Tag Archives: Shakib Khan

শাকিবের ওপর নিষেধাজ্ঞায় কার লাভ?

শাকিবের সঙ্গে কাজ করবেন না চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৬টি সংগঠন নিয়ে গঠিত চলচ্চিত্র ঐক্যজোট বা চলচ্চিত্র পরিবারের কোনো সদস্য। সম্প্রতি লিখিত আকারে এমন কথাই জানিয়েছেন ঐক্যজোটের নেতারা। এমন ঘোষণার পরই ফুঁসে উঠেছেন শাকিব ভক্তরা। শুধু ভক্তরাই নন, একই পরিবারের অনেক সদস্যও এমন সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দিয়েছেন। তবে নিষেধাজ্ঞার ভয়ে তারা মুখ খুলতে পারছেন না। তাদের কথা হচ্ছে, যারা এখন শাকিব খানের সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সে পরিচালকরা এক সময় শাকিব খানকে দিয়ে ডজন ডজন ছবি বানিয়েছেন। তখন শাকিব তাদের কাছে ভালো ছিলেন। কারণ শাকিবের শিডিউল তারা পেতেন। তখন তাদের কারণে নতুন কোনো ডিরেক্টর শাকিবের শিডিউল পেতেন না। তখন তো তারা শাকিবের বিরুদ্ধে নামেননি? অনেকে আবার শাকিবের সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্তকে ‘মাথাব্যথা বলে মাথা কেটে ফেলার মতো অবস্থা’ বলে মন্তব্য করছেন। এখন কথা হচ্ছে, শাকিব খানের সঙ্গে কাজ না করলেই সমস্যার সমাধান হবে? যারা এখন শাকিব খানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন তাদের একটু ভাবা দরকার চলচ্চিত্রের কত বড় ক্ষতি তারা ডেকে আনছেন। শাকিব খান বর্র্তমানে ব্যবসাসফল ছবির নায়ক। কিন্তু এ মুহূর্তে তাকে দূরে ঠেলে দেয়া হবে চরম বুদ্ধিহীনতার পরিচয়- এমনটাও বলছেন চলচ্চিত্রবোদ্ধারা। তারা বলছেন, সবাইকে মনে রাখতে হবে চলচ্চিত্র পরিবারের বাইরেও দেশে অনেক টেকনিশিয়ান, অভিনয় শিল্পী, নির্মাতা রয়েছেন। যারা এখনও কাজ করার জন্য ছোটাছুটি করছেন। কিংবা বিদেশ থেকে টেকনিশিয়ান, অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা নিয়ে এসে উপযুক্ত নিয়মে কাজ শুরু করেন শাকিব, তাহলে চলচ্চিত্র পরিবারের কী লাভ হবে? তাই হুট করে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে একটু ভাবুন। যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সেটি কী আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পীদের জন্য সুফল বয়ে আনবে?

Advertisements

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের নীরবতা রহস্যজনক

ভালো নেই ঢাকাই চলচ্চিত্র শিল্প। চরম অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এখন। চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি কর্র্তৃক শাকিব খানকে বারবার নিষিদ্ধ করা, যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের নামে যৌথ প্রতারণা করা হচ্ছে- এমন দাবির পক্ষে-বিপক্ষে আন্দোলন-পাল্টা আন্দোলন নিয়ে বিভাজন হয়ে পড়ছে এফডিসি। ফলে একরাশ হতাশা নিয়ে কেবলই ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঢাকাই চলচ্চিত্র। এর ওপর আবার বিষফোঁড়া হয়ে উঠছে সাফটা চুক্তির নামে ভারত থেকে আনা ছবি। তবে সাফটা চুক্তির আওতায় ছবি বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বঞ্চিত হলেও বিষয়টি নিয়ে কারও কোনো উচ্চবাচ্য নেই। সবাই যৌথ প্রযোজনার ভালো-মন্দ বিষয়ক চুলচেরা বিশ্লেষণ নিয়ে ব্যস্ত।

