষই বুট জুতা পরতে পারেন।

৭. “বোট শু সবচেয়ে ফ্যাশনদুরস্ত শু”। গ্রীষ্মকালে বোট শু পরা ভালো। কিন্তু তার মানে এই নয় যে এই জুতাই সবচেয়ে ফ্যাশনদুরস্ত জুতা। ফ্যাশনের জন্য আরো নানা ধরনের সুন্দর সুন্দর জুতা আছে।
৮. “যে জুতার আঙ্গুলের দিকটা বর্গাকৃতির সে জুতাই ভালো”। এই ধরণের জুতা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়। পুরুষদেরকে বরং এখন এই ধরনের জুতা থেকে দুরে থাকতে বলা হয়।
৯. “জুতার সঙ্গে মানানসই বেল্ট পরতে হবে। গায়ে কী পরলেন না পরলেন তাতে কিছুই যায় আসে না। ” বিশেষ কোনো উপলক্ষে এই কথাটি সত্য। কিন্তু ব্যবসায় স্যুট বা সাধারণ কোনো উপলক্ষে কথাটি সত্য নয়।
১০. “কালো জুতা সবকিছুর সঙ্গেই পরা যায়”। কথাটি সত্য নয়। আপনি যদি সবকিছুর সঙ্গে একব জুতা পরতে চান তাহলে মাঝারি বাদামি জুতা কিনুন।
১১. “টাইয়ের সঙ্গে পকেট স্কোয়ার ম্যাচ করতে হবে”। এ ধারণাটিও ঠিক নয়।
১২. “কালো স্যুট সবচেয়ে বহুমুখি এবং সেরা রঙের স্যুট। ” ঠিক নয়। বরং নেভি বা কাঠকয়লা রঙের স্যুট সবচেয়ে বহুমুখি।
১৩. “বুনন করা সোয়েটার ফ্যাশনের জন্য সবচেয়ে ভালো। ” এই ধরনের সোয়েটার এখনে সেকেলে হয়ে গেছে। বরং অন্যান্য সোয়েটারই এখন বেশি ফ্যাশনদুরস্ত।

চুল পড়া রোধে করণীয়

নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই চুল পড়া একটা বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে এখন। পরিবেশ দূষণ, ঘুম ও খাওয়া দাওয়ার ঘাটতি, হরমোনের সমস্যাসহ বেশ কিছু কারণেই সাধারণত চুল পড়ে।

তাই সময় থাকতে আপনার মাথায় চুল যেন থাকে, সে ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত। এ কারণে কিছু টিপস মেনে চলতে পারেন-

নিয়মিত নারিকেল তেল মাথায় দেওয়া : চুল সুস্থ ও সুন্দর রাখতে নিয়মিত মাথায় নারিকেল তেল ম্যাসাজ করা খুব জরুরি। নারিকেল তেল মাথায় চুল গজাতে, বড় হতে সাহায্য করে। চুল পড়া রোধ করে।

আমলকীর রস চুলে : ভিটামিন সি-এর বড় এক উৎস আমলকী। এটি খুব ভালো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও। এটি আপনার চুল পড়া রোধে খুব ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আমলকী থেতলে একটু লেবুর রস মিশিয়ে মাথার তালুতে লাগান।

চুলের যত্নে ডিম : চুল পড়া রোধে ডিম দারুণ উপকারী। এতে প্রোটিন ও মিনারেল আছে অনেক। ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে এক চামচ অলিভ অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে মাথার তালুতে লাগান। ২০ মিনিটের মতো তা মাথায় রেখে ঠাণ্ডা পানি ও শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আকুপ্রেশার করুন : চুল পড়া বন্ধে আকুপ্রেশার খুব উপকারী এক উপায় মনে করা হয়। বালায়াম নামে এই টেকনিক মাথার তালুতে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুল গজাতে সাহায্য করে। পদ্মাসনে বসে আপনার এক হাতের নখ দিয়ে আরেক হাতের নখ ঘষুন। ১০/১৫ মিনিট ধরে এমনটা করুন। নিয়মিত এমন করে উপকার পাবেন।

প্রোটিন পূর্ণ খাবার খান : চুল জন্মানো ও যত্নে প্রোটিন খুব জরুরি। তাই প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন: দুধ, পনির, শিম, বাদাম, মুরগির মাংস, মাছ এসব খান।

লৌহসমৃদ্ধ খাবারও : খাবারে লৌহের ঘাটতি থাকলে চুল পড়ে দ্রুত। তাই পালং শাক, ডাল, সয়াবিন, মাংস, ডিম, মাছ এসব খাবার খেতে হবে।

অতি মাত্রায় রূপচর্চা : চুলের যত্নে অতি মাত্রায় রূপচর্চা করলে উল্টো চুলের ক্ষতি হয়। তাই সাবধান হতে হবে এক্ষেত্রে।