যৌথ প্রযোজনার শুরুর দিকেও এমনটি দেখা গিয়েছিল। তখন গণমাধ্যমগুলো, বিশেষ করে দৈনিক যুগান্তরে নিয়মবহির্ভূত যৌথ প্রযোজনার ছবি নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন লিখে গেলেও টনক নড়েনি চলচ্চিত্র পাড়ার মানুষগুলোর। কিন্তু যখন এটা বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে, পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে, যৌথ প্রযোজনার জন্য দেশীয় শিল্পীরা বেকার হয়ে পড়ছেন তখনই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তারা। নেমেছেন আন্দোলনে। ততদিনে যৌথ প্রযোজনার বাইরে দাঁড়িয়ে ঘাড়ে চেপেছে আরেক বিপদ। সেটি হচ্ছে এই সাফটা চুক্তির মাধ্যমে ছবি বিনিময়। বিষয়টি নিয়ে এখনও মুখ খুলছেন না কেউ। যখন ঢালিউডে একের পর এক ছবি মুখ থুবড়ে পড়ছে, তখন সাফটা চুক্তির মতো বিষফোঁড়া দেশীয় চলচ্চিত্রকে আরও বেশি হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিগ বাজেটের পাশাপাশি স্বল্প বাজেটের ছবিগুলোর বেলায়ও একই দশা হচ্ছে। দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া কোনো ছবিই ব্যবসা করতে পারছে না। ঠিক এ অবস্থায় বাংলাদেশে দেদার আসছে কলকাতার সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো। সাফটা চুক্তির আওতায় বিনিময় চুক্তির মাধ্যমেই এসব ছবি আসছে। নিয়ম মেনেই আসছে। কিন্তু নিয়ম যখন গলায় ফাঁস হয় তখন সেই নিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর যৌক্তিকতা বিশ্লেষণের কোনো প্রয়োজন হয় না। ঠিক এ বিষয়টিই চলচ্চিত্র পরিবার তথা চলচ্চিত্র শিল্পের বোধে আসছে না। সাফটা চুক্তির বিনিময় প্রথা লাভ তো নয়ই উল্টো দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।kafon

মূলত সার্কভুক্ত দেশগুলো তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে ২০০৪ সালে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করে। এটিই সাফটা চুক্তি নামে পরিচিত। পরে ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয় সে চুক্তি। এ চুক্তির মাধ্যমেই চলচ্চিত্র বিনিময় শুরু করে বাংলাদেশ ও ভারত। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে একটি ভারতীয় ছবি আমদানির বিপরীতে একটি বাংলাদেশি ছবি ভারতে রফতানি করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালের গেজেটে ষষ্ঠ অধ্যায়ের ২৬ অনুচ্ছেদের ৪৯ (গ)-তে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নির্মিত চলচ্চিত্র রফতানির বিপরীতে সাফটাভুক্ত দেশগুলো থেকে সমানসংখ্যক চলচ্চিত্র তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সাপেক্ষে আমদানি করা যাবে। উভয় পক্ষের ব্যবসায়িক লাভের জন্যই এ সাফটা চুক্তি। কিন্তু চলচ্চিত্র বিনিময়ের বেলায় সেটা হচ্ছে কই? কলকাতার নতুন ছবির আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে যে চলচ্চিত্র পাঠানো হচ্ছে তা কি আদৌ বাইরের দেশে পাঠানোর মতো ছবি- সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়? কলকাতার নতুন ছবির বিপরীতে কেনই বা কয়েক বছরের অখাদ্য পুরনো বাংলাদেশী ছবি ভারতে পাঠানো হচ্ছে? যে ছবি থেকে বাংলাদেশের দর্শকরাই মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখা গেছে। ছবি বিনিময়ের একটা হিসাব টানলেই বোঝা যাবে সাফটা চুক্তির আওতায় কীভাবে প্রতারণা করা হচ্ছে বাংলাদেশের সঙ্গে। ২০১৬ সালে ‘রাজা ৪২০’-এর বদৌলতে বাংলাদেশে কলকাতার ‘কেলোরকীর্তি’, বাংলাদেশী ‘ছুঁয়ে দিলে মনে’র বিপরীতে কলকাতার ‘বেলাশেষে’ মুক্তি পায়। পরে বাংলাদেশের ছবি ‘সম্রাট’র বিনিময়ে এখানে মুক্তি পায় কলকাতার নতুন ছবি ‘অভিমান’। একই বছরে ১৭ মার্চ ‘রাজা বাবু’ ছবির বদৌলতে বাংলাদেশে মুক্তি দেয়া হয় কলকাতার তখনকার তাজা ছবি ‘তোমাকে চাই’ এবং ভারতের নতুন ছবি ‘হরিপদ ব্যান্ডওয়ালা’র বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাঠানো হয় দেশের বিতর্কিত ছবি ‘নগর মাস্তান’। এরপর পর্যায়ক্রমে ভারতীয় ছবি ‘বেপরোয়া’, ‘যুদ্ধশিশু’, ‘খোকাবাবু’, ‘খোকা ৪২০’, ‘ওয়ান্টেড’ মুক্তি পেয়েছে। প্রতিটি ছবির বিপরীতে যাচ্ছেতাই ছবি কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। হিসাবের গভীরে গেলে বাংলাদেশের দর্শকদের মাথা চক্কর দিয়ে উঠবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৩ সালে সাফটা চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৮টি ছবি পাঠানো হয় ভারতে। অপরদিকে ভারতের ৮টি ছবি আনা হয় বাংলাদেশে। সে সময় নানা জটিলতার কারণে বাংলাদেশ সবগুলো ছবি প্রদর্শন করতে না পারলেও বছরখানেকের ব্যবধানে ভারতীয় পাঁচটি ছবি মুক্তি দেয়া হয় দেশের হলগুলোতে। বাংলাদেশ থেকে রফতানি করা মাত্র একটি ছবি মুক্তি দেয় ভারত। পরের বছর ২০১৪-২০১৫ সালের মধ্যে ভারত থেকে আমদানি করা ‘যুদ্ধশিশু’ ৩০টি হলে, ‘খোকা’, ‘খোকা ৪২০’, ‘ওয়ান্টেড’, বেপরোয়া’ বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক হলে প্রদর্শিত হলেও এর বিপরীতে পাঠানো অন্যতম ছবি ‘মা আমার স্বর্গ’ কলকাতার শুধু ‘সোসাইটি’ নামের একটি হলে মুক্তি দেয়া হয়। জানা গেছে, এসব ছবি আমদানি-রফতানির সঙ্গে যুক্ত ছিল বাংলাদেশের খান ব্রাদার্স ও ইন উইন এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও কলকাতায় বাংলাদেশের যে ছবিগুলো যায় সেগুলো মুক্তি দেয়া হয় অজপাড়া গাঁয়ে অবস্থিত প্রেক্ষাগৃহগুলোতে।

চলচ্চিত্রের এ অস্থির সময়েও থেমে নেই সাফটা চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে বঞ্চিত করার প্রক্রিয়া। জানা গেছে, এবার বাংলাদেশের আরেক অখাদ্য ছবি ‘মাস্তানী’র বিনিময়ে ঈদে কলকাতায় মুক্তিপ্রাপ্ত দেবের ছবি ‘চ্যাম্প’ দেশে মুক্তি দেয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ‘চ্যাম্প’ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান তিতাস কথাচিত্রের কর্ণধার আবুল কালামের কথায় কিছুটা নিশ্চিতই হওয়া গেছে। তিনি জানান, চ্যাম্প মুক্তির বিষয়টি তথ্যমন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে। আগামী মাসেই ছবিটি হলে মুক্তি দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা বলেন, বাংলাদেশের বড়পর্দায় কলকাতার বাজার তৈরি করতেই এই প্রতারণামূলক ছবি বিনিময় চলছে। এতে করে বিদেশে আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। রফতানি করা ছবির বিপরীতে বাংলাদেশি ছবি ভারতে মুক্তি না পেলেও কোনো তদারকি নেই। ভারতের ভালো ছবির বিপরীতে বাংলাদেশের নিন্মমানের ছবি পাঠানো হচ্ছে যা ভারতে বাংলাদেশের সিনেমার বাজারকে আরও খারাপ করে তুলছে। এতে অন্য দেশের দর্শকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের পরিচালকরা এ রকম নিন্মমানের ছবিই নির্মাণ করেন। যৌথ প্রযোজনা ঠেকাতে দেশের শিল্পীরা হল মালিককে লাঞ্ছিত করতেও পিছপা হননি। অথচ সাফটা চুক্তির আওতায় এত বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে ভারতে এত নোংরাভাবে উপস্থাপনা করা হচ্ছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন না শিল্পীদের কোনো গ্রুপ। শুধু শাকিব খানকে ঠেকানোর আন্দোলনেই সক্রিয় দেখা যাচ্ছে তাদের। এহেন পরিস্থিতিতে সাফটা চুক্তির মাধ্যমে ছবি বিনিময়ের বিষয়টি নিয়ে কথা না বললে এটিও যৌথ প্রযোজনার মতো ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য কালসাপ হয়ে দাঁড়াবে।

‘রংবাজ’ ঈদে আসবেই; পারলে ঠেকাক: পরিচালক রনি

পরিচালক সমিতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন শাকিব খান ও বুবলী অভিনীত ‘রংবাজ’ সিনেমাটির পরিচালক শামীম আহমেদ রনি। এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “রংবাজ” ঈদে আসবেই … ইনশাআল্লাহ …. পারলে ঠেকাক। এর আগে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলেনে পরিচালক সমিতির সিদ্ধান্ত অমান্য করায় রনির সদস্যপদ বাতিল ঘোষণা করে পরিচালক সমিতি।

এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রনি লিখেন, “সুপারস্টার শাকিব খান এবং আমি নিষিদ্ধ …. হাহাহা …. ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আর কতো কি করবেন তিনি? …. নাকি নতুনদের তিনি আসতেই দিবেন না? উনি পরপর দুদিন আমার চিঠি একস্পেট করেননি ক্ষমতার অপব্যবহার করে …. আমি ছবি বানাবো, শাকিব খান ছবিতে অভিনয় করবে .. “রংবাজ” ঈদে আসবেই … ইনশাআল্লাহ …. পারলে ঠেকাক তিনি . .”

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন সাক্ষরিত প্রেস রিলিজে পরিচালক রনিকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, “সম্প্রতি অভিনেতা শাকিব খান কর্তৃক ‘দৈনিক প্রথম আলো’ পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাৎকারে পরিচালকদের হেয় প্রতিপন্ন করে উক্তি করায় শাকিব খানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্মানজনক সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আপনাকে শাকিব খান সম্পৃক্ত কোনো কাজ না করার জন্য পত্রের মাধ্যমে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু আপনি সমিতির সিদ্ধান্তকে নূন্যতম সম্মান না দেখিয়ে আপনার চলচ্চিত্র নির্মাণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। যা সমিতির নিয়মনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ”

“এমতাবস্থায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি মনে করে, রনি সমিতির গঠনতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাই কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠনতন্ত্র এর ৫ (ক) ধারা বলে শামীম আহমেদ রনির সদস্যপদ বাতিল ঘোষণা করেছে। ”

এই বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার ৭ কার্যদিবসের মধ্যে পরিচালক রনিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নিজস্ব পরিচয়পত্র এবং বিএফডিসির গেট পাস সমিতির কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পারিশ্রমিক দিয়েও বাদ দেওয়া হলো শাকিব খানকে

বদিউল আলম খোকনের ছবি থেকে বাদ পড়ছেন শাকিব খান। এটা পুরনো খবর।

নতুন খবর হলো আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে ‘রংবাজ ২’ শিরোনামের নতুন ছবি শুরু করছেন এই পরিচালক। আর সেই ছবিতে শাকিবকে পারিশ্রমিক দেওয়ার পরও বাদ দিচ্ছেন তিনি। শাকিব খানের পরিবর্তে আরিফিন শুভকে নেওয়া হচ্ছে। আর নায়িকা হিসেবে থাকছেন মাহিয়া মাহি।

‘রংবাজ ২’ ছবির শুটিং ডিসেম্বরে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে পরিচালক খোকন বর্তমানে পরিচালক সমিতির নির্বাচনের কারণে ব্যস্ত রয়েছেন। ফলে শুটিং আগামী ফেব্রুয়ারিতে পিছিয়ে নেওয়া হয়েছে। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত এবং সজল-মাহি অভিনীত ‘হারজিৎ’ ছবিটির কাজও বন্ধ রয়েছে নির্বাচনের কারণে।   জানুয়ারিতে আবার এই ছবির শুটিং শুরু হবে।

বদিউল আলম খোকন বলেন, ”শাকিব বিভিন্ন জায়গাতে বলে বেড়াচ্ছেন, বাংলাদেশে কোনো ভালো টেকনিশিয়ান নেই। তিনি আমাদের পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে অপমান করেছেন, তার কথা মতো আমরা কিছুই জানি না। তাই তাকে সাইনিং মানি দিয়েও কাজটি আমরা করছি না। এটা আমার একটি প্রতিবাদ। শাকিব খানকে নিয়ে আর কোনো ছবি নির্মাণ করব না। সে কারণে এই ছবিতে আরিফিন শুভকে নেওয়া হয়েছে। ”

তিনি বলেন, সে ভালো অভিনেতা এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই মুহূর্তে তার মতো কোনো অভিনেতা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে নেই। কিন্তু তাকে নিয়ে আমি কাজ করব না। কারণ সে নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেছে।

ঈদে শাকিব রাজত্বের বাধা কলকাতার জিৎ

আর মাস দুয়েক বাদেই ঈদ। দেশের সবচেয়ে বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে ছবি মুক্তি দেয়ার লড়াই পুরনো কাসুন্দি। কে কার আগে এ লড়াইয়ে শামিল হবেন এ নিয়ে এরইমধ্যে ফিল্মিপাড়ায় আলোচনা জমে উঠেছে।

হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন পরিচালক, প্রযোজক ও বুকিং এজেন্টরা। গেল কয়েক বছর ধরে ঈদ মানেই শাকিব খান- এমন সমীকরণ বিরাজ করছে চিত্রাঙ্গনে। মাঝে দুই ঈদে অনন্ত জলিল তার ছবি নিয়ে লড়াইয়ে শামিল হলেও গেল দুই বছর তিনি ছবিশূন্য। নতুন ছবির ঘোষণা দিয়েও নির্মাণ কাজে দেরি করছেন। ফলে শাকিব খানের জন্য মাঠ একেবারেই খালি বলা চলে।

শাকিবকে নিয়ে যেসব নির্মাতা বা প্রযোজক ছবি নির্মাণ করছেন তারা চেষ্টা করছেন নির্মাণাধীন ছবিগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করে সেন্সরে জমা দিতে। যাতে ঈদের লড়াইয়ে শামিল হতে পারেন।

জানা গেছে, এবারের ঈদে শাকিব খান অভিনীত তিনটি ছবি মুক্তির জন্য লড়াইয়ে শামিল হচ্ছে। এরমধ্যে যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘শিকারী’র ঈদ যাত্রা অনেকটা নিশ্চিত বলা চলে। শাকিব অভিনীত ‘রাজনীতি’ ও ‘পাঙ্কু জামাই’ নামে আরও দুটি ছবি ঈদে মুক্তির বাহাস করলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার রসদ ছবিগুলোর নির্মাতাদের মধ্যে নেই বলেই অনেকের ধারণা।

অন্যদিকে ঈদে মুক্তির জন্য ‘বাদশা’ নামের আরও একটি ছবির বিশেষ প্রস্তুতি চলছে। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন কলকাতার জিৎ। এ ছবিটিও যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত। যদিও শিকারী এবং বাদশা দুটি ছবিই বাংলাদেশী বিতর্কিত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজের অর্থে নির্মিত। প্রতিষ্ঠানটি একই সময় দুটি ছবির মুক্তি দিয়ে রিস্ক নিতে চাইবে কি না সেটাও প্রশ্নসাপেক্ষ।

পাশাপাশি বাপ্পি সাহা অভিনীত ‘সুলতানা বিবিয়ানা’ নামের আরও একটি ছবি ঈদে নাক গলানোর চেষ্টা করছে। সম্ভব হবে কি না সেটা স্পষ্ট না হলেও যদি শেষ পর্যন্ত ‘সুলতানা বিবিয়ানা’ লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারে তবে এবারের ঈদ শাকিবের জন্য কিছুটা দুশ্চিন্তা বয়ে নিয়ে আসতে পারে।

তবে ‘বাদশা’ যদি না আসে তাহলে ঈদে রাজত্বের ব্যাপারে নিশ্চিন্তে নাকে তেল দিয়ে এখনই ঘুমিয়ে পড়তে পারেন শাকিব খান। চলচ্চিত্রের কৌশলী রাজনীতিতে শেষ পর্যন্ত কী ঘটে সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে দর্শকদের।

মুক্তি যন্ত্রণায় শাহরুখ খানের রইস

ফাঁড়া কাটছে না শাহরুখ খানের। ঠিক ছিল, ঈদে মুক্তি পাবে রইস। কিন্তু সালমান খানের সুলতান ছবির জন্য মুক্তি পিছিয়ে করে দেওয়া হল আগামী বছর। সেখানেও ঝামেলা, ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে ঋত্বিকের নতুন ছবি কাবিল। রইস টিমও মুক্তির জন্য ওই দিনটিই বেছে নিয়েছে। তাতেই ঝামেলার আশঙ্কা বাড়ছে। কাবিলের পরিচালক রাকেশ রোশন জানিয়ে দিয়েছেন, এই বছর ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁরা ঘোষণা করেছিলেন মুক্তির তারিখ। রইস এখন সেই তারিখ নিয়ে ঝামেলা পাকালে কিছু করার নেই। যেহেতু আগে বলেছেন, তাই ওই দিনেই মুক্তি পাবে কাবলি। মার্চ মাস থেকে শুটিং শুরু হয়েছে, মে মাসে শুটিংয়ে যোগ দিয়েছেন ঋত্বিক। প্রমোশনের দিন ঠিক করে হয়ে গেছে। এখন পরিকল্পনা পাল্টানো সম্ভব নয় বলেই পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন রাকেশ। এই বছর একই দিনে মুক্তি পেয়েছিল দিলওয়ালে ও বাজিরাও মাস্তানি। বক্স অফিসে প্রথমে দিলওয়ালে এগিয়ে থাকলেও পরে বাজিরাও টপকে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কাজল, শাহরুখ আড়ালে বলেওছিলেন, দিলওয়ালেতে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। আবার ফ্যান ছবি হিসেবে সমালোচকদের নজর কাড়লেও সুপারহিট নয়। রইসও যদি বাজার ধরতে না পারে, তাহলে কিন্তু কপালে ভাঁজ পড়বে এস আর কে’র। ‌‌সমস্যা আরও বাড়িয়েছেন অজয় দেবগান। অজয়ের নতুন ছবি বাদশাহ-র মুক্তির তারিখও ঠিক করা হয়েছে ২৬ জানুয়ারি। তাঁরাও বলছেন, তারিখ বদলে ফেলা সম্ভব নয়।

যিনি ঢাকার ছবিতে ঠিক সময়ে শুটিং এ আসেন না তাকেই কলকাতায় ঘুম থেকে উঠতে হতো ভোর ছয়টায়

কলকাতা থেকে শিকারি ছবির টানা শুটিং শেষ করে ৩ মে দেশে ফিরেছেন অভিনেতা শাকিব খান। এসেই শামীম আহমেদের বসগিরি ছবির শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে এই ছবির শুটিং শুরু হয়েছে। কলকাতায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

কেমন হলো ‘শিকারি’ ছবির শুটিং?
প্রায় ৪০ দিন একটানা কাজ করেছি। তবে শুটিং এখনো শেষ হয়নি। মাঝে বসগিরি ছবির জন্য আগেই শিডিউল দেওয়া ছিল। এ কারণেই দেশে আসা। যতদূর জানি বসগিরি ঈদুল আজহায় মুক্তি দেওয়া হবে। ২২ মে পর্যন্ত টানা বসগিরি ছবির কাজ হবে। ২৩ মে শিকারি ছবির শুটিং করতে যুক্তরাজ্যে রওনা হব।
কলকাতায় শুটিং অভিজ্ঞতা নিশ্চয় ভালো?
নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। প্রতিদিন শুটিং শুরু হতো সকাল সাতটায়। এ কারণে ঘুম থেকে উঠতে হতো ভোর ছয়টায়। প্রতিটি দৃশ্য করার আগে মহড়া করতে হয়েছে। আর গানের শুটিংয়ের দুই দিন আগ থেকেই নাচের মহড়া। সবকিছুই নিয়মের মধ্যে। কাজও গোছানো। পেশাদার হলে যা হয় আর কি।
কিন্তু ঢাকার চলচ্চিত্রে এই পেশাদারত্বের অভাব কেন?
আমাদের এফডিসির নিয়মেই তো সমস্যা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল নয়টার আগে এফডিসির অফিস খোলে না। ফলে এফডিসি থেকে লাইট, ক্যামেরা বা কোনো কর্মীকে সকাল নয়টার আগে পাওয়া যাবে না। আমাদের শিল্পীদেরও দায়িত্ব আছে। কলকাতায় কাজ করতে গিয়ে দেখলাম, সেখানকার চেয়ে ঢাকার চলচ্চিত্রের মানুষের মেধা কম নয়। শুধু কারিগরি দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে আছি আমরা।
আপনার কলকাতার শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কোনো কাজে আসবে কি?
মাঝে একবার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি। সামনে প্রযোজক সমিতির নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচনের পর প্রযোজক সমিতি ও শিল্পী সমিতি মিলে একটা নিয়মে আসতে চাইছি। এরই মধ্যে বসগিরি ছবির শুটিংয়ের প্রথম দিন থেকেই নিয়মটি চালু করে দিয়েছি।

অনেকই বলছেন, ‘বসগিরি’ ছবি থেকে অপু বিশ্বাসকে আপনি বাদ দিয়েছেন।
বিষয়টি ঠিক না। এই ছবির চরিত্রের জন্য শারীরিকভাবে এখনো প্রস্তুত হতে পারেননি বলে নিজ থেকেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। এটি একজন শিল্পীর ভালো দিক। আমি আর অপু বিশ্বাস ঢাকার চলচ্চিত্রে পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় জুটি। ফলে ছবি থেকে তাঁকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। অপু চাইলে এখনো এই ছবিতে একসঙ্গে কাজ করব।